15/05/2026
২০১১-র পরিবর্তন জমানায় বাঁকুড়া জেলার প্রথম শহিদ হন খেতমজুর কমরেড অজিত লোহার। অপরাধ তাঁর কমিউনিস্ট পার্টি করা।
একজন রাজনীতি সচেতন, সমাজসেবী, পরোপকারী, এলাকায় ভীষণ জনপ্রিয়। সাংগঠনিক দক্ষতা অসাধারণ। তাই খেতমজুর পরিবার থেকে এসে হতে পেরেছিলেন তখনকার সময়ের সিপিআইএমের শালতোড়া আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক।
১৩ ই মে, পরবর্তনের জমানায় প্রথম খুন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার শালবনীর শিক্ষক জিতেন লোহার। দুদিন পর পাশের জেলা বাঁকুড়ার কমরেড অজিত।
একজন শিক্ষক অন্যজন খেতমজুর। না না, তাঁদের সোনা বাঁধানো বাড়ি কিংবা টুকটুকে গাড়ি অথবা বাড়ির ভেতর সুইমিংপুল থাকেনি। শিক্ষকের জীবিকা নির্বাহের কথা বলতে হয় না। কিন্তু অজিতের পুরো পরিবারের পেট ভরতো লোকের জমিতে গতর খাটিয়ে। অজিত রাতে ফিরে দিন আনা দিন চলা পরিবারে ভাগ বসিয়ে দুটো খেত। দিনের খাবার দিত তার পার্টি।
পার্টির পুরো নামটা হল : ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)। আইপ্যাকের প্যাকপ্যাকানি লাগত না। জলে মাছ যেমন থাকে অজিতদের মতো সৈনিকেরা সেরকমই থাকত। মানুষের সুখ দুঃখের কথা, অভাব অভিযোগ উঠে আসত ওপর পর্যন্ত।
ওই যে দুদিন আগে ডোমকল থেকে নির্বাচিত বিধায়ককে দেখলেন না মাথায় বা গলায় গামছা আর ধুলো ভরতি পা নিয়ে বিমান বসুর কাছে হাজির হওয়া ছবিটা। কমরেড অজিত সেরকমই একজন। সকাল থেকে গ্রাম চষে বেড়িয়ে চলা লোকের দুপুরে পেটে অন্ন মানুষই জুটিয়ে দিত।
এভাবেই কমরেড বিনয় চৌধুরী, অশ্বিনী রাজ, জলেশ্বর হাঁসদারা গড়ে তোলেন সংগঠন। মানুষের কথা পার্টিতে বলা, পার্টির কথা মানুষকে জানানো এরকমই চলত। এদের সততা নিয়ে আঙুল তুলতে হয়নি কাউকে। পিছনে চোর চোর শ্লোগানও হয়নি কোনওদিন। মানুষই এদের আয়না মানুষই এদের বডি গার্ড। তবেই তো ৩৪ বছর ছিল। উন্নয়ন একের পর এক সর্বত্র যা হয়েছে বলতে লাগে না।
২০১১ র পালা বদলে ১৫ মে, ঘিরে ফেলা হল অজিতকে। জমির আল ধরে ছুটলেও পিছু ধাওয়া করল তৃণমূলি জল্লাদ বাহিনী। ছুটতে ছুটতে সাপকে আধমরা করে, করার পর মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে গণ পিটুনি। পুলিশ থাকল চুপ করে। কিছুই করল না। কারণ ক্ষমতায় বসতে চলেছেন গতকালকের হাইকোর্টে যাওয়া মহিলা। তাঁর সর্বগ্রাসী ক্ষুধার আস্বাদনের সূচনা এভাবেই।
বলা হয়েছিল জনরোষ। এখন তো অনেক ভালো আছেন তাঁরা। ভালো থাকুন, বেঁচে থাকুন। সব দেখে যান এটাই কামনা করব। বলব চেয়ারটা কেউ কেড়ে নেয়নি, ঠেলেও ফেলেনি। মানুষই চেয়েছে। তার অভিমত দেবার সুযোগ পেতেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তা ব্যক্ত করেছে।
অযথা গালাগাল না করে নিজেকে নিজেদের সংশোধন করে নেওয়াই শ্রেয়।
সময় ১৫-১৬ টা বছর অতিক্রান্ত। কার কী যায় আসে? যার যায় তারই তো যায়? গরিবের প্রাণ যায়। সাহেব অথবা ম্যামরা হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টে যায়। গরিবেরই সর্বস্ব যায়।
অজিতের পার্টিটা তো গরিবের পার্টি। ওই গরিবরাই নিজ স্বার্থে পার্টিটাকে দাঁড় করায়। অনেক সন্ত্রাস পেরিয়ে অনেক রক্ত ঝরিয়ে অনেক প্রাণের বিনিময়ে শক্ত করেছিল যে পার্টিকে, সেই সংগ্রামী পার্টি আবার সংগ্রাম চালিয়েই ফিরে দাঁড়াবে। অবশ্যই দাঁড়াবে আমি দৃঢ় প্রত্যয়ী।
আর স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদিদের পরিণতি যা হওয়ার তাই হবে। হতে বাধ্য। কতদিন টেকানো যাবে ভবিষ্যতই বলবে। হিটলার মুসলিনির উদাহরণ তো জানা সকলের।
কমরেড অজিত লোহার লালসেলাম। কমরেড অজিত লোহার অমর রহে।
কলমে : আশিস পান্ডে