26/10/2025
সময় এসেছে— তৃণমূলের অযোগ্য নেতা-নেত্রীদের ছুড়ে ফেলে যোগ্য, স্পষ্টভাষী নেতাদের বিধানসভায় পাঠানোর: হাসিবুল ইসলাম
২৬ অক্টোবর ২০২৫, মুর্শিদাবাদ: ওয়াকফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহার, SIR বাতিল, ওবিসি সংরক্ষণ হরণ বন্ধ, দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর নির্যাতন রোধ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ একাধিক দাবিতে আজ মুসলিম লীগের ডাকে বেলডাঙ্গার বড়ুয়া যুবক সংঘের ময়দানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম লীগের সর্বভারতীয় সম্পাদক ও এম.পি. কোয়া। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন এসডিপিআই-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, আজাদ সমাজ পার্টির রাজ্য ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহাম্মেদ মোল্লা, এআইএমআইএম-এর কান্দি চেয়ারম্যান মেজবাহুল ইসলাম খান, দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আব্দুল করিম মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আসিব সেখ ও ওয়েলফেয়ার পার্টি-সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসডিপিআই-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন— “যে রাজ্যে মানুষ মারা না গেলে চাকরি মেলে না, স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়েছে, শিক্ষার মেরুদণ্ড ধ্বংসপ্রাপ্ত, নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েও নারী সমাজ নিরাপত্তা পায় না— সেই রাজ্যে একের পর এক মন্দির নির্মাণ করা আসলে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অনুকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।”
তিনি মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানার নাম উল্লেখ করে বলেন— “কতটা অপদার্থ ও অযোগ্য নেত্রী হলে বলা যায়, নদীভাঙন প্রতিরোধ আল্লাহ ছাড়া কেউ করতে পারবে না! এই বক্তব্য প্রমাণ করে তৃণমূল নেতাদের অদক্ষতা ও জনগণের প্রতি দায়হীনতা।”
হাসিবুল ইসলাম আরও বলেন— “শুধু নদীভাঙন নয়, ইংরেজরা যদি মুর্শিদাবাদে রেললাইন তৈরি না করত, তাহলে আজকের এই ব্রাহ্মণ্যবাদী সরকার কখনও রেললাইন দিত না। স্বাধীনতার পর এত বছর কেটে গেলেও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় মুর্শিদাবাদে গড়ে ওঠেনি। একসময়ের রাজধানী আজ শ্রমজীবী মানুষের জেলায় পরিণত হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের অযোগ্য নেতা-নেত্রীদের ক্ষমতায় বসিয়ে দুর্নীতি, অবহেলা, বঞ্চনা ও সংখ্যালঘু, খ্রিষ্টান, দলিত, আদিবাসী সম্প্রদায়কে পিছিয়ে রাখার রাজনীতি চালানো হচ্ছে।
তিনি হুংকার দিয়ে বলেন— “আজ সময় এসেছে— হাকিকুল ইসলাম, ইমতিয়াজ মোল্লা, সারোয়ার হোসেনের মতো সৎ ও স্পষ্টভাষী নেতাদের বিধায়ক বানিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর। তৃণমূলের অযোগ্য, অপদার্থ নেতা-নেত্রীদের ছুড়ে ফেলে SDPI, WPI, IUML, Azad Samaj Party-র প্রত্যেকটি দলের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে।”
সভা থেকে হাসিবুল ইসলাম জনগণকে আন্দোলনমুখী হতে আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিভাবে এসডিপিআই রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গড়াইমারী হাসপাতাল সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে— যা দলীয় নেতৃত্বের জনমুখী কাজের এক বাস্তব উদাহরণ।