04/05/2026
মনে পড়ে মাননীয়া? ২০১১ সালের ১৩ই মে। আজ থেকে ঠিক পনেরো বছর আগের এমনই এক মে মাসের বিকেল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে রাজভবন থেকে বেরিয়ে এলেন। সিড়ির হাতলটা ধরে ধীরপায়ে নেমে এলেন শেষবারের মতো।
সেদিন বুদ্ধবাবুর সাথেই এ রাজ্য থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল এ রাজ্যের হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের নিজের রাজ্যে কাজের সুযোগ, সরকারী স্কুলে পড়াশোনার সুস্থ পরিবেশ, সিঙ্গুরের কারখানা, অনুসারী শিল্প, কল্যাণী আইটি হাবের স্বপ্ন, সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসার পরিকাঠামো, আরো কতো কী! তারপরের ১৫ বছর শুধুই বঞ্চনার ইতিহাস। আপনার তৈরী করা সিন্ডিকেট, সিভিক গুন্ডারাজ, কাটমানি কালচার, তোষণ আর মানুষকে ভাতাখোর, পরজীবি বানিয়ে ভোটব্যাঙ্ক বানানোর ইতিহাস মনে পড়ে মাননীয়া?
পরপর দুটো প্রজন্মের কোমর ভেঙে দিয়ে সেই ভাঙা কোমরের উপর আপনার খেলা আর মেলার নাটক চালিয়ে গেছেন আপনি নির্লজ্জের মতো, বছরের পর বছর। আপনার গোটা জীবনের সবটকু অর্জন মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে। আপনার বলা প্রতিটা কথা মিথ্যা। আপনার পাপের উচ্চতা সীমাহীন। কিছু ভাঁড় আর পা-চাটা তাঁবেদার নিয়ে গোটা রাজ্যকে নরক গুলজার বানিয়েছেন আপনি গত পনেরোটা বছরে। মনেপ্রাণে আপনার দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করেছি এতদিন, শুধু যেন আপনি নিজের চোখে আজকের দিনটা দেখে যেতে পারেন সেই আশায়। আজ থেকে প্রার্থনা করবো আপনার বাকি জীবনটুকু যেন জেলের অন্ধকারে কাটে। যে অন্ধকার আপনি আমাদের প্রজন্মকে উপহার দিয়েছিলেন, সেই অন্ধকার ফিরুক এবার আপনার জীবনে। রিটার্ন গিফট হয়ে। বুমেরাং হয়ে।
কী অদ্ভুত সমাপতন দেখুন মাননীয়া! আবার সেই অভিশপ্ত মে মাস। এই মে মাসেই আপনাকেও রাজভবন যেতে হবে। ইস্তফা জমা করতে হবে রাজ্যপালের টেবিলে। নেমে আসতে হবে রাজভবনের সেই সিড়িটা দিয়েই। ঠিক বুদ্ধবাবুর মতোই। তফাৎ শুধু একটাই থেকে যাবে, বুদ্ধবাবুকে মানুষ এখনও শ্রদ্ধা করে, আর আপনাকে......উত্তরটা আপনি জানেন মাননীয়া।
দীর্ঘ অপেক্ষার এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো আজ। আজ প্রতিশোধ সম্পূর্ণ হলো। বিদায় মাননীয়া। বিদায়।
★বিজেপিকে ধন্যবাদ। আমরা, বামেরা যা পারি নি, তা আপনারা করেছেন। আগামী দিনগুলো ভালো হোক। বাংলা, বাঙালীর ভালো হোক। আপনাদের সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধ থাকবে, তবে আজ শুধুই শুভেচ্ছা রইল।