অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ

  • Home
  • India
  • Medinipur
  • অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ

অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য  ও সংস্কৃতি  সংসদ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ, Landmark & historical place, Medinipur.

16/06/2026

মেদিনীপুর জেলার মুসলমান পটুয়া সমাজ ও পটচিত্র উদ্ভাবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য৷
---- ওয়াহেদ মির্জা

সংস্কৃত ভাষার " পট্ট বা পট বলতে মূলত কাপড় বুঝায় ৷ বাংলায় পট বলতে বোঝায় এমন একটি ক‍্যানভাস যার উপর ছবি বা অলঙ্করণ আঁকা হয়৷শিল্পীরা (পটচিত্র অঙ্কন)
সাধারণত পটুয়া নামে পরিচিত; কিন্তু তাঁরা আরও সম্মানজনক একটি নামে চিত্রকর পরিচিত৷ যার আক্ষরিক অর্থ হলো ছবি -নির্মাতা৷ এটি লক্ষণীয় যে ,এই শব্দটি একটি পদবি এবং একটি জাতিগত উপাধি হিসেবেও গৃহীত হয়েছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে নারীরা পট্ট শিল্পী হিসেবে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে এসেছেন৷পট বা কাপড়ের উপর ধারাবাহিক চিত্র এঁকে লাঠির সহিত জড়িয়ে রেখে তা'ই ঘুরিয়ে একে একে ছবি গুলি দেখিয়ে পটুয়ারা ছড়া ও গানের ভেতর দিয়ে কাহিনী বিবৃত করে৷ পরবর্তীকালে কাগজ আবিস্কৃত হলে তাতে ছবি আঁকা চালূ হয়৷কিন্তু পূর্বের পট নামটি অপরিবর্তিত থেকে যায়৷প্রাচীনকালে পট ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। পটশিল্পীরা ছিলেন একাধারে লেখক, চিত্রকর ও গায়ক। তখন পট তাদের কাছে কোন বিক্রয়যোগ্য পণ্য ছিল না।
বর্তমানে পটচিত্র শুধু কাপড়ে সীমাবদ্ধ নেই; মাটির সরা, শাড়ি, পাঞ্জাবি, শাল ও ট্রে, কোস্টার, মগ, কেটলির মতো গৃহস্থালীর জিনিসপত্রে ছবি আঁকছেন৷ এখন পটচিত্র আন্তর্জাতিক বাজারে খ‍্যাত৷

এই পটচিত্রের ঐতিহ্য শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় এসেছে কিভাবে তা আলোচনা করা যাক ৷ আমরা জানি আমাদের ভারতবর্ষের আদি জনজাতি হল সাঁওতাল ,কোল ,মুন্ডা ,হো ইত্যাদি৷ শিক্ষিত সমাজ জনজাতির সংস্কৃতিকে "লোক" তকমা দিয়ে সীমাবদ্ধ রেখেছে৷ যাইহোক এই পটচিত্র
সাঁওতাল, হো, মুন্ডা, জুয়াং এবং খেরিয়াদের মতো উপজাতিদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল, যারা তাদের প্রথম পূর্বপুরুষ পিলচু হারাম ও পিলচু বুড়ির জন্ম, তাদের সাত পুত্র ও সাত কন্যার জন্ম এবং কীভাবে এই সাত ভাইয়ের তাদের বোনদের সাথে বিবাহ হয়েছিল, তা চিত্রিত করে 'পটচিত্র' আঁকত।সাঁওতাল সৃষ্টিতত্ত্ব বা পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী পিলচু হাড়াম ও পিলচু বুড়ি হলেন সমগ্র সাঁওতাল জাতির আদি পিতা ও আদি মাতা৷
পুরাণ, মহাকাব্য, প্রাচীন সাহিত্য এবং ঐতিহাসিক বিবরণে পটচিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর চিত্রকলার শৈলী মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা এবং অজন্তার গুহাচিত্রের অনুরূপ। ২৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো সাহিত্যকর্মে 'পটুয়া' এবং 'চিত্রকরদের' উল্লেখ পাওয়া যায়। কিছু গবেষকের মতে, 'পটশিল্প' মূলত সাঁওতালদের (আদিবাসী সম্প্রদায়) একটি শিল্পকলা ছিল।
চন্দ্রগুপ্তের আমলে শুরু হওয়া চিত্রের এই মাধ্যম ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন চিত্রকরেরা। শুধু রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নয়, এর প্রভাব পড়ল ধর্মীয় ক্ষেত্রেও। জৈনদের চব্বিশতম বা শেষ তীর্থঙ্কর মহাবীরের উপদেশাবলী সমৃদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থ ‘কল্পসুত্রে’ও উল্লেখ রয়েছে এই চিত্রকরদের।লোকচক্ষুর আড়ালে অজন্তা-ইলোরা গুহা নির্মাণেও এই চিত্রকরদের হাত ছিল। কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্‌’ ও ‘মালবিকাগ্নিমিত্রম্‌’ নাটকে, বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত’ এবং বিশাখদত্তের ‘মুদ্রারাক্ষসে’ চিত্রকরদের কথা রয়েছে। ‘আকবরনামা’-সহ একাধিক মোঘল গ্রন্থে রয়েছে চিত্রকরদের প্রসঙ্গ।কেউ কেউ বলেন আজকের এই পটশিল্পের শুরু ওড়িশায় কারণ ,ওড়িশার রঘুরাজপুরের পটশিল্প হাজার বছরেরও প্রাচীন। ওড়িশা থেকেই নাকি ধীরে ধীরে এই পটশিল্প ছড়িয়ে পড়ে বাংলা-সহ বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশে৷ তবে ধর্ম চেতনা থেকে পটচিত্রের উদ্ভাবন- ঐতিহাসিক সূত্রানুসন্ধানে বিশেষজ্ঞরা তার মর্মোদ্ধার করেছেন৷ বাংলায় বৌদ্ধধর্মের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে পটুয়ারা এই ধর্ম গ্রহণ করে। বৌদ্ধ রাজা ও ভিক্ষুরা বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য স্ক্রোল চিত্রকলার ব্যাপক ব্যবহার করতেন এবং এই সময়ে পটচিত্র সম্ভবত বালি, জাভা, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া এবং তিব্বতে ছড়িয়ে পড়ে।
রবীন্দ্র মজুমদার লিখেছেন ,বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বুদ্ধ-জীবনী ও জাতকের কাহিনী পটচিত্রে বিধৃত করা হত৷ আট শতকের রচনা বিশাখা দত্তের "মুদ্রারাক্ষস " নাটকে তার পরিচয় আছে৷ তিনি আরও বলেছেন ,মধ‍্যযুগে বাংলার পটীদাররা বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার উদ্দেশ্যে এর পুন: প্রচলন করেন৷ তাঁর মতে ,পটের চিত্রবস্তুতে কৃষ্ণকালী সেজন্য প্রাধান্য লাভ করে৷ এটা হল ষোল শতকের কথা৷ গুরুসদয় দত্তের মতে ,বাংলার পটচিত্র ও পটুয়া সঙ্গীত অধ‍্যাত্মভাবসজ্ঞাত ৷ সাত শতকের রচনা বাণভট্টের " হর্ষচরিত " কাব‍্যে যমপটের উল্লেখ আছে৷ বাংলার পটুয়ারা পালাশেষে যমপট দেখিয়ে থাকে৷এরূপ রীতি সাদৃশ্যে তিনি মনে করেছেন ,বাংলার পটশিল্পীরা বৌদ্ধযুগের চিত্রকরদের উত্তর সাধক ৷ ড: দীনেশচন্দ্র সেন বলেছেন ,পটুয়াদের পূর্বপুরুষ " মস্করী' উপাধিধারী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বুদ্ধের সময় হতে পটচিত্র এঁকে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করত৷ ভিন্ন ভাষার লোকের কাছে ছবির সাহায্য ধর্মমত প্রচার সহজ হত৷ বাংলাদেশের মস্করীদের নাম পটীদার ৷ ব্রাম্মণ‍্যদের দ্বারা অত‍্যাচারিত পটুয়ারা মূসলমানদের আগমনের পর ইসলামধর্ম গ্ৰহণ করে ,চিত্রকররা ইসলামের অনুসারী হয়ে ওঠে।কিন্তু তারা পৈতৃক বৃত্তি ত‍্যাগ করেনি৷
বাংলার মধ্যে বীরভুম, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মেদিনীপুর এগুলো ছিল পটচিত্রের কেন্দ্র।
এছাড়া অবিভক্ত মেদিনীপুরের ঘাটাল ঘাটালের দাসপুর ,নন্দিগ্ৰাম ,পিংলাতে পাটিদারদের বসবাস৷ পটাশপুরের গোপালপুরে কিছু পটিদার বসবাস দেখা৷ তারা পটচিত্রে অঙ্কণ করেন না ,কিন্তু লোকজন পাটিদার বলে৷পিংলা” শব্দটি সংস্কৃত বা প্রাচীন ইন্দো-আর্য মূল ‘পিঙ্গলা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ তামাটে বা হলদে-বাদামী বা লালচে-সোনালী রঙ। এটি প্রায়শই একটি উষ্ণ, মাটির মতো আভা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় — ঠিক একই রঙের পরিসর যা ল্যাটেরাইট মাটিতে দেখা যায়, যা বাংলার ঐ অঞ্চলে অত্যন্ত সহজলভ্য। শব্দটি সরাসরি রঙ এবং মাটির রঞ্জকের সাথে যুক্ত, যা প্রকৃতপক্ষে খুব কাব্যিক এবং পিংলা পটুয়াদের প্রাকৃতিক, রঙ-ভিত্তিক ঐতিহ্যের সাথে প্রতীকীভাবে সংযুক্ত। মেদিনীপুর তথা বাংলার মধ‍্যে পিংলার নয়াগ্রাম জগদ্বিখ্যাত।সবং ও পার্শ্ববর্তী পিংলা অঞ্চলে আদিবাসী অধ‍্যুষিত হলেও বেশিরভাগ মুসলিম চিত্রশিল্পীরা (যাঁরা 'পটুয়া' নামে পরিচিত) আবহমান কাল ধরে পটচিত্রের চর্চা করে আসছেন ৷এই গ্রামের বেশিরভাগ পটুয়ারাই কিন্তু মুসলিম ধর্মাবলম্বী৷ হিন্দু পটুয়ারাও আছেন৷স্থানীয়ভাবে পটুয়া গ্রাম ( পটুয়া বা পটচিত্র শিল্পীদের গ্রাম) নামে পরিচিত নয়ার ১৭৬টি পরিবারের সবাই পটচিত্র তৈরিতে নিযুক্ত৷ মুসলিম হলেও তারা রামায়ণ, মহাভারত, দুর্গা কাহিনী মঙ্গলকাব্যের বিভিন্ন পটচিত্র এঁকে থাকেন। সেই জন্যই হয়ত ধর্মীয় সম্প্রীতির মেলবন্ধনের ছবি এই গ্রামেই ধরা পরে।তাঁদের তৈরি শিল্পকর্ম এখন দেশ-বিদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সমাদর লাভ করেছে৷

মেদিনীপুরে পটচিত্র ও গানের ভেতর দিয়ে যে সব ধারা সংরক্ষিত তার অধিকাংশ পৌরাণিক আখ্যায়িকা অবলম্বনে রচিত৷ সাধারণত কৃষ্ণলীলা ,রামলীলা ,গৌরাঙ্গলীলা , শিবপার্বতীলীলায় প্রভৃতি চিত্র ও গানের উপজীব্য বিষয়৷ গাজীর পট " লৌকিক কাহীনিকে ( গাজী গানের পালা) আশ্রয় করে চিত্রিত৷ কাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধারাবাহিকভাবে এঁকে পট দেখানো বা পট নাচানো হত৷ পটের কাহিনী আগে ,চিত্র পরে৷ এদিক থেকে পটে কাহিনীর উদ্ভব ও প্রচার কাল জানলে পটের সময় জানা যাবে৷রাধা - কৃষ্ণ ও রাম - সীতার কাহিনী সংস্কৃত ভাগবত ও রামায়ণ থেকে এদেশে প্রচার লাভ করে ৷ আর্য সংস্কৃতির সহিত বাঙালি পরিচয় প্রাচীন কাল থেকে ঘটলেও আপামর জনসাধারণের কাছে এর সামগ্ৰিক প্রভাব মধ‍্যযুগে কৃত্তিবাস ,মালাবর বসু প্রমুখ কবির বাংলা অনুবাদ গ্ৰন্থের মাধ্যমে ব‍্যাপকতা হয়েছিল৷ এঁরা পনরো শতকের কবি৷যে সময় থেকে কৃষ্ণলীলায়,রামলীলা পটচিত্রের প্রচলণ হতে পারে৷ চৈতন্যদেবের ব‍্যক্তিজীবন ও তাঁর প্রবর্তিত ধর্মের প্রভাবের কাল ষোল শতক ৷১৫১০ সালের শুরুর দিকে (আনুমানিক ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে) সন্ন্যাস গ্রহণের পর পুরী (নীলাচল) যাওয়ার পথে শ্রীচৈতন্যদেব মেদিনীপুরের (অধুনা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর) ওপর দিয়ে পদযাত্রা করেছিলেন। ‘শ্রীচৈতন্যের পুরী যাত্রা পথ’ অনুযায়ী তিনি জলপথ ও স্থলপথের একাধিক ঐতিহাসিক রুট ব্যবহার করেছিলেন।
বাংলায় যখন পীর দরবেশের প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল তখন গাজী পীরকে কেন্দ্র করে পীরের পাঁচালী প্রচলীত হয়৷ পটুয়ারা তাঁকে আশ্রয় করে " গাজীর পট" অঙ্কন করেছে৷ পনর ষোল শতকের দিকে বাঙালির নিজস্ব ভাবনা কল্পনা অনুযায়ী পটচিত্র অঙ্কিত ও প্রচারিত হয়েছিল৷ ষোল শতকের কবি মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল কাব‍্যে পটচিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়৷ পটুয়াদের জাতিত্ত্বের অনুসন্ধান করলেও এমতের সমর্থন পাওয়া যায়৷ গুরুসদয় দত্ত পটচিত্রকারের কাছ থেকে একটি কিংবদন্তি সংগ্রহ করে বলেছেন - " পটুয়ারা বিশ্বকর্মার বংশধর ,মহাদেবের বিনা অনুমতিতে তাঁর ছবি আঁকলে তুলির অবমাননায় মহাদেব অভিশাপ দেন৷ - তোরা ছোট হয়ে সমাজে থাকগে'৷ সব জ্ঞাতিরা একত্রে মহাদেবের কাছে জীবিকা সমন্ধে সাশ্রুনেত্রে অনুরোধ করলে তিনি বলেন ,তোরা হিন্দুও হবি না ,মুসলমানও হবি না ৷ তোরা মুসলমানের রীত করবি আর হিন্দু কর্ম করবি অর্থাৎ ছবি আঁকবি ও পড়বি৷দত্ত মহাশয় পটুয়াদের কাছ থেকে শোনা উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন ," সেই থেকে আমরা মুসলমানের মত নামাজ করি আর হিন্দু দেবদেবতার ছবি আঁকা ও সেই গান করি৷ বিভিন্ন পেশাদার মুসলমানদের বর্ণনার সাথে একটি চরণে পটুয়াদের কথা আছে ৷ চরণটি এরূপ " পট পঢ়িয়া কেহ ফিরিয়ে নগরে৷( কবিকঙ্কন চন্ডী৷ পৃ-৮৬)৷ এখানে মহাদেবের অংশটুকু কাল্পনিক ,কিন্তু বাকী অংশ যেমন পটুয়ারা মুসলমানের মত নামাজ পড়ে হিন্দু দেবদেবীর ছবি আঁকে ও গান গায় ইত্যাদি বিষয় মোটেই অসত্য নয় ৷ মহাদেব যখন অভিশাপ দিচ্ছেন তখন মুসলমানরা এদেশে প্রতিষ্ঠিত ,হিন্দু - মুসলমান পাশাপাশি বাস করছে৷ মুসলিম বিজয়ের পর বৌদ্ধরা ও নিন্মবর্ণের হিন্দুরা ইসলাম ধর্ম গ্ৰহণ করে মুসলমান সম্প্রদায়ের কলেবর বৃদ্ধি করে৷ড: দীনেশ সেনের মতে ,চৌদ্দ শতকের দিকে ধর্মান্তরিতকরণের পালা শেষ হয়৷
এসব প্রামানিক নিদর্শন থেকে বলা যায় ,পালযূগে বৌদ্ধ মস্করীরা যে পটচিত্র ও পটগীতির প্রচরণ করেছিল তা ক্রমশ : ব‍্যাপকতা লাভ করে মুসলিম বিজয়ের পরে এদেশে লৌকিক সংস্কৃতি ও পৌরাণিক সংস্কৃতি সর্বসাধারণের কাছে মর্যাদা ও জনপ্রিয়তা লাভের সময় হতে৷।পালরাজাদের মত মুসলমান সুলতানারা স্থানীয় সংস্কৃতি পৃষ্ঠপোষকতা দান করে ছিলেন৷শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই শিল্পে পটুয়ারা শুধু ছবিই আঁকেন না, পট প্রদর্শনের সময় সুর করে লোকগাথা বা 'পটের গান'ও গেয়ে শোনান৷জানা যায় যে ,মুঘল শাসনকালে কিছু শিল্পী ইসলাম ধর্ম গ্ৰহণে কাহিনী বলার এক নতুন ঐতিহ্য শুরু করেন৷ ফ্র‍্যাঙ্ক জে . করম যিনি বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান এবং তিনি ভালো বাংলা বলেন ,তিনি " ভিলেজ অফ পেইন্টার্স : ন‍্যারেটিভ স্ক্রোলস ফ্রম ওয়েস্ট বেঙ্গল " নামে একটি বই লিখেছেন ,যা নয়া মেদিনীপুরে বসবাসকারী একদল দক্ষ শিল্পীকে নিয়ে লেখা৷ গুরুসদয় দত্ত " পটুয়া সংগীত" নামে একটি বই লেখেন ১৯৩৯ সালে৷বাংলায় দুরকমের পটচিত্র প্রচলিত৷ গুরুসদয় দত্ত এগুলির নাম করেছেন একচিত্র বা চৌকাপট এবং বহুচিত্র বা দীর্ঘপট ৷ হিন্দু দেব- দেবীর সঙ্গে মুসলমানদের পীর -ফকির বিচিত্র কাহিনী সংবলিত চিত্র অঙ্কন করা হত৷কালিঘাটের পটচিত্র প্রথম শ্রেণীভুক্ত৷ এগুলি স্বয়ং সম্পূর্ণ চিত্র৷ মানুষ ,গরু ,বাঘ ,পাখি প্রভৃতি এতে চিত্রিত হয়৷ ধর্মপট অনেকগুলি চিত্রের সমন্বয়ে একটা কাহিনীর ধারাবাহিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত৷ লাঠিতে জড়ান এ পটচিত্রেই প্রকৃতপক্ষে খাঁটি বাঙালির চিত্ররীতির নিদর্শন আছে৷ এ ধরনের পট বাংলায় প্রায় সব অঞ্চলে প্রচলিত৷
একমাত্র গাজীর পটে কিছুটা মুসলমানী ঐতিহ্য আছে৷ লৌকিক সংস্কৃতিতে গাজীপীর হলেন বাঘের দেবতা৷ গাজীর পট পূর্ববঙ্গে প্রচলিত ছিল৷বিশেষজ্ঞরা লিখেছেন ,গাজীর জীবনের বিভিন্ন অলৌকিক কাহিনী অবলম্বনে ছবি এ়ঁকেছে পটুয়ারা তার গাজীর পটে৷সে পট লাঠির আগায় মানচিত্রের মত ঝুলিয়ে পয়ারের মাধ্যমে তার ব‍্যাখা দিয়ে ফিরছে গ্ৰাম থেকে গ্ৰামান্তরে মজলিসে৷
অন‍্যত্র তিনি গাজী কালুর পটসম্পর্কিত একটি গানের অংশ বিশেষ উল্লেখ করেছেন৷

" দেওয়ান কোন গুনে তরাইয়া লত্ত ভাই গাজীর নামে
গাজী কালু দুই ভাই আড়াঙ্গি উড়াইল

জঙ্গলার র্যত বাঘ দৌড়িয়া পলাইল৷

একি বাঘ ,নেকি বাঘ ,চোখ পাকাইয়া চার

সুন্দর বন‍্যা ববাঘটায় বৈরাগী লইয়া যায়,৷
গোয়ালার মায় বলে হায়রে হায়

কাল গাইয়ে ধলা বাছুর বাধে লইয়া যায়
গোয়খলার মায় বলে হায়রে হায় ৷

কাল গাইয়ের ধশষলা বাছুর বাধে লইয়া মায়
গোয়ালার মায় বুলে কোমর বুড়ী ৷

বাধ মাবিতে লইয়া যায় দোয়ার বাদ্ধা লরী"

উক্তটির মধ্যে পটের চারটি স্বতন্ত্র কথাচিত্র পাওয়া যায় ৷ড: সুকুমার সেন তাঁর ' ইসলামি বাংলা সাহিত্য " গ্ৰন্থে " গাজীর পট" পাদনামে একটি আলোকচিত্র দিয়েছেন৷ তাতে পাগড়ি পরিহিত শ্মশ্রুধারী ব‍্যাঘ্রোফবিষ্ট গাজীর মানবমূর্তি অঙ্কিত দেখা যায়৷পটের মূল অংশ সহিত ক্ষুদ্রাকার আরও অনেক চিত্র আছে ।মকরবাহিনী গঙ্গাদেবী ,বাঘের কবলে গরু৷ মগুরধারী দক্ষিণ রায় প্রভৃতি৷ আশরাফ সিদ্দিকী কারবালার যুদ্ধ শিবির ও বিবি সোনাভান প্রভৃতি পটের কথা বলেছেন৷।পটগীতি থেকে পটচিত্রের স্ত্রষ্ঠ আভাস পাওয়া যায় অর্থাৎ ঘোড়ায় সোয়ার হয়ে সোনাভান যুদ্ধে চলেছে ,তার হাতে চাবুক ,তা দিয়ে ঘোড়াকে আঘাত করছে সে৷ ঘোড়ার ভঙ্গীও বেগবান৷সবকিছু মিলিয়ে ছবিটি সজীব ও গতিশীল৷ পটগীতি ও পটচিত্র শিল্পকলার অভিন্নইত্মা-।পটগীতিতে যা বাঙ্গ‍্যয় পটচিত্র রূপময় ৷ বহিজগতের সহিত প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থেকে বাংলার গ্ৰামবাসীর দীর্ঘকাল ধরে এরই সাহয‍্যে চিত্ররসপিপাসা নিবৃত্ত করেছে৷
ঐতিহ‍্যগত ভাবে পটুয়ারা পাতা ,ফল ,ফুল ,গাছপালা এবং অন‍্যান‍্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে রং সংগ্রহ করে পরিবেশবান্ধব রঙের কার্যকর ব‍্যবহার করে৷ উদাহরণস্বরূপ ,তারা লটকন পাতা থেকে জাফরান ,অপরাজিতা ফুল থেকে নীল ,সেগুন গাছ থেকে বাদামী ,হলুদ থেকে হলুদ ,কাঠকয়লা থেকে কালো ,সীম বা বাবল গাছ থেকে সবুজ ,ঘুসুম মাটি থেকে সাদা ইত‍্যাদি রং সংগ্রহ করে ৷ এই রং দিয়ে কাপড়ের উপর আঠা দিয়ে শক্ত কাগজ জুড়ে তৈরি হয় পট। এগুলি মূলত তিন ধরণের হয়। সাধারণত পটচিত্র ৩ থেকে ১০ ফুট কিংবা তারও বেশি লম্বা হয়ে থাকে। কোনো ঘটনা বা কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ণনা তুলে ধরা হয় এই পটে। একটি মাঝারি আকারের পটচিত্র তৈরি করতে তিন সপ্তাহের কিছু বেশি সময় লাগে এবং এটি প্রায় ৭,০০০ টাকায় বিক্রি হয়। এর চেয়ে কিছুটা বড় পটচিত্রগুলো ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত দাম পেতে পারে; খুব বড় পটচিত্রগুলোর দাম কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে । আজকে বাজারজাত হওয়ায় এগুলো জনপ্রিয় ও লাভজনক এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। তবুও প্রচন্ড প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে একটি প্রাচীন পেশা অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন৷নয়ার পটচিত্রের বিষয়বস্তুর পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত, পৌরাণিক থেকে শুরু করে সামাজিক, আর্থ-সামাজিক, ঐতিহাসিক, সমসাময়িক ইত্যাদি বিষয়েও পট তৈরী করেন শিল্পীরা। তাঁদের তুলির টানে যেমন জীবন্ত হয়ে ওঠে পুরাণের বেহুলা-লক্ষীনদর, রাম-লক্ষণ-সীতা, চৈতন্য, শিব-পার্বতীর মত চরিত্র, তেমনি বর্তমানও সমানভাবে উজ্জ্বল যেমন – কন্যাশ্রী, নির্ভয়াকান্ড ইত্যাদি। বর্তমানে পটচিত্র আর থেমে নেই পৌরাণিক কাহিনীতে। এখন পটে আঁকা হয় নানা সামাজিক বিষয়, দুর্যোগ এমনকি ধর্ম সমন্বয়ের কথা। পটচিত্র এখন আর শুধু আটকে নেই কাপড়ের ক্যানভাসে। এখন পটচিত্র তুলে ধরা হয় শাড়ি, ওড়না, ব্যাগ, টি-শার্ট, কাঁসার থালা, ট্রে, কেটলি, ছাতা, কুলো, কাপ, প্লেটের মতো বিভিন্ন দৈনন্দিন ব্যবহৃত জিনিসে। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ঐতিহ‍্যমন্ডিত পটচিত্র পরিদর্শনে UNESCO -র পরিদর্শক টিম ও প্রতিনিধি সিভিস্টিয়েন কার্টিস এসেছিলেন৷ পিংলার এই আন্তর্জাতিক পট শিল্পকে কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দাবী দীর্ঘদিনের৷ইতিমধ‍্যেই পিংলার পটুয়া ও সবংয়ের মাদুর শিল্পীদের হাতে জি. আই শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে৷ "চিত্রতরু " ভবন তৈরি করা হয়েছে৷পিংলার নয়া কে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ‍্যোগ নেওয়া হয়েছে৷২০০৯ সাল থেকে এই গ্রামে মেলা শুরু হয়। আগে এই মেলার আয়োজন করা হত ৩ দিনের। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০ দিনের। মোটামুটি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই মেলার আয়োজন করা হয়। এই রিসোর্স সেন্টারটি পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার পটচিত্র শিল্পীদের দ্বারা গঠিত ‘চিত্রতরু’ ক্লাস্টারের অন্তর্গত। বাংলানাটক ডট কম কর্তৃক গৃহীত ‘এথনো-ম্যাজিক গোয়িং গ্লোবাল’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় এটি নির্মিত হয়েছে।পিংলায় প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ‘ পটমায়া’ -র মতো উৎসবগুলো বিশ্বজুড়ে দর্শক ও গবেষকদের আকর্ষণ করে। ফলে পিংলা হয়ে উঠেছে " Village of Painters ( চিত্রকরদের গ্ৰাম) ৷

তথ্য:

1.Village of Painted : a Visit to Naya ,Pingla - Sourabh Datta Gupta

২. Midnapore .in

৩.যেখানে মুসলমান পটুয়াদের তুলিতে মূর্ত হয়ে ওঠেন হিন্দু দেব-দেবীরা- তিয়াসা গুপ্তা ( প্রবন্ধ) , inscript.me

৪.পটুয়া সঙ্গীত- শ্রী গুরুসদয় দত্ত

৫.বাংলার লোক সংস্কৃতি- ওয়াকিল আহমেদ,পৃ: ৮০

আজকে পটাশপুরে অনুষ্ঠিত হল   " বাঙালির মাংস -ভাত উৎসব " -++++++++++++++++++++++++++++++++++++যখন মানুষ ঘৃনা করতে শিখছে ভা...
16/06/2026

আজকে পটাশপুরে অনুষ্ঠিত হল " বাঙালির মাংস -ভাত উৎসব " -
++++++++++++++++++++++++++++++++++++

যখন মানুষ ঘৃনা করতে শিখছে ভালোবাসার চেয়ে দ্রুত৷ তখন আমরা স্কুলে অধ্যায়ন নয়, কিতাবের পাতা পড়ে নয় ,আমরা জমায়েত হয়েছি বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত‍্য চর্চার মিলনের ক্ষেত্র মনে করে৷ এবং আমাদের উদ্দেশ্য পটাশপুরে উন্নয়নের ভুল দিশাকে প্রশ্ন করা ৷যাঁরা নিজেদের সামাজিক অবস্থান উঁচুতে রাখার জন্য ক্ষমতার সাথে মিশে যান ৷ নিজেদের অস্তিত্ব বিকিয়ে দেন৷ ক্ষমতার কাছে আনুগত্য দেখান সেই সব ব‍্যক্তিদের সস্তা উপস্থিতি চাইতে দামী অনেক অনেক আমাদের প্রতিভোজ ও সাংস্কৃতিক ,ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চা৷ আমাদের এই মিলনটা বর্তমানের কিন্তু উত্তরটা অপেক্ষা করে আছে ভবিষ্যতের৷ সমাজে যখন যুক্তির বদলে আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে৷ এবং বুদ্ধিবৃত্তির চর্চার সামাজিক মর্যাদাও কমতে শুরু করে৷ তখন অন্ধকার সমাজে বাতি জ্বালাতে মশাল হাতে শূন্যতা পূরণ করতে এগিয়ে আসে আমাদের মধ্যে কেউ৷ আবার অনেকেই দূর থেকে সমালোচনা করে চলে৷তারাও নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছেন ৷তবেই আলোচনা হচ্ছে বলে সমালোচনা হচ্ছে ৷ এটাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ৷ এই প্রশ্ন শাসকের কাছেও করার ক্ষমতা থাকা দরকার৷না হলে তখন ভাবায় আমাদের চিন্তার কাজ কি ? চিন্তার কাজই হল প্রশ্ন তোলা৷
যাঁরা প্রশ্ন করে না তারা চিন্তা করে না ,এটাই একমাত্র সত্য৷
চিন্তা হারিয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র ও সমাজজীবনের মৌলিক ভিত্তি৷আজ অভিমানের মানচিত্র এই যে আমাদের
সহবস্থানের ঐতিহ্য ও ইতিহাস মুছে দেওয়া হচ্ছে ,তখন রাষ্ট্রকে বুঝিয়ে দিতে যে আমরা কী খাবো ? কী পরবো নাগরিক হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার জেনে প্রশ্ন তোলা৷ জীবিত আছি বলে বুঝিয়ে দেওয়া৷ নিজের জন্মভূমির উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা ,আগামীকে তৈরি করা ,এই অনুষ্ঠান তার ক্ষুদ্র প্রয়াস বলতে পারেন৷রাষ্ট্র যখন আমাদের সংস্কৃতি ,মিলন ,ইতিহাস ও ঐতিহ্য ,সহাবস্থান সব ধংস করে হত্যা করছে সমাজে ,বিভাজন করছে ,তখন বাঙালি জাতি হিসেবে জমায়েত হয়ে আমাদের সংস্কৃতি ঐতিহ্য বজায় রাখতে আজকে বাঙালির মাংস -ভাত উৎসবের আয়োজন সফল হল৷ আজকের উক্ত প্রতিভোজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটাশপুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক সান্তুনু কর ,মৃনাকান্তি জানা ,সুদীপ স‍্যার ,এবং এছাড়া শিক্ষক পীর আবুযর ফায়জুর রহমান , বিশিষ্ট সমাজসেবী মৃনাকান্তি দাস যুব নেতা,টুপাই ভট্টাচার্য ,কবি শিশির আচার্য ,সুজাতা জানা, বিশিষ্ট ব‍্যবসায়ী সেক আব্দুল খালেখ ,শিক্ষক সূর্যেন্দু বিকাশ পাত্র , শিক্ষক শিক্ষক সৈয়দ রউফ ,সামসের খান ,সাহেব খান ,আলমগীর ,সৈয়দ বাবুল ,সৈয়দ জুনেইদ ,সৈয়দ দুলাল ,মীর ইদবার আরও অন‍্যান‍্য গুনিজন ও সমাজসেবী এবং সুচিন্তকগণ ৷

পটাশপুর নিয়ে স্মারক বক্তব্য " আগামী পটাশপুর ভাবনা " নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে আমাদের পিছিয়ে পড়া সামাজিক অবস্থান ,রাজনৈতিক অবস্থান ,আমাদের সহবস্থানের সংস্কৃতি ৷ তার পরে গরম ভাত - মাংসে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া দাওয়া৷ প্রতিবছর যেন আমরা জাতি ,ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে জমায়েত হয়ে আমাদের সমাজ রাজনীতি আলোচনা - আত্মসমালোচনা করতে পারি ৷ আমরা গ্ৰামচিন্তা থেকে রাষ্ট্রচিন্তা করতে পারি ৷ এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে একটাই মন্ত্র:-

"যদি বাঁচতে হয়, স্বাধীনভাবে বাঁচো। যদি মরতেই হয়, গাছেদের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মরো।"
--মাহমুদ দারবিশ

বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব
---- ওয়াহেদ মির্জা

বাঙালির মাংস-ভাতের দুপুর
এই প্রীতিভোজের সাক্ষী থাকবে পটাশপুর
বিভেদ ভুলে আসুন জমায়েত হয়
মাংস- ভাতের সুস্বাদু সম্পর্ক আমাদের মধ্যে যেন রই৷
আগামীর পটাশপুর নিয়ে আমাদেরভাবনা
প্রতি বছর যেন বসতে পারি এই আমাদের কামনা৷
একটু আড্ডা ,আর সমালোচনামূলক চিন্তা
এক টুকরো মাংস হোক আমাদের অধিকারের পন্থা৷
গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক৷
দিনযাপনে গ্লানি ও প্রতিন্দ্বন্দী মুছে হয় যেন মানবিক৷
সাদা ভাত গরম ধোঁয়া আর আর মাংসের কষা৷
এক সাথে বসে খাবো আমরা দূর হবে সকল কন্ঠাসা

তারিখ: 14/6/26 ,রবিবার,
স্থান: পটাশপুর প্রাইমারি স্কুল
আয়োজক: পটাশপুর নাগরিকবৃন্দ
সহযোগিতায়: আত- তাহির এডুকেশনাল এন্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন

এই দিন আমর ছেলে আলিফের জন্মদিন৷

আলিফ আজ 6 বছরের বুড়ো ৷❤️❤️
তুমি আমার পৃথিবী, আমার সুখ এবং আমার হাসির কারণ। তোমাকে জন্মদিনের অনেক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা ♥️❤️

আজকে... আলিফ এর জন্মদিন ... আর কি কি দেখুন

১৮২০ - মোহাম্মদ আলী পাশার নেতৃত্বে মিশরীয় বাহিনী, সুদানে হামলা চালিয়ে দেশটির একটি বড় অংশ দখল করে নেয়।

১৮৩৯ - কলকাতায় বাংলা পাঠশালার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

১৮৩৯ - সংবাদ প্রভাকর বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

১৮৫৫ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় দ্বিতীয় ভাগ প্রকাশিত হয়।

১৯২৮- মার্কসবাদী বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব এর্নেস্তো চে গেভারার জন্মদিন। তার প্রকৃত নাম ছিল এর্নেস্তো গেভারা দে লা সের্না (স্পেনীয়: Ernesto Guevara de la Serna)। তবে তিনি সারা বিশ্ব লা চে বা কেবলমাত্র চে নামেই পরিচিত।

পটাশপুরের  প্রশ্ন  অনেক ৷ উত্তর কি আছে?+++++++++++++++++++++++++++++পটাশপুরে "ঊরুষ -এ-ত্বাহেরী" 50 বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়...
12/05/2026

পটাশপুরের প্রশ্ন অনেক ৷ উত্তর কি আছে?
+++++++++++++++++++++++++++++

পটাশপুরে "ঊরুষ -এ-ত্বাহেরী" 50 বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্তী পালন হতে চলেছে৷ পঞ্চাশ বছর আগে পটাশপুরের মুসলিম সমাজ ও আজকের মুসলিম সমাজ নিয়ে কোন আলোচনা পত্র পত্রিকা প্রকাশ হবে? পটাশপুরে মুসলিম সমাজের আধাত্মিক বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা গঠন ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা কোন আলোচনা হবে ? না, কারন এখানে সেই রকম বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা নেই৷ যা হবে ওয়াজ মহফিল ও কাওয়ালি সেখানে শুধু আধাত্মিক চর্চা ছাড়া সামাজিক ,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে পটাশপুরের মুসলমান সমাজ নিয়ে কোনো আলোচনা শোনা যায় না৷ তাঁর উত্তরসূরিরাই এই আধাত্মিক ঐতিহ্যকে কত টা বেগবান করেছেন৷প্রজন্মের হাতে জ্ঞানচর্চার ধারা ও শিক্ষাবিপ্লবের ভিত্তি সূচনা কি ভাবে হয়েছে আলোচনা প্রয়োজন৷ পটাশপুরের মুসলিম সমাজকে ফিরে দেখা ,আমরা কতটা আদর্শবিচ‍্যুতি হয়েছি ?নেতৃত্বে জড়তা থেকেছে ?সুযোগ সন্ধানী রাজনৈতিক শিকার হয়েছি আমরা? সব কিছু সমালোচনা ও আত্মসমালোচনা দরকার৷
একই মাটিতে একই পাড়া ,একই গ্ৰাম থেকে কি ভাবে আলাদা হয়ে যায় ? একই ধর্ম একই আকিদা থেকে আমরা আজ কতটা খন্ডিত তার আলোচনা প্রয়োজন৷ সংঘাত ও শ্রেনীসংঘর্ষ নিয়ে আমাদের ভাবাও প্রয়োজন ? প্রজন্মের পর প্রজন্ম, আমরা এই ভাবে কি কাটিয়ে দেবো ? ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠন করে কি উন্নয়ন শামিল হবো? মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্ত হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে হীনবল হয়ে কি থাকবো? 50 বছর পরও কি আমাদের ঘুম ভাঙবে না? একই ধর্ম ,একই আকিদা ও একই সিলসিলার মধ্যে থেকেও কতদিন ধরে খন্ডবিখন্ড হয়ে থাকবো? যাঁরা এতদিন ধরে বিভিন্ন পরিসরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের উদ্দেশ্য কি মুসলমান সমাজ কে নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা ? না মুসলিম সমাজের মধ্যে জ্ঞানচর্চার নবজাগরণ ঘটানো এ গুলো নিয়ে ভাবা প্রয়োজন নয় কি?
৫০ বছর আগে সমাজের মূল‍্যবোধ কেমন ছিল ? আজকে কেমন ?
মানুষের আধ‍্যাত্মিক প্রয়োজন মেটাতে ধর্মও থাকবে৷ কিন্তু নৈতিক ,রাজনৈতিক ,অর্থনৈতিক ও সমাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচনা প্রয়োজন৷সমাজের মধ্যে প্রশ্ন কোথায়?

সুফি পীর আবু ত্বাহির মহম্মদ ওলিউল্লাহ আল ক্বাদেরী বাগদাদী পটাশপুরি(রা:আ:) এর বংশ তালিকা৷ ১৯ ৭৬ সালে ইহলোক পরিত্যাগ করেন ...
12/05/2026

সুফি পীর আবু ত্বাহির মহম্মদ ওলিউল্লাহ আল ক্বাদেরী বাগদাদী পটাশপুরি(রা:আ:) এর বংশ তালিকা৷ ১৯ ৭৬ সালে ইহলোক পরিত্যাগ করেন ৷ প্রতিবছর আরবি জিলকদ মাসের ১৮ ও ১৯ তারিখে " ঊরুস-এ - ত্বাহেরী " পবিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ৷ এই বছর ৫০ বছর মৃত‍্যুবার্ষিকী পালন হচ্ছে ( তারিখ 6 ,7,8 মে )

অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চলের পটাশপুর এলাকায় বাদশা ঔরঙ্গজেবের (১৬৫৮-১৭০৭) রাজত্বকালে পারস্য দেশ থেকে আসেন আব্দুল গণি দরবেশ ও আব্দুন নবী দরবেশ (বড় ভাই )( র: আ:) এর আগমন ঘটেছিল৷ তাঁরা হলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্তরের সাহাবীদের মধ্যে যাঁরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা : আ: বংশধর৷আব্দুল গণি দরবেশ এর পটাশপুরের পূর্ব দিকে আড়গোয়ালে মাজার অবস্থিত৷ আব্দুন নবী দরবেশ হলেন পটাশপুরে মাজার প্রাঙ্গণে শায়িত আছেন৷সৈয়দ শা আনা রা : আ: ছিলেন আব্দুর নবী দরবেশ-এর সম্পর্কে শশুর মশাই৷ বড় বিবি ছিলেন আব্দুর নবী দরবেশ -এর মেয়ে৷ ছেলের নাম ছিল মোল্লা পীর মুহাম্মদ দরবেশ ৷ তাঁর ছেলে মোল্লা মুহাম্মদ বক্সায়াসুর রহমান ,তাঁর ছেলে মাওলানা হেদায়াতুর রহমান ৷ তাঁর ছেলে মাওলানা সেরাজুল রহমান ও মাওলানা আতাউর রহমান ,মাওলানা দলিউর রহমান৷ মাওলানা দলিউর রহমানের ছেলে মাওলানা আলতাফুর রহমান ( উড়িষ্যার ধাম নগর স্থানান্তরিত হোন)৷ মাওলানা আলাতাফুর রহমানের ছেলে মাওলানা আহমাদুর রহমান ,আনিসুর রহমান ,মাওলানা আমিনুর রহমান ,মেয়ে জবেদা খাতুন৷ মাওলানা আহমাদুর রহমানের মেয়ে মাহফুজাতুন নেশা ( রাফি হোসেনের মা) ৷মাওলানা আনিসুর রহমানের ছেলে মাওলানা জুলুসুর রহমান ,মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল কাদীর ,মাওলানা পীর আবু তাহের ওলিউল্লাহ আল ক্বাদেরী বাগদাদী পটাশপুরী৷মাওলানা জুলুসুর রহমানের ছেলে মুহা : সলিমুর রহমান ও পীর মাওলানা আবু নসর মুহাম্মদ ফজলুর রহমান৷ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল কাদীরের ছেলে আবু মুহা: জিল্লুর রহমান ,মেয়ে আসেমা খাতুন ,ফাতেমা খাতুন ৷ মাওলানা পীর আবু তাহের ওলিউল্লাহ আল ক্বাদেরী বাগদাদী পটাশপুরী ছয় জন মেয়ে ১. আবেদা খাতুন ,২. জবেদা খাতুন ,৩. রাশেদা খাতুন ৪. মুর্শিদা খাতুন ,৫. কুর্শিদা খাতুন ৬. রকিবা খাতুন৷ পীর মাওলানা আবু নসর মুহাম্মদ ফজলুর রহমান -এর ছেলে সুফি মাওলানা মুহাম্মদ ফায়জুর রহমান আল ক্বাদেরী( সাজ্জাদানশীন, খানকাহে আলিয়া ক্বাদেরিয়া ত্বাহেরিয়া ,পটাশপুর ,পূর্ব মেদিনীপুর)৷

নোট: কোন ভুল যদি থাকে সম্পর্কে পরবর্তীতে ঠিক করে নেওয়া হবে৷ ভুল থাকলে বলবেন৷

পটাশপুরে "উরস -এ -তাহেরী" ৫০ ব‍্ৎসর উদযাপন  ও  আমাদের  সমাজ চেতনা৷++++++++++++++++++++++++++++++++++ ছোট বেলায় আমার দাদু...
12/05/2026

পটাশপুরে "উরস -এ -তাহেরী" ৫০ ব‍্ৎসর উদযাপন ও আমাদের সমাজ চেতনা৷
++++++++++++++++++++++++++++++++++

ছোট বেলায় আমার দাদুর কাছ থেকে শুনে ছিলাম পীরে তারিকত হযরত মাওলানা শাহ সুফি আবু ত্বাহের ওলি উল্লাহ রা:হ: এর মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও ক্ষমা করা প্রকাশ ভঙ্গি৷ অনেকেই ত্বাহের বাবাকে উল্টো পাল্টা বলেছেন , তাঁর জীবনকালে মারতে এসেছে ,তাঁদের ডেকে বাড়িতে খাইয়েছেনও৷ একদিন বেল পুকুরের মাছ চুরি করেছে একজন তিনি লোকমুখে শুনে ছিলেন ,পরেরদিন তাকে নিমন্ত্রণ করে খাইয়েছিলেন ৷ মাছ চোর নিজে খাওয়া দাওয়ার পর মাছ চুরির কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন তাঁর ব‍্যবহারের জন্য৷ আরেকজন পীর সাহেবের ঘরে ধান নিয়ে বিক্রি করে আসতেন ৷ তিনি বেশি ধান নিয়ে বিক্রি করতেন টাকা কম দিতেন এই সব চুরির কথা তাহের বাবা জানতেন ,পরে একদিন তিনি বেশি ধান বিক্রি করে টাকা কম দিলেন ,তারপরেও তিনি আরও টাকা দিয়ে বললেন ছেলের জন্য জামা কিনে নেবে,আর বেশি ধান বিক্রি করবে না ,তিনি লজ্জায় পড়ে অপরাধী ব‍্যক্তি অপরাধ স্বীকার করেছিলেন৷ এই রকম অনেক কাহিনী আছে অলিখিত ভাবে যুগের সঙ্গে মুছে গেছে৷ আবার দাদু বলতেন তাহের বাবার পরিবারের উপর যারা আক্রমণ করেছেন তাদের পরিবারের বিশাল বড় বড় ক্ষতি হয়েছে৷ আমার জীবন কালেও দেখেছি খানকাহতে আক্রমণ দেখেছি৷ তবে
তাহের বাবার এই যে ক্ষমা করার আন্দাজ ই ছিল সুফিয়ানা৷

যাইহোক আমি যেটা বলতে চাইছি ৷ পঞ্চাশ বছর উরস উদযাপন হল কিন্তু এবারের নির্বাচন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিভিন্ন কারন সহ আমাদের মধ্যে সামাজিক চুক্তি ও সম্পর্কের ফাটলের ফলে এই বারের উরস উৎসবের রং সবচেয়ে ফিকে৷ এই অপরাধ আজীবন বয়ে বেড়াবে আমাদের৷কারন পটাশপুরের আলোকবর্তিকা তাহের বারার ইহলোক পরিত্যাগ করার ৫০ বছর পরও আমরাও ঐক্যবদ্ধ নয় ,আমরা পরস্পর বিভিন্ন ভাবে খন্ডবিখন্ড৷

পটাশপুরে সবচেয়ে বেকার কাজ আমি করে থাকি৷ সেটা হচ্ছে লেখালেখি৷ নিজের কৌমের ,এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ,অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তাশীল থাকি ৷ এর জন্য পাগল তকমাও পেতে হয়েছে৷ এই পাগলামীর ফল হিসেবে আমাদের সাহিত্য সংগঠন "অবিভক্ত মেদিনীপুরের জেলার সাহিত্য ও সংসদ-এর চতুর্থ বর্ষ ঈদ সংখ্যা পত্রিকা " অস্তিত্বের খোঁজে" এর প্রচ্ছদ করেছি " শাহ সুফি আবু তাহের বাবার " মাজার শরীফ কে নিয়ে৷ আমরা জানতাম না এই বছর ৫০ বছর পূর্তি উরস উৎসব ৷ কালক্রমে আমাদের কাজ মিলে গিয়ে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি সাক্ষ্য বহন করলো৷ আমাদের কাছে এটাই বড় জিয়ারত ও ইবাদত ৷

অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছা করে ৷ আমাদের সমাজ ও সময় ,আমাদের বোধ ও চেতনাকে লিপিবদ্ধ করতে ইচ্ছে করে কিন্তু পরিস্থিতি সাথ দেয়না ৷ ছোটাছুটিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি৷ যাইহোক তবুও লিখতে হবে ৷

পটাশপুরে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু ,অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু গড়ে তুলতে পারতাম আমরা ৷ কিন্তু চিন্তাশীল শ্রেণী নেই সমাজে ,সবাই যেন নিজস্বতা ও নিজ স্বার্থের ইবাদত করছেন৷ রাষ্ট্রচেতনা কোথায় ? শুধু চলে প্রশ্নহীন ,যুক্তিহীন আনুগত্য৷

আমাদের কিছু আর্থিক উন্নয়ন হলেও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের ভয় আছে ,তা এখন আরও বেশি হবে ৷চেতনা- শিক্ষার কমবেশি নয় , সংস্কৃতি শেষ কথা ৷ আমরা সেই " কালচারাল পলিটিকস " আমরা বুঝি না ৷ ফলে বর্তমান বাংলার সাংস্কৃতিক হেজেমনির মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছি আমরা ৷ দাঁড়াবার কুল কিনারা নেই কারন আমাদের সেই কাঠামো গড়ে ওঠেনি৷ ফলে বারবার প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি৷ আমাদের সামাজিক শূন্যতা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগছি ৷ আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে ওয়াকিবহাল নয় ৷ আমরা উপলব্ধি করিনা আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা বোধ নিয়ে৷
সেই কালচারাল পলিটিকস -এর ঠিকানা শহর৷ সেই শহর পটাশপুর হোক যা আজ থেকে 400 বছর আগে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল পটাশপুর৷ অনেক জ্ঞানী গুনি আগমন হয়েছে এই পবিত্র মাটিতে ৷ সেই ঐতিহ্য ও ইতিহাস আমরা কতটা ধরে রাখতে পেরেছি ৷ কালের গর্বে মিলিয়ে গেলেও আমরা কতটা চেষ্টা করেছি উত্তোরণের জন্য৷ ৷শহর সংস্কৃতি পথ দেখাবে ,গ্ৰাম সেই পথে হাটবে৷নির্দিষ্ট আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট চিন্তার সীমানা নির্ধারণ নয় ৷সীমানা ভেঙে কেউ কেউ সামনে এলে তাঁকে সহজে গ্রহণ করা যায় না ,সহজে পাগল তকমা পেতে হয়৷ সেই তকমা আমি পেয়েছি৷

@ওয়াহেদ মির্জা ( 5-8/5/26 উরস ছিল ,50 বছর ,লেখা ,১১/৫/২৬)

নিউ দীঘাতে অস্তিত্বের খোঁজে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ ৷ বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান।ট্রাস্টের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান৷
01/04/2026

নিউ দীঘাতে অস্তিত্বের খোঁজে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ ৷ বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান।ট্রাস্টের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান৷

নিউ দীঘা : হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনাল : বঙ্গীয় ঈদ মিলন উৎসব : অস্তিত্বের খোঁজে পত্রিকা প্রকাশ৷তারিখ: 28/03/26, শনিবার
01/04/2026

নিউ দীঘা : হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনাল : বঙ্গীয় ঈদ মিলন উৎসব : অস্তিত্বের খোঁজে পত্রিকা প্রকাশ৷

তারিখ: 28/03/26, শনিবার

দীঘায় ঈদ সংখ্যা " অস্তিত্বের খোঁজে " পত্রিকা প্রকাশ:গত ২৮ মার্চ (২০২৬) শনিবার নিউ দীঘার হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনালে ব...
01/04/2026

দীঘায় ঈদ সংখ্যা " অস্তিত্বের খোঁজে " পত্রিকা প্রকাশ:

গত ২৮ মার্চ (২০২৬) শনিবার নিউ দীঘার হোটেল মান্নাত ইন্টারন‍্যাশনালে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট্রের" ঈদ মিলন উৎসব" অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হল অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ-এর চতুর্থ বর্ষের ,চতুর্থ ঈদ সংখ্যা পত্রিকা" অস্তিত্বের খোঁজে'৷উক্ত অনুষ্ঠানে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সম্পাদক এম রহুল আমীন ও সভাপতি রমজান আলি বরণ করা হল৷ এছাড়া অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সহ সম্পাদক ওয়াহেদ মির্জা( বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কনভেনার) ও লেখক তাবারক আলী , কবি মোহাম্মদ সামসের খান ,কবি সেক রউফুর রহমান ,লেখক সেক ফিরোজ হোসেন ,কবি সেক আসাদ আহমেদ ও সেক সাদেক আলির উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল৷ সঞ্চালন করেন গল্পকার শামিমা মল্লিক মহাশয়া৷ এছাড়া অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সম্পাদক সেক আবুল ও সভাপতি আলিম উদ্দিন মল্লিক অনুষ্ঠানে না থাকতে পেরেও সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷

দৈনিক নতুন পয়গাম
তারিখ: 01.04.26 ( প্রকাশিত খবর)

05/03/2026

বাঙালি সংস্কৃতিতে " শবে বরাত " ও হালুয়া ও রুটির ঐতিহ্য৷
--- ওয়াহেদ মির্জা

ফারসি শব্দ 'শবে বরাত' (ভাগ্যের রাত) হলেও আরবিতে একে 'লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান' (মধ্য-শাবানের রাত) বলা হয় ৷আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি পবিত্র শবে বরাত। সে হিসেবে এবার বাংলা ২০ মাঘ ও ইংরেজি ৩ ফেব্রুয়ারি এই শবে বরাত। স্থানভেদে এই উৎসব আবার ভিন্ননামেও পরিচিত। যেমন, আফগানিস্তানে নিম শাবান, তুরস্কে বিরাত কান্দিলি, ভারতীয় উপমহাদেশে শবে বরাত বা নিফসু শাবান।
এরপর মূলত পবিত্র মাহে রমজানের দিনগণনা শুরু হয়। তাই রমজান মাসের আগমনের বার্তা এবং প্রস্তুতির প্রেরণা নিয়ে আসে এই রাত। এটি ইসলামি বিশ্বাসে পাপ থেকে মুক্তি ও ভাগ্য নির্ধারণের রাত হিসেবে পালিত হয় । হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকেই এই রাতে নফল ইবাদত ও কবরস্থান জিয়ারতের প্রচলন রয়েছে, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষভাবে উৎসবের রূপ নেয়৷ এই রাতটি কেবল ইবাদত নয়, বরং বিশেষ হালুয়া-রুটি তৈরি , কবরস্থান জিয়ারত এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে উৎসবের রূপ নিয়েছে৷ সবে বরাতের ব্যাপক প্রসার ও প্রথা শুরু হয় মূলত হিজরি ৪৪৮ (খ্রিস্টীয় ১১শ শতক) থেকে ৷ইতিহাসে, ৪৪৮ হিজরিতে ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের ইবনে আবিল হামরা নামক এক ব্যক্তি প্রথম বাইতুল মুকাদ্দাসে এই রাতে জামাতে নামাজ পড়ার প্রথা চালু করেন, যা পরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে৷শিয়া মতবাদে এই রাতটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি তাদের দ্বাদশ ইমাম, ইমাম মাহদী (আ.)-এর জন্মরাত হিসেবেও উদযাপিত হয়, যা শিয়াদের জন্য একটি আনন্দ ও খুশির মুহূর্ত৷ভারতে শবে বরাত পালনের প্রচলন মূলত দিল্লি সুলতানি ও মোঘল আমলে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছিল, যেখানে সুলতান ও বাদশাহরা এ রাতে মসজিদ ও প্রাসাদ আলোকসজ্জা করতেন। এছাড়া, উনিশ শতকের শেষদিকে ঢাকার নবাবরাও জাঁকজমকের সাথে শবে বরাত পালন করতেন।ভারতীয় উপমহাদেশে ইবাদত-বন্দেগি রাত হিসেবে সুফি ও দরবেশ অনেক আগে থেকেই পালন করে আসছেন৷
অনেকে এই রাতে মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য প্রার্থনা করেন এবং কবরস্থান জিয়ারত করেন ৷ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ৷তখন ঢাকার নবাবরা বেশ ঘটা করেই শব-ই-বরাত পালন করতেন৷ তিনি বলেন, সে সময়ে ঢাকার নবাবরা শব-ই-বরাতের সময় আলোকসজ্জা করতো । এরপর পাশপাশি মিষ্টি বিতরণ করতো। এই দিনে উপমহাদেশে সরকারি ছুটি এবং বিশেষ খাদ্য সংস্কৃতি ও ইবাদতের সংমিশ্রণে একটি প্রধান মুসলিম সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ৷ আমাদের বাংলায় শবে বরাত পালনে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে৷ শবে বরাত এমনই একটি উৎসব। যাতে বাঙালিরা তাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে, ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থান আলোকিত করে এবং সারা রাত ধরে প্রার্থনা করে। কবরস্থান পরিস্কার করা হয় ও মসজিদ ও মাঝায়ে আলোকসজ্জা থেকে ফুল ও রঙ্গিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়৷ এছাড়া এই সময় ২ দিন রোজাও রাখার রীতি প্রচলন রয়েছে৷ আমাদের ছোট বেলায় সেই রকম আতসবাজির ব‍্যবহার দেখতাম না ৷ তবে কবস্থানে গিয়ে মোমবাতি ও আগবাতি জ্বালানো রীতি রয়েছে৷ এখন আতসবাজি ব‍্যবহার হচ্ছে এই নিয়ে হাইকোর্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা করেছে ৷ হাইকোর্ট সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ কারন এই পবিত্র রাত বলতে আলোকসজ্জা ও ইবাদতের রাত ৷ আমাদের গ্ৰামগঞ্জে সে রকম আতসবাজি দেখিনা তবে শব্দবাজি হয় না ৷ শহরে হতে পারে হয়তো৷ এই গুলো আমাদের দীপাবলী সংস্কৃতি প্রভাব পড়ছে তা বোঝ যাচ্ছে৷ দিন বদলাবে সংস্কৃতির ধরনও বদলাবে ,কারন সংস্কৃতি গতিশীল ৷ ধর্মীয় নিয়ম ও রীতি স্থিতিশীল৷ সেই রকম বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ ও ঐতিহ্য হালুয়া রুটি৷ সন্ধ‍্যায় হালু রুটি তৈরি হয় ,তার নিয়াজ ফাতেহা দেওয়ার পর খাওয়া হয় ৷ চালের রুটির সঙ্গে হালুয়া এবং বাঙালির ঐতিহ‍্যেবাহী কষা মাংস রেসিপি দিয়ে খাওয়াদাওয়ার চল রয়েছে৷ অনেক জায়গায় কোরআন শরীফ তেলাওয়াত হয় ও মহফিল কিছু ওয়াজ মহফিল হয়ে থাকে৷ আমরা ছোট বেলায় কলাগাছের ভেলা বানিয়ে পুকুরে ছাড়তাম আলোকসজ্জা করে অনেক সময় আগুন লাগাতাম ভেলায় ,মানে সেই সৃজনশীলতার আরেক স্তর বলতে পারেন কারন তখন গ্ৰামের দিকে বিদ‍্যুৎ আসেনি ,ফলে আলোকিত করার উপায় মাত্র ছিল ভেলা নির্ভর৷

শবে বরাতের দিনে এই হালুয়া–রুটির অবশ্য ধর্মীয় কোনো তৎপর্য নেই। এটি নেহায়েত সামাজিক রেওয়াজ। তবে সকালে অনেক গরীব মানুষ হালুয়া রুটি নিতে আসতেন ,এখন আর দেখা যায় না ৷ হালুয়া রুটি বেশি হলে রোদে শুকিয়ে দেওয়া হয় ৷ পরে রুটি পুড়িয়ে খাওয়া আলাদা মজা লাগে৷
ইতিহাসবিদদের অনেকে মনে করেন, আমাদের দেশে এই রেওয়াজ চালু হয়েছিল উনিশ শতকে। সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ নিবিড় করে তুলতে এই বিশেষ ধরনের খাদ্য বিতরণের একটি ভূমিকা আছে। সে যাই হোক, শবে বরাতের হালুয়া এখন যে এক সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সারা দেশ তথা বাংলায় এর চল রয়েছে। তবে ঘরে ঘরে নিজেদের জন্য এই সুস্বাদু পদটি রান্নার আয়োজন করতে কোনো বাধা নেই।

সুজি, বুট, গাজর, ডিম, বাদাম, পেঁপে, চালকুমড়া, নেসেস্তাসহ হরেক রকমের উপকরণ দিয়েই বৈচিত্র্যময় স্বাদের হালুয়া তৈরি করা যায়।। তবে হালুয়া নামের এই মিষ্টির উৎপত্তি কবে কোথায়, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আসলে বাঙালির মিষ্টান্নের কোনো লিখিত ইতিহাসই পাওয়া যায় না। আগের কালের মিষ্টান্নের বর্ণনা পাওয়া যায় মূলত মধ্যযুগের সাহিত্য ও ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে। এ ক্ষেত্রে অন্নদা মঙ্গলসহ বিভিন্ন মঙ্গলকাব্যই খাদ্যাদির সন্ধান লাভের প্রধান উৎস। সেখানে মিষ্টান্নের ভেতরে পাওয়া যায় নাড়ু, মুড়কি, ক্ষীরখণ্ড, সরগুটি, পিষ্টক, খাজা, গজা, সন্দেশ, দই, ক্ষীরসা প্রভৃতি।

হালুয়া " আজকে বাঙালি ঐতিহ‍্যবাহী খাবার৷ আমাদের বাংলায় ছোলার হালুয়া ,সুজি ,গাজরের হালুয়ার জনপ্রিয়তা রয়েছে৷ হালুয়া ও রুটি এই সময়ে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীকে পাঠানোর রীতিনীতি রয়েছে ৷ বিকেল থেকেই শুরু হয় প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতে হরেক রকম হালুয়া–রুটি বিতরণের পর্ব। তবে কারুর বাড়িতে কেউ ইন্তেকাল করলে শবে বরাত আসার আগে " নতুন সবে রবাত " করার রীতি রয়েছে৷ এখানে হালুয়া - রুটি নিয়াজ দিয়ে সিন্নি হিসেবে বিতরণ হয়৷

Address

Medinipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অবিভক্ত মেদিনীপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share