06/08/2026
১লা আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে "বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ"।
'বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ' অথবা 'বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ' একটি বার্ষিক উদ্যাপন যা প্রতি বছর পৃথিবীর ১২০টিরও বেশি দেশে ১ থেকে ৭ আগস্ট পালন করা হয়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় উৎসাহ দিতে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে এই কর্মসূচি।
ডব্লিউবিডব্লিউ ওয়েবসাইটের ২৬ আগস্ট, ২০১০ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের 'বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ' উপলক্ষ্যে ৭৯টি দেশের ৪৮৮টি সংস্থা এবং ৪০৬,৬২০ জন অংশগ্রহণকারী বিশ্বব্যাপী ৫৪০টি কর্মসূচির আয়োজন করে। এখানে উল্লেখ্য যে ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ) "বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ" পালন করেছিল এবং বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তি, সংস্থা ও সরকার দ্বারা ১২০টিরও বেশি দেশে এটি পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সর্বত্র স্তন্যদানের জন্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়েছিল।
'বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ' প্রকৃতপক্ষে মায়েরা যাতে সচেতন হয়ে শিশুদের ঠিকমতো স্তন্যপান করান সেজন্য উৎসাহ প্রদান করা এই সপ্তাহের অন্যতম গুরুত্ব। মাতৃদুগ্ধ শিশুদের পক্ষে কত উপকারী, সে বিষয়ে সঠিক বিজ্ঞানসম্মত ধারণা প্রতিটি মায়ের থাকা ভালো। বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। প্রসঙ্গতঃ মাতৃদুগ্ধের উপকারিতার বিষয় এখানে উল্লেখ করা হলো।
বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের কিছু তীব্র দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। যেসব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় তাদের হাঁপানি, স্থূলতা, টাইপ ১ ডায়াবেটিস এবং হঠাৎ শিশু মৃত্যু সিন্ড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের পেটের রোগ বা কানের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। শিশুটি মায়ের দুধের মাধ্যমে মায়ের কাছ থেকে অ্যান্টিবডি গ্রহণ করে। এই অ্যান্টিবডিগুলি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিকাশে সহায়তা করে এবং রোগ থেকে তাদের রক্ষা করে। আবার বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েরও ডিম্বাশয়, স্তন এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে, পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপও কমে এবং মায়েদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সার এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা কম থাকে। তাই বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ প্রচারণায় মহিলাদের তাদের শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য শিক্ষিত এবং সহায়তা করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
২০২৬ সালের 'বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ'-এর প্রতিপাদ্য হলো---
"মূল লক্ষ্য ও বিষয়সমূহ টেকসই সূচনা : জীবনের শুরুতে শিশুর সঠিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা"।
তথ্যসূত্র সৌজন্যে:: বাংলা উইকিপিডিয়া।
ছবি অন্তর্জাল প্রাপ্ত।। সুজয় ঘোষ।।