01/09/2026
🙏🚩🍁ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বুদ্ধিমান বিদেশী আক্রমণকারী ছিলেন বখতিয়ার খিলজি।না ইংরেজরাও ওনার থেকে বুদ্ধিমান ছিলেন না।কাহিনী শুনলে আপনিও বিশ্বাস করবেন।🙏🚩🍁
🙏🚩🍁একবার বখতিয়ার খিলজি চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন।অনেক চিকিৎসক দেখিয়েও তিনি সুস্থ হচ্ছিলেন না,কিন্তু তিনি কাফের হিন্দুদের চিকিৎসা নিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।এহেন পরিস্থিতিতে সম্রাটের অকাল মৃত্যুর আশংকা করে ওনার এক সেনাপতি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সামান্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের দারস্থ হন সম্রাটকে লুকিয়ে।চিকিৎক ঋষি সব শুনে বললেন---ঠিকআছে আমি দেখলে ওনার আপত্তি থাকলে আমি ওনাকে একটি কোরান শরীফ দিচ্ছি সেটা ওনাকে পড়তে বলবেন।আমি ওনাকে কোরান দিয়েছি বলতে হবে না।সেই কোরান এক সপ্তাহ নিয়মিত পড়তেই সুস্থ হয়ে উঠলেন বখতিয়ার খিলজি।উনি সেই সেনাপতির কাছে এর রহস্য জানতে আগ্রহী হলেন এবং সেনাপতি সব খুলে বললেন রাজাকে।এরপর বখতিয়ার খিলজি সেই আয়ুর্বেদ চিকিৎককে ডেকে পাঠালেন এবং এর রহস্য জানতে চাইলেন।ঋষি বললেন--আপনি যেহেতু হিন্দুর চিকিৎসা নিতে চাননি তাই আমি সামনে আসিনি কিন্তু আমি একজন চিকিৎসক এবং আমাদের ধর্মে চিকিৎসকের কাছে সবাই সমান,সে শত্রু হোক বা মিত্র।এটাই আমাদের জীবনদর্শন।তাই আমি আপনার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আপনার রোগের লক্ষণ শুনে আমি বিশেষ ঔষধ রাসায়নিক তৈরী করে কোরানের প্রতি পাতায় মাখিয়ে দিয়েছিলাম।সেই পাতা যতবার আপনি উল্টেছেন ততবার ওষুধ হাওয়ায় উড়ে আপনার নাসিকা দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে এবং আপনি সুস্থ হয়েছেন।🙏🚩🍁
🙏🚩🔥 এই ঘটনা শুনে হতবাক বখতিয়ার খিলজি তার সেনার গোয়েন্দাদের লাগিয়ে দিলেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ নিতে।খোঁজ নিয়ে তিনি চমকে উঠেছিলেন।তিনি জানতে পারেন,নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর জ্ঞানের ভাণ্ডার,এখানে ভারতের আদি নিবাসী হিন্দুদের চরম জ্ঞানী মানুষদের একটি বিদ্যালয় এবং গবেষণাগার।এখানকার শিক্ষা বাকি বিশ্ব থেকে বহু যোজন এগিয়ে।এখানে বিশ্বের বাকি বিদেশী মনীষীরা পর্যন্ত শিক্ষা নিতে আসেন।হিন্দু জাতির চরম উন্নত জীবনদর্শন মূলত জ্ঞান এবং সত্যের সন্ধানে জ্ঞানপিপাষু সাধকদের গবেষণার উপর নির্ভরশীল।এই চরম উন্নত জাতির বিরাট মুল্যবান সম্পদ এই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।বিজ্ঞান,সাহিত্য,জ্যোতিরবিজ্ঞান,চিকিৎসা বিজ্ঞান ইত্যাদিতে হিন্দুদের শ্রেষ্ঠত্ব এই প্রকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণেই।ওনার মাথায় একটি বুদ্ধি খেলে গিয়েছিল মুহূর্তের মধ্যে।উনি বুঝে গিয়েছিলেন,হিন্দু জাতিকে সামরিকগত ভাবে পরাজিত করার চেষ্টা বৃথা,এই জাতির আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এই জ্ঞানভিত্তিক জীবনদর্শনে।আর দেরী না করে তিনি সেনাকে নির্দেশ দিলেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমনের জন্য।বখতিয়ার খিলজির মোঘল সেনা তিরিশ হাজার শিক্ষক ও ছাত্রকে হত্যা করে আগুন লাগিয়ে দিলেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে।সেই সময়ে সেখানে ছিল 5 কেজি থেকে শুরু করে 500 কেজি পর্যন্ত 50 লাখেরও বেশী মূল্যবান পুঁথি,যা হিন্দু জীবনদর্শনের বিভিন্ন মনীষীর জ্ঞানের এবং গবেষণার সাক্ষী।তিন মাস ধরে বখতিয়ার খিলজির সেনা পুড়িয়ে তবে নিরস্ত্র হয়েছিল।🙏🚩🔥
🙏🚩🔥হ্যাঁ,তারপর সমস্ত মোঘল সম্রাট সেই পথ অনুসরণ করেছিলেন,একে একে ধংস হয় তক্ষশিলাসহ আরো সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নত মন্দির,যা ছিল হিন্দুদের চরম উন্নত জ্ঞানের এবং স্থাপত্যের নিদর্শন।পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি আস্তে আস্তে ভুলতে থাকলো নিজেদের গৌরব,জ্ঞান,আবিষ্কার,উন্নত জীবনদর্শন ইত্যাদি।তাদের আগ্রহ বাড়তে লাগলো মোঘল সংস্কৃতির উপর।হিন্দু জাতির পরম সম্পদ জ্ঞানরুপি নৌকা পাল ছিঁড়ে দিকবিদিগ শূন্য হয়ে ছুটতে লাগলো বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারনা,মতবাদ,জীবনদর্শনের দিকে।আমরা ভুলে গেলাম--আর্যভট্ট,বরাহমিহির,মহাকবি কালিদাস,বাল্মিকী,বেদব্যাস,বানভট্ট ইত্যাদি মহাজ্ঞানীদের দ্বারা নির্মিত পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত বৈদিক সমাজের ধারনা।সেই সুযোগ নিল পরিবর্তিতে ইউরোপের খ্রিষ্টানরাও।মেকলের শিক্ষা পদ্ধতি এবং ভ্লাদিমির লেনিন,কার্ল মার্কস ইত্যাদি সমাজবিদদের ভ্রান্ত এবং চরম হিন্দুবিরোধী মতবাদ হিন্দুদের কাছে তখন আপন হয়ে উঠলো।দেখতে দেখতে কেবল জমিই নয় বরং সংস্কৃতি,পরম্পরার উপরেও দখল নিল বিদেশী এবং বিধর্মীরা।তবে হিন্দু জীবনদর্শনের উপর এই চরম আঘাতের সূচনা করেছিলেন বখতিয়ার খিলজি।সেই কারণের তিনি আমার চোখে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বুদ্ধিমান আক্রমনকারী।আপনার মত আলাদা হলে জানাতে পারেন।🙏🚩🔥