15/06/2018
ঈদ মোবারক
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আবার এল খুশির উৎসব: পবিত্র ঈদুল ফিতর। আমরা আমাদের প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ঈদ মোবারক!
মুসলমানদের জীবনে পবিত্র রমজান মাস আসে আত্মিক পরিশুদ্ধির সুযোগ নিয়ে। দীর্ঘ এক মাস ধরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে যে সংযমের অনুশীলন চলে, তা শুধু ইন্দ্রিয়ের কৃচ্ছ্রসাধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক ও আত্মিক সংযমও এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একদিকে খাদ্য-পানীয় থেকে দূরে থাকা, অন্যদিকে হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, মোহ-মাৎসর্য ইত্যাদি যাবতীয় রিপুর তাড়না থেকে অন্তরকে মুক্ত করা—এই হলো পবিত্র রমজানে সিয়াম সাধনার মর্মকথা। যা কিছু মন্দ ও অশুভ, তা বর্জন করা এবং যা কিছু শুভ ও কল্যাণকর, তা অর্জন করাই রমজানের সিয়াম সাধনার লক্ষ্য। এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ লাভ করা যায়; এভাবেই অন্যায়, অবিচার, প্রতারণা, হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষ দূর করে ভালোবাসা, মায়া-মমতা, পরার্থপরতায় সুখী ও শান্তিময় জীবন ও সমাজ গড়ার প্রয়াস নেওয়া যায়।
রমজান মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযম সাধনা ও পরিশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায় না। এই এক মাসের অনুশীলন বছরের অবশিষ্ট সময়ও আমাদের পরিশুদ্ধির প্রয়াসে সহায়ক হতে পারে, যদি আমরা সিয়ামের মর্মবাণীর কথা ভুলে না যাই। প্রত্যেক ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনযাপনে সংযম ও মিতাচারের অনুশীলন প্রয়োজন—প্রতিবছর পবিত্র রমজান এসে আমাদের এ কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায়। আমাদের সবারই আন্তরিক চেষ্টা হওয়া উচিত, পবিত্র রমজানের সংযম সাধনার প্রতিফলন যেন আমাদের সার্বিক জীবনযাপনে সারা বছর ধরে প্রতিফলিত হয়। পবিত্র রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। রমজানের শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব যে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে, তা যেন সারা বছর সবার জীবনে অটুট থাকে।
আসাদুজ্জামান