09/07/2026
একটি মৃত্যু শুধু একজন মানুষের জীবন শেষ করে না, কখনও কখনও একটি পুরো পরিবারের স্বপ্ন, ভরসা আর ভবিষ্যৎকেও নিঃস্ব করে দেয়।
পোড়াগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের পোড়াগাছা কলোনি পাড়ার বাসিন্দা মরণ দাস ছিলেন একজন সাধারণ রিকশাচালক। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত রিকশার প্যাডেলে নিজের ঘাম আর পরিশ্রম ঢেলে যে সামান্য আয় করতেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলত তাঁর ছোট্ট সংসার। বিলাসিতা ছিল না, ছিল শুধু দু'মুঠো ভাত জোগাড়ের নিরন্তর সংগ্রাম।
কিন্তু ভাগ্য যেন তাঁর পরিবারের প্রতি একটুও দয়া দেখাল না। হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মরণ দাস চিরদিনের মতো চোখ বন্ধ করেন। এক নিমিষে ভেঙে পড়ে পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। সংসারের চাকা থেমে যায়, আর অসহায় হয়ে পড়ে তাঁর প্রিয়জনেরা।
স্বামীর মৃত্যুর সেই গভীর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তাঁর স্ত্রী। এরই মধ্যে তিনিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। যেন একের পর এক আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় পরিবারটির বেঁচে থাকার শেষ শক্তিটুকুও।
এই অসহায় পরিবারের খবর পৌঁছায় নদীয়া বন্ধু ফাউন্ডেশন-এর কাছে। কোনো প্রচারের জন্য নয়, শুধুমাত্র মানবতার টানে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে যান। সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, খোঁজখবর নেন, আর ভেঙে পড়া পরিবারটিকে আশ্বস্ত করেন—"আপনারা একা নন, আমরা আছি।"
মানবতার আসল পরিচয় বড় বড় কথায় নয়, অসহায় মানুষের চোখের জল মুছে দেওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
আসুন, আমরা সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াই। কারণ, আমাদের সামান্য সহযোগিতাই হয়তো একটি ভেঙে পড়া পরিবারকে আবার নতুন করে বাঁচার সাহস এনে দিতে পারে।
মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস কখনও যেন হারিয়ে না যায়।