06/09/2020
• EP/01. All My Bengali Stories 2020 •
• স্বরচিত বাংলা গল্প : প্রতীক্ষা।
• লেখক : আয়ুষ্মান বিশ্বাস (গিরগিটি)।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
[বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে সকলের জন্য লেখা, প্লিজ সময় হলে একটু পড়বেন]
:
• সোমনাথ : কাছে অায়।
* দূর্গা : কেন?
• সোমনাথ : তোর বাম গালে কষে একটা থাপ্পড় মারব।
* দূর্গা : কি বললি? মারবি। আমি করলামটা কি?(Gasp Emoticon)
• সোমনাথ : কতবার তোকে খুঁজে গেলাম এখানে। কোথায় ছিলি এতক্ষণ? আচ্ছা আমাকে তুই ভাবিসটা কি?
* দূর্গা : এত খোঁজারই বা আছেটা কি? অামি কি
ছোটমানুষ, যে হারিয়ে যাবো?
• সোমনাথ : খুব পেকেছিস। এতক্ষণ তোর ফোনটা অফ ছিলো কেন?
* দূর্গা : ফোন অফ, চার্জ নেই।
• সোমনাথ : কেয়ারলেস একটা। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে তোকে রেসলারদের মত উপরে তুলে ছুঁড়ে মারি নীচে।
* দূর্গা : হা হা হা। তো মারবি নাকি এখন?
• সোমনাথ : একদম ফাজলামি করবি না। সহ্য হয় না অামার।
* দূর্গা : তোর এত রাগ কেন বলতো?
• সোমনাথ : জানি না। এবার চল তোকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে অাসি। দুদিনও হয়নি তোর জ্বরটা ভাল হয়েছে। অার ঘোরাঘুরি করতে হবে না। সিক হয়ে পড়বি।
:
(সোমনাথ অার দুর্গা দুজনেই খুব ভাল বন্ধু। সেই ছেলেবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। স্কুল লাইফটা দুজনের দুজায়গায় কাটলেও পারিবারিক সূত্রে ওদের প্রায়ই দেখা হত। দুজনেরই বাবা ছোটবেলার বন্ধু। তাই দুজনেই এখন একই মহল্লায় অাছে। যত যাইহোক সোমনাথ কিন্তু দুর্গার অনেক কেয়ার করে। শুধু তাইই নয়, মাঝে মাঝে অন্য কারোর সাথে দুর্গার মেলামেশাও সহ্য করতে পারে না। তখনি ধমক শুরু হয়ে যায় সোমনাথের)
:
* বিরক্ত হয়ে তখন দুর্গা বলে : এতো জ্বালাস কেন অামাকে?
• সোমনাথ : কই জ্বালাই?
* দুর্গা : জ্বালাস না? একটু নিজের মত কলেজ ক্যাম্পাসে চলতে পারিনা। সব কিছুতে তুই নাক গলাস। মেজাজটা বড্ড খারাপ লাগে।
• সোমনাথ : অাচ্ছা শোন! অামি কি একটু বেশি বেশি করি? ঠিক অাছে Sorry দুর্গা। (Smile Emoticon) এবার একটু হাস প্লিজ। (এটা বলা মাত্রই দুর্গা ফিক করে হেসে ফেলল)
:
(দুর্গার ইদানিং ক্লাস মিস যায়। কারন ওর প্রায়ই জ্বর জ্বর থাকে। অনেক টেস্ট করানো হলো। তেমন কিছু ডাক্তার বলতে পারেননি। এর মাঝে কিছু দিন দুর্গার শরীর ভাল ছিল তখন ক্লাস করেছে ঠিক মত। কিন্তু কিছু দিন যেতেই অাবার সিক। সোমনাথ কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে।কোন কিছুরই ঠিক নেই। রাগটাও হয়ত একটু বেড়ে গেছে। সোমনাথের বাড়িতে সেদিন অালোচনা চলছিল। শুনলো দুর্গার কি জানি একটা ক্যান্সার হয়েছে। তবে সেটা জটিল, হয়ত দুর্গার কখনো বিয়েই হবে না বাইরের কেউ জানলে। তাই সবাই একটু চেপে চেপে রোগের নামটা বলে। ওই দিন সারারাত সোমনাথ ঘুমাতে পারেনি। তাই খুব সকালে দুর্গার বাড়ি গিয়ে হাজির হল। ওদের বাড়িতে গিয়ে সোমনাথ জানতে পারে দুর্গা হাসপাতালে। অাজ ওর প্রথম কেমোথেরাপি। আজ পা টা কেমন জানি অচল হয়ে যাচ্ছে সোমনাথের। অনেক কস্ট করে মনটাকে শক্ত করে সোমনাথ হাসপাতালে পৌছালো। কয়েক ঘন্টা পরে সোমনাথ দুর্গার মুখটা দেখতে পেলো।কি সুন্দর করে ঘুমাচ্ছে, ঠিক ছোট কোন অাদুরে মেয়ে। ডেকে কথা বলতে ইচ্ছে করছে সোমনাথের। অপলক মুখটার দিকে তাকিয়ে অাছে। ইচ্ছে করছে দুর্গাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সব অসুখের কাছ থেকে অাড়ালে নিয়ে যেতে। কিন্তু চোখ দুটো ছল ছল করে উঠলো। কিছুই বলতে পারলো না। অাজ সোমনাথ বাসায় যাবেনা ঠিক করেছে। যে যাই বলুক অাজ সে হাসপাতালেই থাকবে। যা ভাবা তাই কাজ। সারা রাত জেগে কাটিয়েছে সোমনাথ। কখনো কখনো রুমে উঁকি মেরে দেখেছে দুর্গার মুখটা। ডাক্তার ও দুর্গার পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দুর্গাকে দেশের বাইরে পাঠাবে চিকিৎসার জন্য। বয়সটা যেহেতু একটু কম দুর্গার, সে ক্ষেত্রে ভাল চিকিৎসা পেলে সুস্থ হবার সম্ভাবনা বেশি। এবার সোমনাথ জানতে পারল দুর্গার ওভারিয়ান ক্যান্সার। দুর্গাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাবার সব কিছুই রেডী। হাসপাতালে সবার মাঝখানে থেকে দুর্গার সাথে তেমন কথা বলতে পারেনি সোমনাথ। শুধু দূর থেকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত। দুর্গা যখনই সোমনাথের চোখে চোখ পড়ত তখন মুখটা অন্যদিকে সরিয়ে নিত। সেদিন দুর্গার পাশে গিয়ে বসলো সোমনাথ। দুর্গা হাসপাতালের খাটে একটু হেলান দিয়ে বসা)
:
• সোমনাথ : দুর্গা!
* দুর্গা : কিছু বলবি? (কথাটা শেষ না হতেই সোমনাথ দূর্গাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে
দিলো)
* দূর্গা : (কান্না কান্না কন্ঠে) কি হলো রে, কাঁদছিস কেন?
• সোমনাথ : অামাকে ছেড়ে যাবি না বল।
* দূর্গা : কোথায় যাবো রে! অার চাইলেই কি সবাই থাকতে পারে?
• সোমনাথ : প্লিজ তোর পায়ে পড়ি, অামাকে
ছেড়ে কোথাও যাসনে। (বলেই হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলো)
* দূর্গা : (দূর্গা শক্ত করে সোমনাথকে জড়িয়ে ধরলো) যদি মরে যাই। অামার অসুখটাতো ছাড়বে না অামাকে। একটু লুকিয়ে রাখনা অামাকে কত দিন খোলা অাকাশ, রিক্সা, রাস্তার পাশের ফুচকা...। কলেজ ক্যাম্পাসে যাইনা, তোকে খুব মিস করি। অার তোর যত বকাঝকা। ওটাও মিস করি। জানিস, প্রথম কেমো যখন নেই কস্টে তখন বেঁচে থাকার অাশাটাও অনেক কমে যায়। অামি তো আর বাঁচবো না।
• সোমনাথ : ভুল কথা। তুই বাঁচবি। আমার জন্যে বাঁচবি। পৃথিবীতে এখনো অনেকে এমন অাছে যারা তোর মত ক্যান্সার নিয়ে বেঁচে অাছে। একটু মনের জোর রাখিস। অামি অাছি সবসময় তোর পাশে।তুই সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে অায়। তোকে নিয়ে অামি অনেক দূরে চলে যাবো, অনেক দূর....
* দুর্গা : ভালবাসিস অামাকে।
• সোমনাথ : (কান্না কন্ঠে) না বাসিনা। তুই ভালবাসবি অামাকে? আমায় তোর নিজের করে নিবি।
* দুর্গা : (এবার দুহাত দিয়ে দুর্গা সোমনাথকে
ছাড়িয়ে নিলো। বলল) তুই কি জানিস অার কয়েকটা কেমো নিলেই অামার সব চুল পড়ে যাবে। অামাকে দেখতে কুৎসিত পেত্নীর মতো লাগবে। পারবি তারপরেও ভালোবাসতে?
• সোমনাথ : লাগুক সব চুল ঝড়ে যাক। অামি
সেদিনও তোকে আজকের মতো ভালবাসবো।
* দুর্গা : এতটা ভালোবাসিস আমাকে। (বলে দুজনেই গলা জড়িয়ে অঝোরে বিজয়ার কান্না কাঁদতে থাকে)
:
(দুজনের কেউই বা আমরা জানিনা, ভবিষ্যৎ কী লেখা আছে। তবে বিজয়া শেষে দুর্গা যেন আবার সুস্থ শরীর নিয়ে দেশে ফিরে আসে। সোমনাথ আর দুর্গার জীবন পূর্ণতা পাবে। ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা নিয়ে বিজয়া দশমীতে আজকের লেখা শেষ করছি)
:::::
[আর এই সাথে আমার গল্পটি শেষ হলো। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তী গল্পগুলি পড়তে আপনার প্রতিক্রিয়া সহ মূল্যবান মতামত জানিয়ে অপেক্ষা করুন।
:
আশা রাখি আপনাদের ভালো লাগবে। বিশেষ অনুরোধ : আমার গল্পগুলি দয়া করে পড়বেন। লাইক শেয়ার করবেন। মতামত জানাবেন। লক আউট না হয়ে লক ডাউন মেনে ঘরে থাকুন। নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচান। প্রকৃতির কোলে আমাদেরকে একটু সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিন]
___________________________________________
• বাংলা রোমান্টিক গল্পগুচ্ছ ২০২০ •
• কলমে #আয়ুষ্মান_বিশ্বাস (গিরগিটি)।
@ Ayusman Biswas (Girgiti).
• ১৯/০৪/২০২০ (রবিবার)।
• Now Facebook Following & Like us :
https://www.facebook.com/AuthorAyusmanBiswas
• ℗ 2020, GOLPER FERIOALA - গল্পের ফেরিওয়ালা।
• © & ® সাহিত্য সংলাপ প্রকাশনী।
• পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
___________________________________________
* বিঃ দ্রঃ • রচনার বছর : ২০১৫।
• কলমে : আয়ুষ্মান বিশ্বাস।
• প্রথম প্রকাশ : ২০১৬।
• প্রকাশ সূত্র : স্বনির্বাচিত বাংলা গল্পগুচ্ছ।
___________________________________________