AIDSO West Bengal

AIDSO West Bengal Official page Of AlDSO, West Bengal State Committee

Our WhatsApp Community
ছাত্র আন্দোলনের খবর link
https://chat.whatsapp.com/H8s7w8Ecus1BtFKMUlV6aJ

তোমার ক্যাম্পাসে তুমিই রিপোর্টার। তোমার সাথে, তোমার পাশে 24x7তোমার স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির সমস্যা জানাও আমাদেরকে 📞 7003...
07/08/2026

তোমার ক্যাম্পাসে তুমিই রিপোর্টার।
তোমার সাথে, তোমার পাশে 24x7
তোমার স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির সমস্যা জানাও আমাদেরকে
📞 7003546572 / 7477306868



"....যে-দেশে প্রধানত ধর্মের মিলেই মানুষকে মেলায়, অন্য কোনো বাঁধনে তাকে বাঁধতে পারে না, সে-দেশ হতভাগ্য। সে-দেশ স্বয়ং ধর্ম...
07/08/2026

"....যে-দেশে প্রধানত ধর্মের মিলেই মানুষকে মেলায়, অন্য কোনো বাঁধনে তাকে বাঁধতে পারে না, সে-দেশ হতভাগ্য। সে-দেশ স্বয়ং ধর্মকে দিয়ে যে-বিভেদ সৃষ্টি করে সেইটে সকলের চেয়ে সর্বনেশে বিভেদ। মানুষ বলেই মানুষের যে মূল্য সেইটেকেই সহজ প্রীতির সঙ্গে স্বীকার করাই প্রকৃত ধর্মবুদ্ধি। যে-দেশে ধর্মই সেই বুদ্ধিকে পীড়িত করে রাষ্ট্রিক স্বার্থবুদ্ধি কি সে-দেশকে বাঁচাতে পারে।
.. যতদিন আমাদের মধ্যে ধর্মবোধ সহজ ছিল ততদিন গোঁড়ামি থাকা সত্ত্বেও কোনো হাঙ্গাম বাধে নি কিন্তু, এক সময়ে যে কারণেই হোক, ধর্মের অভিমান যখন উগ্র হয়ে উঠল তখন থেকে সম্প্রদায়ের কাঁটার বেড়া পরস্পরকে ঠেকাতে ও খোঁচাতে শুরু করলে। আমরাও মসজিদের সামনে দিয়ে প্রতিমা নিয়ে যাবার সময় কিছু অতিরিক্ত জিদের সঙ্গে ঢাকে কাঠি দিলুম, অপর পক্ষেও কোর্‌বানির উৎসাহ পূর্বের চেয়ে কোমর বেঁধে বাড়িয়ে তুললে, সেটা আপন আপন ধর্মের দাবি মেটাবার খাতির নিয়ে নয়, পরস্পরের ধর্মের অভিমানকে আঘাত দেবার স্পর্ধা নিয়ে।
..নানা উপলক্ষ্যে এবং বিনা উপলক্ষ্যে সর্বদা আমাদের পরস্পরের সঙ্গ ও সাক্ষাৎ-আলাপ চাই। যদি আমরা পাশাপাশি চলি, কাছাকাছি আসি, তা হলেই দেখতে পাব, মানুষ ব'লেই মানুষকে আপন ব'লে মনে করা সহজ। যাদের সঙ্গে মেলামেশা নেই তাদের সম্বন্ধেই মত প্রভৃতির অনৈক্য অত্যন্ত কড়া হয়ে ওঠে, বড়ো হয়ে দেখা দেয়। যখনই পরস্পর কাছাকাছি আনাগোনার চর্চা হতে থাকে তখনই মত পিছিয়ে পড়ে, মানুষ সামনে এগিয়ে আসে। শান্তিনিকেতনে মাঝে মাঝে মুসলমান ছাত্র ও শিক্ষক এসেছেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনো প্রভেদ অনুভব করি নি, এবং সখ্য ও স্নেহসম্বন্ধ-স্থাপনে লেশমাত্র বাধা ঘটে নি। যে-সকল গ্রামের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের সম্বন্ধ তার মধ্যে মুসলমান গ্রাম আছে। যখন কলকাতায় হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা দূত-সহযোগে কলকাতার বাইরে ছড়িয়ে চলেছে, তখন বোলপুর-অঞ্চলে মিথ্যা জনরব রাষ্ট্র করা হয়েছিল যে, হিন্দুরা মসজিদ ভেঙে দেবার সংকল্প করছে। এই সঙ্গে কলকাতা থেকে গুণ্ডার আমদানিও হয়েছিল। কিন্তু, স্থানীয় মুসলমানদের শান্ত রাখতে আমাদের কোনো কষ্ট পেতে হয় নি, কেননা তারা নিশ্চিত জানত আমরা তাদের অকৃত্রিম বন্ধু। ...আমার অধিকাংশ প্রজাই মুসলমান। কোর্‌বানি নিয়ে দেশে যখন একটা উত্তেজনা প্রবল তখন হিন্দু প্রজারা আমাদের এলাকায় সেটা সম্পূর্ণ রহিত করবার জন্য আমার কাছে নালিশ করেছিল। সে নালিশ আমি সংগত বলে মনে করি নি, কিন্তু মুসলমান প্রজাদের ডেকে যখন বলে দিলুম কাজটা যেন এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে হিন্দুদের মনে অকারণে আঘাত না লাগে তারা তখনই তা মেনে নিল। আমাদের সেখানে এ-পর্যন্ত কোনো উপদ্রব ঘটে নি। আমার বিশ্বাস তার প্রধান কারণ, আমার সঙ্গে আমার মুসলমান প্রজার সম্বন্ধ সহজ ও বাধাহীন।...এ কথা আশা করাই চলে না যে, আমাদের দেশের ভিন্ন ভিন্ন সমাজের মধ্যে ধর্মকর্মের মতবিশ্বাসের ভেদ একেবারেই ঘুচতে পারে। তবুও মনুষ্যত্বের খাতিরে আশা করতেই হবে, আমাদের মধ্যে মিল হবে। পরস্পরকে দূরে না রাখলেই সে-মিল আপনিই সহজ হতে পারবে। সঙ্গের দিক থেকে আজকাল হিন্দু-মুসলমান পৃথক হয়ে গিয়ে সাম্প্রদায়িক অনৈক্যকে বাড়িয়ে তুলেছে, মনুষ্যত্বের মিলটাকে দিয়েছে চাপা। আমি হিন্দুর তরফ থেকেই বলছি, মুসলমানের ত্রুটিবিচারটা থাক্‌-- আমরা মুসলমানকে কাছে টানতে যদি না পেরে থাকি তবে সেজন্যে যেন লজ্জা স্বীকার করি। অল্পবয়সে যখন প্রথম জমিদারি সেরেস্তা দেখতে গিয়েছিলুম তখন দেখলুম, আমাদের ব্রাহ্মণ ম্যানেজার যে-তক্তপোষে গদিতে বসে দরবার করেন সেখানে এক ধারে জাজিম তোলা, সেই জায়গাটা মুসলমান প্রজাদের বসবার জন্যে; আর জাজিমের উপর বসে হিন্দু প্রজারা। এইটে দেখে আমার ধিক্কার জন্মেছিল। অথচ এই ম্যানেজার আধুনিক দেশাত্মবোধী দলের। ইংরেজরাজের দরবারে ভারতীয়ের অসম্মান নিয়ে কটুভাষা-ব্যবহার তিনি উপভোগ করে থাকেন, তবু স্বদেশীয়কে ভদ্রোচিত সম্মান দেবার বেলা এত কৃপণ। এই কৃপণতা সমাজে ও কর্মক্ষেত্রে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবেশ করেছে; অবশেষে এমন হয়েছে যেখানে হিন্দু সেখানে মুসলমানের দ্বার সংকীর্ণ, যেখানে মুসলমান সেখানে হিন্দুর বাধা বিস্তর। এই আন্তরিক বিচ্ছেদ যতদিন থাকবে ততদিন স্বার্থের ভেদ ঘুচবে না এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক পক্ষের কল্যাণভার অপর পক্ষের হাতে দিতে সংকোচ অনিবার্য হয়ে উঠবে।
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "হিন্দু ও মুসলমান" প্রবন্ধের নির্বাচিত অংশ)

দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন।।
06/08/2026

দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন।।

রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে গবেষণা ক্ষেত্রে প্রবেশিকা পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকার বিরুদ্ধে এআইডিএসও পশ্চিমবঙ্গ...
05/08/2026

রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে গবেষণা ক্ষেত্রে প্রবেশিকা পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকার বিরুদ্ধে এআইডিএসও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন -

রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ ইস্টিটিউটগুলোতে গবেষণা সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী বহু ছাত্র-ছাত্রী যারা বিভিন্নভাবে গবেষণায় প্রবেশ করতো তা আর সম্ভব নয়। পরিবর্তে কেবলমাত্র একটি পথেই গবেষণার ক্ষেত্রে আসতে পারবে।

এতদিন পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীরা স্নাতকোত্তরের গণ্ডি পেরিয়ে PAT (Ph.D Admission Test) বা RET (Research Entrance Test) বা NET, SET এর মাধ্যমে গবেষণা ক্ষেত্রে প্রবেশ করতো। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসরণ করে গবেষণায় প্রবেশের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা তুলে দিয়ে কেবলমাত্র জাতীয় স্তরের পরীক্ষা অর্থাৎ NET বা তার সমতুল্য জাতীয় স্তরের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করলো।

আমরা মনে করি,এর দ্বারা নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর চরম আঘাত নামিয়ে আনা হলো --

প্রথমত - বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর যে স্বাধিকার ছিল, যার দ্বারা প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্রক্রিয়ায় গবেষণার জন্য এন্ট্রান্স পরীক্ষা নিতে পারতো তা এই আইন অনুসারে বাতিল করা হলো যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের ওপর চূড়ান্ত আঘাত করা হলো।

দ্বিতীয়ত- যে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার মাধ্যমে এই NET (UGC NET ও CSIR NET) পরীক্ষার নেওয়া হত, সেই সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানান অভিযোগ অতীতে উঠেছে। প্রশ্ন ফাঁস, আর্থিক দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগ এই NTA সংস্থার বিরুদ্ধে আছে। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই একই সংস্থার মাধ্যমে দেশজুড়ে এই পরীক্ষাগুলো নেওয়ার অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার আসলে এই দুর্নীতিগুলোকে আড়াল করতে চায়, সমাধান চায়না। কেন্দ্রীয় সরকার কোচিং সেন্টারগুলিকে মুনাফা লাভের আরো সুযোগ করে দিতে চায় । আমরা এই NTAকে বাতিলের দাবিতে দেশ জুড়ে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে তুলছি।

তৃতীয়ত- দেশের সংবিধান অনুসারে শিক্ষা হলো যৌথ তালিকা অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্র এবং রাজ্যের ভারসাম্যের মধ্যেই শিক্ষাব্যবস্থা চলবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি কেন্দ্রের সরকার একের পর এক শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় কেন্দ্রের কুক্ষিগত করতে চাইছে। শিক্ষার কেন্দ্রীকরনের এই ষড়যন্ত্রের আমরা তীব্র ধিক্কার জানাই। এই নির্দেশিকা বাতিলের দাবিতে সর্বস্তরের ছাত্র ছাত্রী,গবেষকদের সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানাই "

সংবাদদাতা
সুমন দাস
অফিস সম্পাদক
০৪/৮/২৬

"পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির ঐতিহাসিক আবির্ভাবের পর থেকে ভবিষ্যতের আদর্শ হিসাবে সমস্ত উৎপাদনযন্ত্রের উপর সামাজিক দখল প্রতিষ...
05/08/2026

"পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির ঐতিহাসিক আবির্ভাবের পর থেকে ভবিষ্যতের আদর্শ হিসাবে সমস্ত উৎপাদনযন্ত্রের উপর সামাজিক দখল প্রতিষ্ঠার কথা কম-বেশি ভাসাভাসাভাবে বহু ব্যক্তি, বহু গোষ্ঠীর মানুষ ভেবেছেন। কিন্তু তা একমাত্র তখনই সম্ভব, একমাত্র তখনই তা একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজন হয়ে উঠতে পারে যখন তার বাস্তবায়নের উপযুক্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। অন্য প্রতিটি সামাজিক অগ্রগতির মতই তা সম্ভব হতে পারে এজন্য নয় যে, মানুষ উপলব্ধি করেছে শ্রেণীর অস্তিত্ব ন্যায় ও সমানাধিকারের পরিপন্থী; একারণেও নয় যে, মানুষ চায় এইসব শ্রেণীর অবলুপ্তি ঘটুক, তা একমাত্র সম্ভব সুনির্দিষ্ট কতকগুলো নতুন অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য। আগেকার দিনে শোষক ও শোষিত শ্রেণীতে, শাসক ও নিপীড়িত শ্রেণীতে সমাজের বিভাগ ঘটেছিল সেই সময়কার উৎপাদনের অপরিণত ও সীমাবদ্ধ বিকাশের ফল হিসাবেই। সকলের বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম যতটুকু প্রয়োজন, সমগ্র সামাজিক শ্রমের দ্বারা যতদিন তার চেয়ে অতি সামান্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত উৎপাদিত হচ্ছে, এর ফলে যতদিন সমাজের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মানুষকে শুধু বেঁচে থাকার রসদ সংগ্রহ করতেই উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে; ততদিন এই সমাজ অনিবার্যভাবেই শ্রেণীতে শ্রেণীতে বিভক্ত থেকে যায়। শ্রমের দাসত্বে পুরোপুরি বাঁধা এমন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের পাশাপাশি সেখানে আবির্ভাব ঘটে এমন এক শ্রেণীর, যারা সরাসরি উৎপাদনের কাজে নিযুক্ত নয়; তারা দেখাশোনা করে সমাজের সাধারণ বিষয়গুলি শ্রমের পরিচালনা, রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম, আইন, বিজ্ঞান, শিল্প ইত্যাদি। ফলে সমাজে শ্রেণী বিভাগের মূলে রয়েছে এই শ্রম বিভাগের নিয়ম। ...
..আমরা বর্তমানে ঠিক এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছি। বুর্জোয়াদের রাজনৈতিক ও চিন্তাগত দেউলিয়াপনা স্বয়ং বুর্জোয়াদের কাছেও আর বিশেষ গোপন নেই। তাদের অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা প্রতি দশ বছর অন্তর নিয়ম করে ফিরে ফিরে আসছে। তাদের নিজেদেরই উৎপাদনযন্ত্র ও উৎপাদিত দ্রব্য যাকে তারা কাজে লাগাতে পারছে না, তার ভারে প্রতিটি সংকটকালে সমাজের নাভিশ্বাস উঠছে, সমাজ অসহায়ের মত এমন একটা বিচিত্র দ্বন্দ্বের সম্মুখীন যেখানে উৎপাদকদের কেনার কোনও ক্ষমতা নেই, কারণ তাদের উৎপাদিত দ্রব্যের কোনও ক্রেতা বাজারে নেই। পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি উৎপাদনযন্ত্রকে যে শৃঙ্খলে বেঁধে রেখেছিল, উৎপাদনযন্ত্রের ব্যাপক সম্প্রসারিত শক্তি তাকে ছিন্ন করে ফেলছে।...
..উৎপাদনযন্ত্রের দখল সমাজ নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে পণ্য উৎপাদনের অবসান ঘটে; একই সাথে অবসান ঘটে উৎপাদকের উপর উৎপাদিত দ্রব্যের কর্তৃত্বও। সামাজিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে নৈরাজ্যের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় উৎপাদনের সুশৃঙ্খল, সুনির্দিষ্ট সংগঠন। ব্যক্তির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম বিলুপ্ত হয়ে যায়। তখনই প্রথম বারের জন্য আসে সেই সময় যখন একটা বিশেষ অর্থে মানুষ অবশিষ্ট প্রাণীজগত থেকে নিজেকে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন করে, নেহাতই পশুর মতো জীবন কাটানোর অবস্থা থেকে তার উন্নয়ন ঘটে যথার্থই মানুষের মত বেঁচে থাকার মতো পরিস্থিতিতে। জীবনধারণের যে সামগ্রিক পরিমণ্ডলের মধ্যে মানুষ এতদিন জীবন কাটিয়ে এসেছে এবং যে অবস্থাটা এযাবতকাল মানুষের উপর কর্তৃত্ব করেছে, সেই সমস্ত ক্ষেত্রই এখন চলে আসে মানুষের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণে; এই প্রথম মানুষ প্রকৃতির সত্যিকারের সচেতন প্রভু হয়ে ওঠে, কারণ আজ সে পরিণত হয়েছে তার নিজস্ব সামাজিক সংগঠনের মালিকে। মানুষের নিজস্ব সামাজিক ক্রিয়া এতদিন যে নিয়মের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যা একটা বাইরের প্রাকৃতিক নিয়মের মতোই তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এযাবৎ তার উপর কর্তৃত্ব করেছে; এবার মানুষ তাকে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করে কাজে লাগাবে এবং স্বভাবতই, তার উপর সে-ই কর্তৃত্ব করবে। মানুষের নিজস্ব যে সামাজিক সংগঠন এতদিন প্রকৃতি ও ইতিহাসের দ্বারা আরোপিত এক আবশ্যিকতারূপে তার বিরুদ্ধে কাজ করে এসেছে, আজ তা হয়ে দাঁড়িয়েছে তারই স্বাধীন ক্রিয়ার ফল। মনুষ্যনিরপেক্ষ বাইরের যে শক্তি এতদিন ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রণ করত, তা মানুষের নিজের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। শুধু এই সময় থেকেই মানুষ ক্রমে আরো বেশি সচেতনভাবে নিজেই নিজের ইতিহাস রচনা করবে; শুধু এই সময় থেকেই মানুষ যে সামাজিক ভিত্তিগুলি গড়ে তুলেছে, তা প্রধানত এবং ক্রমাগত আরো বেশি পরিমাণে তার কাঙ্খিত ফল দিতে থাকবে। প্রয়োজনের রাজত্ব থেকে স্বাধীনতার রাজত্বে মানুষের উত্তরণ ঘটবে।"

(কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রবন্ধের নির্বাচিত অংশ)

১৯৭৪ সালে কলকাতায় ছাত্র সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি আহুত এক সভায় স্বাধীনতা আন্দোলনের আপসহীন ধারার বিপ্লবী, বিশিষ্ট মা...
05/08/2026

১৯৭৪ সালে কলকাতায় ছাত্র সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি আহুত এক সভায় স্বাধীনতা আন্দোলনের আপসহীন ধারার বিপ্লবী, বিশিষ্ট মার্কসবাদী দার্শনিক কমরেড শিবদাস ঘোষ বলেছিলেন, ‘সমাজের মধ্যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবার শক্তি ব্যক্তি হিসাবে যদি আমার মধ্যে না থাকে, তাহলে আমি মানুষ নামেরই যোগ্য নই। অন্তত এইটুকু নৈতিক মান তো মানুষের মধ্যে আগে গড়ে উঠবে, তারপরে তো তার ন্যায়-অন্যায় বিচারের ক্ষমতার প্রশ্ন। কারণ কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায় এ ঠিকমতো বিচার করতে পারা একটা জটিল বিষয়, জ্ঞানের বিষয়, শিক্ষার বিষয়। কিন্তু আমি যেটাকে অন্যায় বলে মনে করি, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবার সাহস যদি আমার না থাকে এই ভয়ে যে, পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যাবে, বা আমার চাকরিটা চলে যাবে, অথবা আমি নিজে যদি একটা অন্যায় করি এবং সেটা করতে আমার এতটুকু বিবেকে না লাগে, তাহলে তো আমি মানুষই নই।’

সেই একই বছরের ১২ জানুয়ারী, কটকে সর্বভারতীয় ছাত্র সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘লড়াই একটা প্রয়োজনীয় কথা, সংগঠনও একটা প্রয়োজনীয় কথা। এ দুটো বাদ দিয়ে শেষপর্যন্ত কিছুই হবে না। কিন্তু তার আগে আর একটা বড় কথা আছে। সে কথা হচ্ছে, আদর্শ ঠিক করা, নীতি ঠিক করা, লড়াইয়ের রাস্তা ঠিক করা, লড়াইয়ের উদ্দেশ্য ঠিক করা — সমাজজীবনে, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক জীবনে মূল রোগ কী, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা।’

প্রকাশ্য সমাবেশে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আদর্শের কথা যদি ঠিকও হয়, বড়ও হয়, সত্যও হয়, রাস্তাও যদি ঠিক বাতলাতে পারি, তবুও নৈতিক বল এবং উন্নত সাংস্কৃতিক মান ছাড়া সেই রাস্তায় এগোবার শক্তি কোনও মানুষ অর্জন করতে পারে না। একটা বড় আদর্শ, উন্নত আদর্শ এবং সমস্যা সমাধানের সঠিক রাস্তাও যদি কতকগুলো নৈতিক অধঃপতিত মানুষের হাতে পড়ে, তবে তার দ্বারা দেশের মঙ্গল হতে পারে না, আন্দোলনও সফল হতে পারে না। বরং ক্ষতি হয়। ...আমি যে কথাটা বলতে চাইছি তা হচ্ছে, শুনতে, বলতে আদর্শ যত ভালই মনে হোক, সেই আদর্শের আসল মর্মবস্তু নিহিত থাকে তার সাংস্কৃতিক-নৈতিক মানের উপর। এইখানেই তার অগ্নিপরীক্ষা।’ দেশব্যাপী চলমান উত্তাল ছাত্র আন্দোলনে আমাদের শিক্ষক কমরেড শিবদাস ঘোষের অমূল্য এই শিক্ষা আগামী চলার পথে আলোকবর্তিকা।

কমরেড শিবদাস ঘোষ বলছেন...৫ আগস্ট আমাদের শিক্ষক কমরেড শিবদাস ঘোষ স্মরণ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য।
04/08/2026

কমরেড শিবদাস ঘোষ বলছেন...
৫ আগস্ট আমাদের শিক্ষক কমরেড শিবদাস ঘোষ স্মরণ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য।

অবিভক্ত ভারতবর্ষের চট্রগ্রাম ছিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী সেনানি তৈরীর সূতিকাগার। স্বা...
04/08/2026

অবিভক্ত ভারতবর্ষের চট্রগ্রাম ছিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী সেনানি তৈরীর সূতিকাগার। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দমনে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনেরাল পদে টি জে ক্রেগকে বসায় ব্রিটিশ শাসক৷ স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের উপর অত্যাচারের জন্য ক্রেগ তখন সুবিদিত৷ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপর এই অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাস্টারদা৷ ১৯৩০ সালের ১ ডিসেম্বর, চাঁদপুর স্টেশনে ট্রেনে করে আসবেন ক্রেগ৷ এই সুযোগেই আঘাত হানার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করলেন মাস্টারদা ও তাঁর দল৷ দায়িত্ব পড়ে দুই তরুণ বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস ও কালিপদ চক্রবর্তীর উপর। চাঁদপুর স্টেশনে পরিকল্পনামত দুই তরুণ বিপ্লবী পৌঁছে যান ক্রেগ হত্যার উদ্দেশ্যে। সংকল্প করলেন, অত্যাচারী ক্রেগকে হত্যা করতেই হবে ৷

১ ডিসেম্বর চাঁদপুর স্টেশনে অপেক্ষা করতে লাগলেন রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য ও কালীপদ চক্রবর্তী। একসময় ট্রেন এসে থামল স্টেশনে৷ দুই যুবক রুদ্ধশ্বাস গতিতে ছুটলেন ট্রেনের দিকে৷ কিন্তু, খাঁকি উর্দি আর গায়ের ওভারকোট পরিহিত রেলের ইন্সপেক্টর তারিণী মুখোপাধ্যায়কে ক্রেগ ভেবে গুলি করেন তাঁরা৷ গুলিতে মৃত্যু হয় রেলের ওই ইন্সপেক্টরের। এরপর পালাতে গিয়ে মেহেরকালি স্টেশনে দুই বিপ্লবী ধরা পড়েন। কালিপদ চক্রবর্তীকে পাঠানো হয় আন্দামানে সেলুলার জেলে। আর রামকৃষ্ণ বিশ্বাসকে পাঠানো হয় কলকাতার আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে৷

কলকাতায় এসে ছেলের সঙ্গে সাক্ষাতের আর্থিক সম্বল ছিল না রামকৃষ্ণের পরিবারের৷ সেই সময় কলকাতায় পড়াশোনা করছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার৷ হিজলির জেল থেকে প্রীতিলতাকে চিঠি লিখলেন আর এক বিপ্লবী মনোরঞ্জন রায়৷ চিঠিটি প্রীতিলতার কাছে পৌঁছে দেন মনোরঞ্জনের মা৷ রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টার জন্য চিঠিতে প্রীতিলতাকে অনুরোধ করেন মনোরঞ্জন রায়।

আলিপুর জেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখলেন প্রীতিলতা৷ সেখানে নিজের পরিচয় দিলেন রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ‘কাজ়িন’ হিসেবে৷ নাম বললেন অমিতা দাস৷ রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের জেল জীবনে তাঁর সাথে প্রায় ৪০ বার দেখা করেছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে জেলে সাক্ষাৎ নিয়ে পরবর্তীতে প্রীতিলতা লেখেন, “তাঁর (রামকৃষ্ণ বিশ্বাস) গাম্ভীর্যপূর্ণ চাউনি, খোলামেলা কথাবার্তা, নিঃশঙ্ক চিত্তে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা, ঈশ্বরের প্রতি অচলা ভক্তি, শিশুসুলভ সারল্য, দরদি মন এবং প্রগাঢ় উপলব্দিবোধ আমার উপর গভীর রেখাপাত করল। আগের তুলনায় আমি দশগুণ বেশি কর্মতৎপর হয়ে উঠলাম। আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত এই স্বদেশপ্রেমী যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ আমার জীবনের পরিপূর্ণতাকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছিল।”

ছেলেকে দেখতে একবার আলিপুর জেলে এসেছিলেন নয়নতারা দেবী৷ তাঁকে রামকৃষ্ণের কাছে নিয়ে যান প্রীতিলতা৷ সেদিন ছেলেকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নয়নতারা দেবী৷ চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি প্রীতিলতাও৷ কয়েক মাসের শুনানির পর ফাঁসির সাজা হল রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের৷ দিন ঠিক হল ১৯৩১ সালের ৪ আগস্ট ৷ ততদিনে জেলের কুঠুরিতে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়েন রামকৃষ্ণ৷ অসুস্থ অবস্থাতেই তাঁর ফাঁসির আদেশ কার্যকর করে ব্রিটিশ শাসক৷ রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসি প্রীতিলতার জীবনে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাঁর কথায়, “রামকৃষ্ণদার ফাঁসির পর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত হবার আকাঙ্ক্ষা আমার অনেক বেড়ে গেল।”

বিপ্লবীরা স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখায়...
বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের শহীদ দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য।।

স্বাধীনতা আন্দোলনের আপসহীন ধারার বিপ্লবী ও বিশিষ্ট মার্কসবাদী দার্শনিক কমরেড শিবদাস ঘোষের কিছু মূল্যবান উদ্ধৃতি।
04/08/2026

স্বাধীনতা আন্দোলনের আপসহীন ধারার বিপ্লবী ও বিশিষ্ট মার্কসবাদী দার্শনিক কমরেড শিবদাস ঘোষের কিছু মূল্যবান উদ্ধৃতি।

স্বাধীনতা আন্দোলনের আপসহীন ধারার বিপ্লবী ও বিশিষ্ট মার্কসবাদী দার্শনিক কমরেড শিবদাস ঘোষের কিছু মূল্যবান উদ্ধৃতি।        ...
03/08/2026

স্বাধীনতা আন্দোলনের আপসহীন ধারার বিপ্লবী ও বিশিষ্ট মার্কসবাদী দার্শনিক কমরেড শিবদাস ঘোষের কিছু মূল্যবান উদ্ধৃতি।

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AIDSO West Bengal posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to AIDSO West Bengal:

Shortcuts

Share