31/07/2026
১৯৪৯র এপ্রিল মাসে, বিহারের মজঃফরপুরে মৃত্যুঞ্জয়ী ক্ষুদিরাম বসুর মর্মরমূর্তিতে মাল্যদান করতে প্রধানমন্ত্রী নেহরু অস্বীকার করলে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। প্রখ্যাত দৈনিক এবং কংগ্রেস সমর্থক রূপে পরিচিত ' দৈনিক যুগান্তর '-র সমালোচনার ভাষা ছিল আনন্দবাজারের ( দু নৌকায় পা দিয়ে চলা নীতি ) চেয়েও কড়া। গোপীনাথ সাহার উদাহরণের পাশে নেহরুকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় ১৯৪৫এ আইনেএ-র রেড ফোর্ট ট্রায়ালে তাঁর কালো গাউন পরে নাটকের। প্রশ্ন তোলা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্রের নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজ কোন নন-ভায়োলেন্স ট্যাবলেট খেয়েছিল ?
সেই সময়ে, পরবর্তী ৫০-৬০র দশকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবমাননা হলে রাজপথে বোমা পড়তো। কলকাতা ও রাজ্যের অন্যত্র ক্ষোভে উত্তাল হতো; অসমের বাঙ্গালী গণহত্যার বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে যেভাবে আসাম-গামী ট্রেন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সেইরকম ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হতো। ....করতো ১৮র প্রজন্ম..পথ চলতে যে বয়স যায় না থেমে। তখন দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিক্রি করা হতো না । দেশপ্রেম থাকতো আপন পিঞ্জরে। হিন্দি ছায়াছবি ' জাগৃতি ' র বিখ্যাত গান - ' আও বাচ্চো তুমে দিখায়ে ' তে বাংলা সম্পর্কে লিখেছেন কবি ও গায়ক শ্রী প্রদীপ - ' ইয়ে দেখো বঙ্গাল ইঁহাকা হর চপ্পা হরিয়ালা হে/ইঁহাকা বচ্চা বচ্চা অপনে দেশমে মরনেবালা হ্যায়/ঢালা হ্যায় ইসকো বিজলি নে ভূচালো নে পালা হ্যায়/মুঠ্ঠি মে তুফান বনা হ্যায় অউর প্রাণ মে জ্বালা হ্যায়/জন্মভূমি হে ইয়েহি হমারে বীর সুভাষ মহান কি/ইস মিট্টি সে তিলক করো ধরতি হ্যায় বলিদান কি/বন্দেমাতরম/বন্দেমাতরম ' ।.... শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হয়েছে বাঙ্গালীর প্রতি, এ রাজ্যের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-প্রতিশোধের সংস্কৃতির প্রতি । ....তখনো বাঙ্গালীর জীবনে গ্রন্থাগার ও ব্যায়ামাগার, আখড়া মুখ্য, ' বঙ্গীয় ব্যায়াম সমিতি ' তে চলছে যুযুৎসু, তলোয়ার, ছোরা প্রশিক্ষণ - গড়পড়তা মাদারী কা খেল নয়। শাস্ত্র ও শস্ত্রের প্রভাব রয়েছে, নিছক আসক্তি নয়। ..
প্রতিবাদে-প্রতিরোধে-প্রতিশোধে, নেতাজির অবমাননায় জ্বলে ওঠার শক্তি কিঞ্চিৎ রয়েছে এখনোও - যদিও পূর্বের তুলনায় নয় কিছু। কিন্তু প্রতিবাদ হয়েও হয় না কারণ পূর্বে একটি বোমা পড়লে তার সমর্থনে হাজার লোকের ভিড় থাকতো পথে । হাজার লোকের ব্যারিকেড ভেঙে বোমা ছুঁড়নেওয়ালাকে পাকড়াও করা অসাধ্য। আজ সেখানে মেরে-কেটে দশ জন মাত্র। ....অবাঙ্গালীদের প্রগাঢ় শ্রদ্ধা রয়েছে বাঙ্গালীর প্রতি, তবে সেযুগের বাঙ্গালী - এযুগের বাঙ্গালী নয় । নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি, কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল সহ অন্যান্যদের ক্রুর নির্লিপ্ততায় নেতাজি সুভাষচন্দ্রের যে অবমাননা হচ্ছে তার কল্পনাও করতে পারবে না আজ খায়র বক্স ভারী, ঘৌষ বিজেনজৌর মতো প্রয়াত বালোচ নেতাদের বা আফগান আহমাদ শাহ মাসুদের (লায়ন অফ পঞ্জশির) ক্ষেত্রে। কোন গ্রেনেড কখন কে, কোথায় ছুঁড়ে দেয়, কোন ফায়ারিং হয় বলা যায় না। পলিটিক্যাল পাওয়ার গ্রোস আউট অফ দ্য ব্যারেল অফ গান । বাঙ্গালী তারুণ্য এখন ঝালহীন খাবারে অভ্যস্ত, কালীপটকাও ফাটাতে পারে না।
বাঙ্গালী নিজে ডোবার সাথে নেতাজি সুভাষচন্দ্রকেও ডুবিয়ে দিল - এই কৃতঘ্নতার ন্যায় ভয়ানক পাপের প্রতিকার কোন মন্ত্রে নেই । অরাজকতা, অনাচার, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, রাষ্ট্রপতন সেই পাপের এক এক চিহ্ন মাত্র, যা প্রত্যেক ব্যক্তি জীবনকেও গ্রাস করে।....