20/07/2026
গতকাল হোরা পঞ্চমী উপলক্ষে দক্ষিণ দমদম পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথ মন্দির থেকে পালকিতে মা লক্ষ্মীকে নিয়ে প্রভু জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাওয়ার উৎসব সারম্বরে পালিত হলো প্রথমবার। এই হোরা পঞ্চমী কে ঘিরে রয়েছে পৌরাণিক কথা।
পুরীর শ্রীমন্দিরে সেদিন সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বলেছিল, কিন্তু লক্ষ্মীর মনে যেন কোথাও আলো ছিল না। জগন্নাথ গিয়েছেন গুণ্ডিচা মন্দিরে—ভাই বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে। যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ফিরবেন। কিন্তু দিন যায়, রাত যায়—তিনি আর ফেরেন না।
প্রথম দিন লক্ষ্মী অপেক্ষা করলেন।
দ্বিতীয় দিনও।
তৃতীয় দিন যখন শেষ হল, তখন তাঁর মুখে আর কোনো কথা রইল না। কেবল নীরবে বসে রইলেন তিনি। যে মানুষটির জন্য অপেক্ষা, তার ওপর রাগ করা যায়; কিন্তু তার কথা না ভেবে থাকা যায় না।
পঞ্চমীর সকালে লক্ষ্মী আর থাকতে পারলেন না। সেবায়েতদের সঙ্গে তিনি গুণ্ডিচার পথে বেরিয়ে পড়লেন। বাইরে রাজকীয় আয়োজন, কিন্তু তাঁর অন্তরে তখন একটিমাত্র অভিমান—
“আমাকে না বলেই, না নিয়েই এত দূরে চলে গেলে?”
গুণ্ডিচায় পৌঁছে জগন্নাথের সঙ্গে তাঁর দেখা হল না। তাঁর হাতে এল কেবল একটি আজ্ঞামালা—ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি। লক্ষ্মী কিছুক্ষণ সেই মালাটির দিকে চেয়ে রইলেন। এতদিনের অপেক্ষা কি একটি মালায় মুছে যায়?
তারপর ধীরে ধীরে চোখ তুললেন জগন্নাথের রথের দিকে। জ্বলে উঠলো তাঁর চোখ।
এই রথেই তিনি চলে গিয়েছিলেন। এই রথই প্রাণেশ্বরকে তাঁর কাছ থেকে দূরে নিয়ে গিয়েছিল।
অভিমানে লক্ষ্মী রথের একটি অংশ ভেঙে দিলেন।
কেউ হয়তো বলল, দেবী রুষ্ট হয়েছেন।
কিন্তু সে রাগে ঘৃণা ছিল না। ছিল সেই গভীর অভিমান, যা কেবল আপনজনের ওপরই করা যায়।
শেষে লক্ষ্মী গোপন পথে শ্রীমন্দিরে ফিরে গেলেন।
জগন্নাথ তখনও গুণ্ডিচায়। কিন্তু তিনি জানতেন, ফিরে গেলে তাঁকে সেই অভিমানী বউটার সামনে দাঁড়াতে হবে। আর লক্ষ্মীও জানতেন—তিনি ফিরবেন। তাকে ফিরতেই হবে তাঁর কাছে।
এই জানাটুকুই বোধ হয় ভালোবাসার সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।
আজ সেই হোরা পঞ্চমীর কাহিনী তাই দেবদেবীর গল্প হয়েও বড় মানবিক। এখানে জগন্নাথ কেবল ঈশ্বর নন—তিনি ঘর ছেড়ে যাওয়া এক স্বামী। আর লক্ষ্মী কেবল দেবী নন—তিনি অপেক্ষায় থাকা এক স্ত্রী।
তাঁর রাগ, তাঁর অভিমান, তাঁর অপেক্ষা—সবকিছুর অন্তরেই ছিল সেই একটিমাত্র কথা—
“তুমি ফিরবে তো?”