14/12/2025
ঘটনা ১ - হায়দরাবাদ ইভেন্টে যখন লোকাল ফুটবলারদের হাতে মেসি ট্রফি তুলে দিচ্ছিলেন, তখন পাশ থেকে একজন প্রেজেন্টার রাহুল গান্ধীকে সামনের সারিতে এগিয়ে আসতে বলেন, যাতে বেশ ভাল একটা গ্রুপ ফটো তোলা যায়। রাহুল সঙ্গে সঙ্গে হাত বাড়িয়ে আগে বাকি ফুটবলারদের এগিয়ে আসতে বলেন। কারণ, ট্রফিটা তাদেরই প্রাপ্য। ভোটভাগ্য না থাকলেও এটুকু সভ্যতা-ভদ্রতা রয়েছে 'পাপ্পু'-র মধ্যে!
ঘটনা ২ - তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী আজ প্রায় সর্বক্ষণ মেসির সঙ্গে ছিলেন। মেসির পাশাপাশি হেঁটেছেন, ওয়ান-টাচ ফুটবল খেলেছেন, ফটোসেশন করেছেন। কিন্তু প্রত্যেক মুহূর্তে মেসির থেকে অন্তত দু-তিন হাত দূরত্ব বজায় রেখেছেন তিনি! একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও সেই ঔদ্ধত্যটা তার মধ্যে ছিল না যে মেসির সঙ্গে যা খুশি তাই করা যেতে পারে!
ঘটনা ৩ - একটা ভিডিওতে দেখলাম, গলায় আইডি কার্ড ঝোলানো এবং টুপি পরিহিত একজন ব্যক্তি (সম্ভবত ম্যানেজমেন্ট টিমেরই কেউ) দূর থেকে হাতজোর করেই মেসিকে অভিবাদন জানাচ্ছেন। তার ধারেকাছে কেউ নেই, চাইলেই হ্যান্ডশেক করে আসতে পারতেন, কিন্তু তিনিও সভ্যতা-ভদ্রতা-শিক্ষার পরিচয়টুকুই দিলেন।
আর কলকাতায়? সন্তোষ ট্রফিজয়ী বাংলা দলকে ইভেন্টে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ মুহূর্তে ক্যানসেল করে দেওয়া হয়! রাজ্যের মন্ত্রী মেসির কোমরে হাত দিয়ে এমনভাবে ছবি তোলেন যেন তারা কত বছরের বন্ধু! র্যান্ডম অজ্ঞাতপরিচয় কোনও এক কেউকেটা রডরিগো ডি পলের হাত ধরে টেনে সেলফি তোলার চেষ্টা করে! ছ্যাঃ!
মেসি আজ বেশ কয়েকটা ভলি মেরেছেন হায়দরাবাদ স্টেডিয়ামের গ্যালারির উদ্দেশে। মেসির পায়ে ছোঁয়া বল উপহার পেয়েছেন কিছু ভাগ্যবান দর্শক! সল্টলেক স্টেডিয়ামেও এমনটা হতে পারত! কিন্তু এই রাজ্যের মানুষ আসলে মেসির বল ডিজার্ভই করে না! আমাদের রাজ্যবাসীর জন্য ঐ 'খেলা হবে' মঞ্চ থেকে ছোঁড়া বলই ঠিক আছে!
থ্যাংক ইউ হায়দরাবাদ। থ্যাংক ইউ ফর নট হিউমিলিয়েটিং আস এগেইন! ❤️