27/03/2020
*করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে সমস্ত ভোকেশনাল সমাজের কাছে দুটি আবেদন।*
১👉 মুখ্যমন্ত্রী করোনা ত্রান তহবিল গঠন করেছেন। যদিও, আমরা ভোকেশনাল শিক্ষার সাথে জড়িত শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরা সুস্থ জীবন ধারণ করার মতো বেতন পাই না। তবু যা সম্ভব তাই দান করুন। গোটা জাতি আজ বিপদের মুখে তাই আমাদের এই দান জাতির সেবায় বড় অবদান রাখবে।
মনে রাখবেন - সেতুবন্ধনে কাঠবিড়ালির অবদান রাম অস্বীকার করতে পারেন নি। কুরুক্ষেত্রের পুতিগন্ধ ঢেকে দিয়েছিল বিদূরের খুদের সৌরভ।
২👉 আমার দ্বিতীয় এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ আবেদন - সবাই এখন বাধ্যতামূলক অবসরে আছেন- শুধু আমরা নই আছে গোটা দেশ- সত্যি কথা বলতে কি সারা পৃথিবী। ধরুন এ অবস্থাটা চালু থাকবে আরো কিছু মাস- তারপর আমরা সামনে এসে দাঁড়াবো মহামন্দার- " স্প্যানিশ ফ্লু" মহামারির পর যেমন সংকট পৃথিবীকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বযুদ্ধের ময়দানে। নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু ও খাদ্য সরবরাহ ভীষণ ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা আসছে। আপনি গোপনে দু বস্তা চাল জমিয়ে এই বিপদের মোকাবিলা করতে পারবেন না। আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। জনসাধারণের প্রয়োজনীয় জিনিস সস্তায় কিভাবে তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়। এভাবেই ভোকেশনাল শিক্ষার প্রকৃত সামাজিক মূল্য সবার সামনে তুলে ধরা যাবে।
ধরুন যতদিন কাঁচামাল জোগাড় করা গেছে হ্যান্ড সানিটাইজার cost to cost তৈরি করে দিয়েছি। উপযুক্ত কাপড় পেলে সপ্তাহে 1 লক্ষ পর্যন্ত মাস্ক তৈরি করে দেওয়া যেত।
শুধু আমাদের ছাত্র ছাত্রী নয় দরকার হলে আরো একটু সামাজিক স্তর গুলোকে নিয়ে সাবান , শ্যাম্পু থেকে শুরু করে অনেক কিছুই তৈরি করার ব্যবস্থা করা যায়। আর যারা কৃষি বিদ্যায় আছেন তাদের দ্রুত কিছু খাদ্য উৎপাদন সংক্রান্ত চিন্তা করা উচিৎ- যেমন ধরুন আমরা গ্রামীন বা শহরে সব এলাকায় মাশরুম উৎপাদনের কথা ভাবতে পারি- যার কোনো জটিল কৌশল দরকার নেই- বিস্তর খরচ বহুল ব্যবস্থাপনা লাগবে না কিন্তু পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।
আমি একটা প্রাথমিক রূপরেখা বলছি - আপনারাও ভাবুন - ভোকেশনাল শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিন।
অরূপ কুমার গুহ
সভাপতি
ভোকেশনাল এডুকেশন ফোরাম