27/07/2025
আর্থিক অসুবিধার কারণে সাময়িক সময়ের জন্য নিরামিষভোজীতে পরিণত হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ছাত্রাবস্থাতেই। বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলে কালেক্টর হোক; কিন্তু ছেলের দুচোখের স্বপ্ন ভারতের আকাশে উড়ার। অনেকটা পথ অসম্ভব লড়াই করে শেষে পরীক্ষাও দিলেন.. ১৯৫৭ সাল, ফাইটার পাইলট হওয়ার পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশিত হ'ল। ফলাফল নয়জন প্রতিযোগীর মধ্যে আটজন নির্বাচিত হলো, শুধুমাত্র তিনি, আবদুল কালাম বাদে। স্বপ্ন ছিল দেশের মিলিটারী ফৌজের একজন ফাইটার পাইলট হওয়া। পরীক্ষা, ইন্টারভিউ সবেতেই তিনি এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু শুধুমাত্র শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় তিনি পিছিয়ে পড়েন।
চোখের সামনে নিজের স্বপ্ন'কে এভাবে ভেঙে যেতে দেখাটা সহজ নয়। এতদূর এসে তীরে তরী ডুবে যাওয়ার মতো কষ্টের। তিনি ভাঁঙা মন নিয়ে চলে যান হৃষীকেশ। সেখানে সাক্ষাৎ পান স্বামী শিবানন্দে'র। স্বামী শিবানন্দ তাঁকে উপদেশ ও পরামর্শ দেন, ভরসা না হারাতে বলেন..
“ আজকের ব্যর্থতা ভুলে যাও, তার বদলে তোমার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যের অনুসন্ধান করো। এয়ার ফোর্স পাইলট হওয়া তোমার নিয়তি নয়। নিজের সঙ্গে একাত্ম হও, আত্মসমর্পণ কর ঈশ্বরের ইচ্ছার কাছে। ”🌻
আবদুল কালাম ফিরে আসেন তাঁর নতুন কর্মজীবনে, প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানী হিসাবে কাজে যোগ দেন। বাকিটা ইতিহাস .. প্রতিরক্ষায় ভারতবর্ষে তৈরি হলো এক নতুন স্বর্ণযুগের।
ভারত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় পায় আবদুল কালামের বিভিন্ন প্রোজেক্টের মাধ্যমে। প্রাথমিক ভয়-ব্যর্থতা পেরিয়ে তাঁর দেখানো পথে এখনও তৈরি হচ্ছে আমাদের মিসাইল-ক্ষেপণাস্ত্র।
১৯৭৪, ১৮ মে, ভারত প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করে, যার বৃত্ত শেষ হয় ১৯৯৮ সালের ১১ মে ও ১৩ মে, সবটাই আবদুল কালামে'র পরিচালনায়।
২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এগারো-তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত হন ডঃ এ পি জে আবদুল কালাম। ভারতের রাষ্ট্রপতির ইতিহাসে প্রথম একজন চিরকুমার বিজ্ঞানী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি অন্তর্ভূক্ত হন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, তেমন ২০ জন জঙ্গী আসামীর প্রাণভিক্ষার আবেদনে তিনি সাড়া দেননি। প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কঠোর দিক, কুড়িয়েছেন সমালোচনাও।
এ পি জে আবদুল কালাম জীবনে বহু বহু সম্মান লাভ করেছেন। অনন্য প্রাপ্ত স্বীকৃতি হলো প্রায় ৪০-টি বিশ্ববিদ্যালয় হতে 'ডক্টরেট' সম্মাননা লাভ। জাতিসংঘ তাঁকে দেয় আরেক অনন্য সম্মান, তাঁর ৭৯-তম জন্মদিনকে ‘বিশ্ব শিক্ষার্থী দিবস’ হিসেবে ঘোষিত করে। এছাড়াও পেয়েছেন পদ্মভূষন থেকে পদ্মবিভূষন.. ভারতরত্ন আরো কতকি।
'মিসাইল ম্যান' খ্যাত ডঃ এ পি জে আবদুল কালাম, স্বাধীনতার পরে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ও ব্যক্তিত্ব। পরমাণু বিজ্ঞানী থাকাকালীন দিনে ১৮-ঘন্টা কাজ করতেন। অন্যদিকে তিনি অসাধারণ সুন্দর 'বীণা' বাজাতে পারতেন। আবার ছোটবেলায় পিতাকে সাহায্য করতে মাত্র ৫ বছর বয়সে পড়াশোনার সাথে সাথে পত্রিকা বিক্রির কাজও করেছেন।
আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমাদের পক্ষ থেকে রইলো বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি..🌷
♦️তথ্যসূত্রঃ উইংস অব ফায়ার (ডঃ এ পি জে আবদুল কালাম -এর আত্মজীবনী)