Unity of The Bhumij Samaj

Unity of The Bhumij Samaj On this page you will learn about the history and culture of the land society

     Arsa Purulia
12/11/2025


Arsa Purulia

বীর রঘুনাথ সিং অমর রহে
17/02/2022

বীর রঘুনাথ সিং অমর রহে

👉  চূয়াড় বিদ্রোহের মহানায়ক-◑ শহীদ বীর রঘুনাথ সিং এর ২২৮ তম জন্ম জয়ন্তী ◑          =[  শহীদ রঘুনাথ সিং এর পরিচয়  ]=★ রঘুন...
17/02/2022

👉 চূয়াড় বিদ্রোহের মহানায়ক-
◑ শহীদ বীর রঘুনাথ সিং এর ২২৮ তম জন্ম জয়ন্তী ◑
=[ শহীদ রঘুনাথ সিং এর পরিচয় ]=
★ রঘুনাথ সিং পাতর (নয়ন)
★জন্ম : -- ১৭/০২/১৭৯৫
★শহীদ : -- ২৩/০৯/১৮৩৪
★বাল্য/ডাক নাম : -- নয়ন সিং
★পিতা : -- বৈদ্যনাথ সিং
★পিতামহ : -- জগন্নাথ সিং
★জন্মস্থল : -- মালীগড়,দামপাড়া,ধলভূমগড়।
★গোত্র(বংশ) : -- শাণ্ডিল্য।
★মাটি /উক শাশ্মণ/হাড়শালী : -- বেলাবড়মা।
ইতিহাস কথা : ---------
তিন পুরুষ ধরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালান - জগন্নাথ সিং,বৈদ্যনাথ সিং,রঘুনাথ সিং।
১৮০৫ সালের আইন অনুযায়ী "ধলভূম " ইস্টেটকে যদিও জঙ্গলমহল জেলার মধ্যে আনা হয় নি তথাপি ঐ বৎসরেই Regulation XVIII অনুযায়ী ধলভূমের উপর ব্রিটিশদের জমিদারী পুলিশ প্রথা একই ভাবে আরোপিত হয়।
নিজ জমিদারী ফিরে পাওয়ার জন্য ব্রিটিশ বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন বৈদ্যনাথ সিং। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের নির্ভীক নেতা বৈদ্যনাথ সিং এর উত্তরসুরী ছিলেন রঘুনাথ সিং(নয়ন সিং)।
ছোটোবেলা থেকেই রঘুনাথ সিং ছিলেন যেমন শান্ত ও নম্র তেমনি ছিলেন সাহসী ও বিচক্ষণ। পরম ধর্মপরায়ন মাতার কাছে ধর্মের কথা শুনে এবং পিতার কাছে তীর ও তলোয়ার চালানো শিখতে শিখতে তাঁর মনে স্বদেশ প্রেমের জন্ম নেয়।
দামপাড়ার ৬০ টি মৌজার জমিদারী। জামবাদ থেকে শুরু করে ঢাকপাথর,ডাঙ্গাকমল,মুড়াকাটি,চাখদা,চাপড়ি,দীঘা, ঝাঁটিঝরনা ইত্যাদি মৌজা।মাত্র দশ বছর বয়সেই অস্ত্র বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেন।
ধলভূম,মানভূম,সিংভূম,বরাভূম, বীরভূম, তুঁঙ্গভূম এবং শিখরভূম এই সাতভূমে ভূমিজ শাসকের রাজত্বকাল ছিল।
বালক নয়ন সিং একদিন একা বনে ঘুরতে ঘুরতে আচমকা প্রবল ঝড়ের মুখে পড়লেন আত্মরক্ষার জন্য একটা বটগাছের নীচে দাঁড়ালেন। এই সময় তিনি দেখলেন এক অপূর্ব দৃশ্য। ঝড় তুফানের হাত থেকে বাঁঁচবার জন্য ছোটো একটা বটগাছের নীচটাতে এসে মাটির উপর শুয়ে বিরাট পাথর তুলে নিয়ে একটি গুহার মধ্যে প্রবেশ করল। চারিদিকে তখন বজ্রের মতো মেঘ গর্জন, সাথে বিদ্যুতের ঝলক। প্রবল বর্ষন এবং মেঘগর্জন থেমে গেল শান্ত ও সাহসী বালক রঘুনাথ সিং ঐ জায়গাটিতে গিয়ে ঐ পাথরটিকে তুললেন তার শরীর কেঁপে উঠল। শরীরে এক নতুন শক্তি পেলেন। বটগাছের নীচে বনের দেবতা ভৈরব - ভৈরবী বাস করেন। ঐ রাতেই রঘুনাথ সিং স্বপ্নে দেবদেরীর সাক্ষাৎ পান। পরদিন দেবস্থলে পূজা দিলেন। দামপাড়ার ৬০ মৌজার গ্রামবাসীগণও ভৈরব মন্দিরে পূজা দেন। লাল সিং এর সাহায্যে জামবাদ,বুধরায়,সাই,কানিমহলি,ঘন্টিডুবা, যুগতিডি প্রভৃতি জায়গায় গ্রাম আখড়া খুলে যুবকদের তীর ও তলোয়ার চালানো,লাঠিখেলা এবং কুস্তী লড়বার শিক্ষা দিতে লাগলেন। তখনকার দিনে প্রচলিত এই সবকথা দামপাড়া এলাকাজুড়ে এখনো সবার মুখে মুখে ঘোরে। দামপাড়ার "যুবশক্তির জনক" বলা হত রঘুনাথ সিংকে। মায়ের কথা মত কুইলাপালের জমিদার কন্যাকে তিনি বিবাহ করেন।
ইতিমধ্যে ফিরিঙ্গী সরকার ছোটনাগপুরের জমিদারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ঘটশিলায় পৌছে যান ঘাটশিলার জমিদার জগন্নাথ সিং এর সাথেও ব্রিটিশদের চুক্তি হয়। ঘাটশিলার শিবিরে রঘুনাথ সিংকেও ডাকা হয়। চোটনাগপুরের তৎকালীন ইংরেজ শাসক ফার্গুসন ছোটনাগপুর এবং ঘাটশিলার জমিদারদের মতো রঘুনাথ সিংকেও চুক্তিপত্রে সই করতে বললেন। রঘুনাথ সিং ঘৃনাভরে তা প্রত্যাখ্যান করলেন। ফার্গুসনের মুখের উপর তিনি পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিলেন - " দামপাড়া আমার একার নয় ;দামপাড়া সমস্ত দামপাড়াবাসীর এলাকা। এই জন্য আমি একা হস্তাক্ষর করে আপনার দাসত্ব স্বীকার করতে পারি না। তাছাড়া ফিরিঙ্গী সরকারের দাসত্ব আমার পছন্দ নয়।
ফার্গুসন রঘুনাথ সিংকে নানা প্রলোভন দিলেন। তাতেও কাজ না হলে তাঁকে ধমক দেন। অকূতোভয় রঘুনাথ সিং ফার্গুসনের ধমকানিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় না দিয়ে তিনি বলেন 'যদি আমি ফিরে আসি তবে চুক্তি পত্রে হস্তাক্ষর হবে; আর যদি না আসি তবে সিংহের গুহা থেকে ঘুরে আসবেন'। ঘাটশিলার এই ঘটনা পিতৃ বন্ধু লাল সিং কে বলেন রঘুনাথ সিং,শুনে লালসিং এর গর্বে বুক ভরে উঠে এবং আবেগময় কণ্ঠে তিনি বলেন " বেটা তুই দামপাড়ার গৌরব।আমার এটাই তোর উপর গর্ব; তুই যা করেছিস তা ঠিক।আমরা কখনই ফিরিঙ্গী সরকারের আধীনে থাকতে পারিনা ; কোনোমতেই সন্ধি করা যাবে না।যুদ্ধ অনিবার্য, আমাদের তৈরী থাকতে হবে"।রঘুনাথ সিংও সদর্পে বললেন 'জমির কর আমি দেব না ; আর ফর্সা লোকের দাস্ত্বও আমি করব না।যুদ্ধে জিৎ আমাদের হবেই '।
ঘাটশিলায় ইংরেজদের সাথে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ার মূহূর্তেই রঘুনাথ সিং উপলদ্ধি করেছিলেন যে যুদ্ধ অনিবার্য। তিনি তাঁর গর্ভবতী পত্নীকে বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দিলেন। সমস্ত গ্রামবাসীকে যুগতিডি আখড়াতে ডেকে সভা করলেন। ঘাটশিলায় যা ঘটেছে সভায় সব খুলে বললেন। সভায় তিনি বললেন - 'দামপাড়া আমার জন্মভূমি।জন্মভূমি আমাদের মা'।তাই জন্মভূমিকে বাঁচানো মানে মা- কে বাঁচানো।মা কে বিক্রি করে কেউ কোন দিন সুখী হতে পারে না। মাকে রক্ষা করার জন্য তৈরী থাকতে হবে। বিদেশীদের কর আমরা দেব না আর তাদের দাসত্বও স্বীকার করব না। যুগতিডি সভায় পাঁচটি আখড়ার সমবেত সমস্ত শিক্ষার্থী এবং উপস্থিত গ্রামবাসীগণ রঘুনাথ সিং এর কথা শোনার পর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একসাথে গর্জে উঠে শপথ নিলেন মাতৃভূমি দামপাড়া কে রক্ষা করার জন্য শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে তাঁরা লড়বেন। তাঁদের নেতা রঘুনাথ সিং কে বিদেশীরা যাতে আক্রমণ করতে না পারে তার জন্য রঘুনাথ সিং এর বাড়ি আসার রাস্তায় বড় বড় কাঠ পুঁতে দেওয়া হল। দু মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও রঘুনাথ সিং যখন ঘাটশিলায় ইংরেজ শিবিরে গেলেন না তখন ফার্গুসন রঘুনাথ সিং কে বন্দী করার জন্য এক গাড়ি ফৌজ পাঠালেন। বিদেশী ফৌজ ঘাঁটিডুবার বুড়ি বাঁধের ধারে তাদের শিবির স্থাপন করে। শত্রুপক্ষের আগমনের সংবাদ পেয়ে রঘুনাথ সিং তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গীদের সাথে জঙ্গলে আস্তানা বেঁধে শত্রুদের হত্যা করার জন্য ওৎ পেতে থাকলেন। ব্রিটিশ ফৌজ রঘুনাথ সিং এর বাড়ী আক্রমণ করতে এগিয়ে এলে তিনি যোগ্য জবাব দেন ব্রিটিশরা যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে ঘাঁটিডুবার শিবিরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।নিজেদের শিবির রক্ষা করাই ব্রিটিশদের দায় হয়ে দাঁড়াল। কিছু বন্দুকধারী ফৌজকে বুড়ীবাঁধের পাড়ে টহল দিতে বলা হয়। এদিকে রঘুনাথ সিং পাশের একটি বটগাছে লুকিয়ে থেকে বুড়ীবাঁধের পাড়ে টহলরত বন্দুকধারী ফৌজকে এক এক তীরে ধরাশায়ী করতে লাগলেন, কিছু বোঝার আগেই শন্ শন্ ক রে তীর এসে বুকে বিদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল। বুড়ীবাঁধের পাড় থেকে সাদা চামড়ার সাহেবদের লাল রক্ত গড়িয়ে নেমে পুকুরের জলকে রক্ত বর্ণ করে দিল। ব্রিটিশ ফৌজের দেশী লাঠিয়ালরা সবকিছু বুঝতে পেরে পালাতে শুরু করল। শিবির থেকে সমস্ত ফৌজ পুকুর পাড়ে বেরিয়ে পড়ল এবং একে অপরকে জিঞ্জাসা করতে লাগল - এসব কে করছে ? রঘুনাথ সিং এর অব্যর্থ তীর তখনো সমানভাবে ছুটে আসছে এবং এক এক ফিরিঙ্গী "হায় গড" বলতে বলতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে রঘুনাথ সিং এর বাহিনীর লোকেরাও কাছে এসে চারদিক থেকে ব্রিটিশ ফৌজকে ঘিরে ফেলে। এই লড়াইয়ে রঘুনাথ সিং এর একজন বল্লমধারী মারা যান। ফার্গুসনের ভাগ্নে বিদ্রোহীদের বর্শার আঘাতে প্রাণ দিলেন। ইতিমধ্যে বিদিশী ফৌজদের নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায় এবং তারা শিবির ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। রঘুনাথ সিং তাঁর সঙ্গী সাথীদের সাথে এসে "পড়ে ডেরা "নামক জায়গায় ব্রিটিশ ফৌজকে পুনরায় ঘিরে ফেলেন এবং ধরে ধরে তাদের কেটে কেটে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে থাকেন। ফর্সা লোকেদের মানভুঞা ভাষায় বলা হয় "পেঁড়কা"। এই কারনে ফর্সা লোকেদের কাটা হয়েছিল বলে ঐ এলাকার নাম হয় - "পেঁড়েডেরা"। আর ব্রিটিশদের মুণ্ডুকাটা জায়গাটির নাম হয় - "মুড়াকাটা"। এই যুদ্ধে ফার্গুসনের বাহিনী সম্পূর্নভাবে রঘুনাথ সিং এর কাছে পরাজিত হয়ে যায়। প্রতিশোধ নেবার জন্য ফার্গুসন বার বার অভিযান পাঠিয়েও রঘুনাথ সিংকে কাবু করতে পারে নি। অথচ সারা সিংভূম এবং ধলভূমে ব্রিটিশপ্রভাবকে অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে রঘুনাথ সিংকে পরাজিত করে বন্দী করাটা ছিল অত্যন্ত জ রুরী। ফার্গুসন এবার নুতন ফন্দি আঁটলেন। যুদ্ধের পথ ছেড়ে দিয়ে দেশী ফৌজদের সাহায্য নিয়ে রঘুনাথ সিং এর কুটুম্ব-বন্ধু এবং তাঁর শত্রুদের বেড়াদার শিবিরে আনলেন। গোবরঘুটির তৎকালীন জমিদার তরণী সিং ছিলেন রঘুনাথ সিং এর মামা। ফার্গুসন গোবরঘুটি থেকে তাঁকেও বেড়াদাতে আনিয়ে তাঁর সাথে বন্ধুত্ব করলেন। তরণী সিং যদি তাঁর ভাগ্নে রঘুনাথ সিং এর গোপন ডেরার সন্ধান দেন এবং রঘুনাথ সিংকে ফার্গুসনের কাছে কৌশলে হাজির করেন তা হলে তরণী সিংকে আর কোনদিন কীন খাজনা দিতে হবে না, আর তা না করলে তার জমিদারী বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হবে। তরণী সিং ফার্গুসনের প্রস্তাবে রাজী হ য়ে যান। বিশ্বাসঘাতক তরণী সিং দামপাড়া গিয়ে জমিদার রঘুনাথ সিং এর বাড়ী গিয়ে তার দিদি এবং ভাগ্নে রঘুনাথ সিংকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে গোবরঘুটি নিয়ে যান। ফার্গুসন খবর পাওয়া মাত্র সেই রাতেই গোবরঘুটির জমিদার বাড়ী ঘেরাও করে রঘুনাথ সিংকে বন্দী করেন।অনেকের মতে রঘুনাথ সিং তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তাঁর বুকের উপর টাড়া দিয়ে তাঁকে ধরা হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের করুন কাহিনী গানের আকারে এখনো গোবরঘুটি এবং দামপাড়ার মানুষের মুখে মুখে ঘোরে।
"বড় ভেদে গো/নয়ন সিং এর বুকে দিল টাড়া।
দু - নয়নে বহে ধারা"।
যাইহোক রঘুনাথ সিং এবং তার মাকে বন্দী করে নিয়ে আসা হল ব্রিটিশ ঘাঁটি বেড়াদায়। ঘরের মধ্যে সাতদিন বন্ধ করে রঘুনাথ সিংকে প্রচণ্ড মার দেওয়া হল। তথাপি তিনি দাসত্ব স্বীকার করলেন না। অবশেষে তাঁকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে জিঙ্গাসা করা হল - "নয়ন সিং তোমার এখন কেমন লাগছে"।রঘুনাথ সিং সদর্পে উত্তর দিয়েছিলেন - " এটা আমার রোজকার কুস্তির মতন ফার্গুসন,এতে আমার কিছু হবার নয় "। এরপর রঘুনাথ সিংকে খাবার এবং জল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হল এবং চারটি মহিষের দ্বারা তাঁকে টানানো হল। নয়ন সিং প্রাণ ত্যাগ করলেন তবুও বিদেশী গোলামী স্বীকার করলেন না। নয়ন সিং এর মাকে ছেড়ে দেওয়া হল। বিদেশী ফৌজের দল ততদিনে নয়ন সিং এর বাড়ি এবং শিবমন্দিরে আগুন লাগিয়ে দিয়ে সবকিছুকে অপবিত্র করে দিয়েছে। বুড়িমা ফিরে এসে আর ঘর দেখতে পেলেন না। রঘুনাথ সিনফ একদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন -" জন্মভূমিকে বাঁচানো মানে মাকে বাঁচানো -- মাকে বিক্রী করে কেউ সুখী হতে পারে না "--- নিজের জীবন দিয়ে তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণ করে গেলেন।
👉 শহীদ বীর রঘুনাথ সিং অমর রহে।।

12/02/2022
2012 সালে 12 ফেব্রুয়ারি আজকের দিনে মাননীয়া রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিল সাক্ষরতাই আদিবাসী ভূমিজ সমাজের বিদদিরি প্রত...
12/02/2022

2012 সালে 12 ফেব্রুয়ারি আজকের দিনে মাননীয়া রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিল সাক্ষরতাই আদিবাসী ভূমিজ সমাজের বিদদিরি প্রতীকের স্বীকৃতি পায় ।

বিদদিরি দিবস
বিদদিরি জিয়াদগে জিয়াদগে
বিদদিরি জিয়াদগে জিয়াদগে

মা মাকড়াইসিনি ভূমিজ লায়া  পূজা করেন ।স্থান - দেওলি,হিড়বাঁধ ,বাঁকুড়া।
22/01/2022

মা মাকড়াইসিনি
ভূমিজ লায়া পূজা করেন ।
স্থান - দেওলি,হিড়বাঁধ ,বাঁকুড়া।

আদিবাসী ভূমিজ সম্প্রদায় এর পূজাস্থল  - গরাম থান ,আদিবাসী  ভূমিজ  এর লায়া   দিয়ে পূজা করেন।
16/01/2022

আদিবাসী ভূমিজ সম্প্রদায় এর পূজাস্থল - গরাম থান ,
আদিবাসী ভূমিজ এর লায়া দিয়ে পূজা করেন।

30/12/2021

অযোধ্যা Hill Tope সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভূমিজ সমাজ

আদিবাসী প্রকৃতি পূজারী শান্তি প্রিয় জাতি🕊️🏵️🏵️
21/11/2021

আদিবাসী প্রকৃতি পূজারী শান্তি প্রিয় জাতি🕊️🏵️🏵️

ভূমিজ বিদ্রোহ (১৮৩২-৩৩) এর মহানায়ক শহীদ বীর গঙ্গানারায়ণ সিং।লিখেছেন – তপন কুমার সরদার (শিক্ষক)।★পরিচিতি ★◑ জন্মঃ- ২৫ শ...
20/11/2021

ভূমিজ বিদ্রোহ (১৮৩২-৩৩) এর মহানায়ক শহীদ বীর গঙ্গানারায়ণ সিং।

লিখেছেন – তপন কুমার সরদার (শিক্ষক)।

★পরিচিতি ★

◑ জন্মঃ- ২৫ শে এপ্রিল ১৭৯০

◑ শহীদঃ- ০৭ ই ফেব্রুয়ারি ১৮৩৩

◑ নামঃ- গঙ্গানারায়ণ সিং (ভূমিজ)

◑ পিতাঃ- লক্ষণ সিং

◑ মাতাঃ- মমতা সিং

◑ জন্মস্থানঃ- বাঁধডি(নিমডি,ঝাড়খণ্ড)

◑ গোত্রঃ – জাড়ু

◑ উক শ্মশানঃ- আমঝোর(জাড়ুখোল)

◑ এলাকায় পরিচিত নামঃ-সিংহাসুর

◑ আন্দোলনের নামঃ- ভূমিজ বিদ্রোহ(১৮৩২-৩৩)

◑ বিশেষ নামঃ- গঙ্গানারায়ণ হাঙ্গামা(১৮৩২-৩৩)

◑ বাহিনীর নামঃ- সরদার বাহিনী

◑ আন্দোলন ক্ষেত্রঃ- সমগ্র জঙ্গলমহল(১৮০৫)

👉 ইতিহাসে উপেক্ষিত শহীদ বীর গঙ্গানারায়ণ সিং :-

১৭৬৭-১৭৯৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চুয়াড় (ভূমিজ সম্প্রদায়) বিদ্রোহের ভয়াভয়তা লক্ষ করে শঙ্কিত ব্রিটিশ সরকার ১৮০৫ সালে “জঙ্গলমহল” জেলা গঠন করে। ছোটনাগপুর, ঝাড়খণ্ড, জঙ্গলমহল, মানভুমই হোক না কেন এই জঙ্গলময় এলাকার ইতিহাস এক গৌরবময় ইতিহাস। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের যে রক্তাক্ত ইতিহাস তার প্রথম সূত্রপাত জঙ্গলমহলের বরাভুম এলাকাতেই। এই এলাকার সমস্ত রাজারাই ছিলেন স্বাধীন, নয়ত অর্ধ স্বাধীন। জঙ্গলমহল জেলার সর্ববৃহৎ অংশ ছিল বরাভুম। পশ্চিমে পাতকুম, দক্ষিণ পশ্চিমে ছিল সিংভুম, দক্ষিণে ছিল ধলভুম, পূর্বে ছিল কুইলাপাল এবং মানভুম, উত্তরে ছিল পাঁচেৎ। ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত এর প্রায় সমস্ত সীমান্তই ছিল ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত।

বরাভুম রাজ পরিবার ঐতিহ্যগত উৎপত্তি পাতকুম রাজ পরিবার এবং এর পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বিক্রমাদিত্যের নামের সাথে নিবিড় ভাবে সম্পর্ক যুক্ত। (Ď.G.Manbhum 204, Story of NathVaraha & Ked Varaha)

পশ্চিম সিংভুম এর পটমদা থানায় রুপসান নামে গ্রামে রুপসান ডুংরী। এর উত্তরে রুপসান নদী ও লাউজোড়া, পশ্চিমে চিরুডি, দুঁদু ও বড়াম, দক্ষিণে বঁগই ও বেলডি, পুর্বে গটডি ও পাইনদা। বরাভুম রাজ পরিবারের প্রথম দুই যমজ সন্তান “নাথ বরাহ ও শ্বেত বরাহ বা কেশবরাহদেব একটি বরাহ কর্তৃক এই রুপসান ডুংরীতেই তার দুধ খেয়ে প্রথম প্রতিপালিত হয়েছিলেন। এই কারনেই পরগনাটির নাম “বরাভুম”।

এই বরাভুমের রাজ পরিবারের চল্লিশতম রাজা ছিলেন রাজা বিবেকনারায়ন। তিনিই ছিলেন এই রাজ বংশের শেষ স্বাধীন রাজা। ১৭৬৭ সালে চুয়াড় বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৭৭৫ সালে গৃহত্যাগ করেন। জোষ্ঠ পুত্র রঘুনাথ নারায়ণ কে সিংহাসনে মনোনীত করে গেলেও এই সময় থেকেই মূলতঃ একদিকে ব্রিটিশ উস্কানি এবং আর একদিকে ভূমিজ রীতিনীতির জটিলতায় শুরু হয়ে যায় এক দীর্ঘ কোন্দল। রাজা বিবেকনারায়ণের দুটি বিবাহ। প্রথম বিবাহে ছেলে লক্ষণ সিং (লছমন সিং) এবং দ্বিতীয় বিবাহের ছেলে রঘুনাথ নারায়ণ।

আদিবাসী ভূমিজদের নিয়মমতো প্রধানা বা পাটরানীর পুত্র, তিনি প্রথম জাত হোন বা নাই হোন, তিনিই হবেন পরবর্তী জমিদার বা রাজা। রঘুনাথ নারায়ণ যদিও ছিলেন অগ্রজ কিন্তু তিনি ছিলেন রাজার কনিষ্ঠা রানীর পুত্র আর এ কারনে সিংহাসনের প্রতি তাঁর দাবী ছিল অযৌক্তিক। বয়সে ছোট হলেও স্থানীয় নিয়ম নীতি সবকিছুই ছিল লক্ষন সিং এর অনুকুলে। কিন্তু স্থানীয় ভূমিজ আইন এবং জনসাধারনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও উত্তরাধিকারের সংগ্রামে লক্ষন সিং শেষপর্যন্ত পরাজিত হন কারন ব্রিটিশ রাজশক্তি ছিল রঘুনাথ নারায়নের অনুকুলে। যাই হোক উত্তরাধিকারের নাহ্য দাবী থেকে বঞ্চিত করে লক্ষন সিং কে বরাভুম পরগনারই দক্ষিনে বাঁধগড় (বর্তমানে বাঁধডি) নামক অঞ্চলের জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। লক্ষন সিং এই বাঁধগড়েই গড় নির্মান করে বসবাস শুরু করেন। ব্রিটিশ বিরোধিতার জন্য তাঁকে মেদিনীপুরের কারাগারে বন্দী করা হয় এবং ফার্গুসনের অত্যাচারে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

★ জন্ম ও বাল্যকাল ★

১৭৯০ সালের ২৫ শে এপ্রিল বাঁধগড় বা বাঁধডি নামক জায়গাতেই গঙ্গানারায়নের জন্ম। এই বাঁধডি জায়গাটি বর্তমানে নিমডি (ঝাড়খণ্ড) থানার অন্তর্গত। এর পূর্বে ডাহুবেড়া, খখর, গুমানডি, লংকাডুংরী, কুইয়ানি, বাঘরা, পশ্চিমে ফাঁগড়া, নিমডি ও রঘুনাথপুর, উত্তরে বনকাটি, সামানপুর, জাইড়াপাহাড়, বামনী, চেলিয়ামা ও রাইডি, বেড়াদা, দক্ষিনে পোড়াডি, কদমঝোর, মাকুলা ও মাকুলার জঙ্গল। চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা, পাশেই দলমার দুর্গম পর্বত শ্রেণী। এমন পরিবেশেই বীর গঙ্গানারায়ণ সিং জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে তাঁকে খুশি রাখার জন্য ইংরেজদের প্ররোচনায় তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই রঘুনাথ নারায়ণ তাঁকে বাঁধডি গ্রামের জায়গীর দিয়ে তা দেখাশুনার দায়িত্ব দেন। এজন্য গঙ্গানারায়ণ কে বলা হত বাঁধডি গ্রামের ঘাটোয়াল। মাতা বিনম্র এবং ধর্ম পরায়না মহিলা হলেও কট্টর ইংরেজ বিরোধী ছিলেন। বীর গঙ্গানারায়নকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়বার অনুপ্রেরণা দিতেন। গঙ্গানারায়ণ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ইংরেজদের শাসন ও শোষন নিতির বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন।

প্রচণ্ড বিক্রমের জন্য পাতকুমের লোকেরা গঙ্গানারায়ণ কে বলতেন “সিংহাসুর”। তাঁর মন্ত্রী ছিলেন গোপীনাথ সিং, আর দুই তাঁর প্রধান সেনাপতিদ্বয় ছিলেন জিরপা সিং লায়া বা জিলপা সিং লায়া ও কিষণ সিং।

★ ইংরেজদের সঙ্গে বিরোধের কারণঃ———

রাজার দেওয়ান সুচতুর এবং ধড়িবাজ মাধব সিং একথা উপলব্ধি করেছিলেন যে, ব্রিটিশদের সাথে প্রতিরোধ গড়া নিরর্থক। বরঞ্চ ব্রিটিশদের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে আখেরে অনেক লাভ। তিনি গঙ্গানারায়ণকে ব্যক্তিগত শত্রু মনে করে “পঞ্চ সর্দারী” তরফের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছিলেন। এছাড়া গঙ্গানারায়ণ একবার মাধব সিং এর কাছে স্ত্রী পুত্রকে রেখে ভ্রমণে যান, ফিরে এসে দেখেন মাধব সিং তাঁর (গঙ্গানারায়ণের) স্ত্রী, পুত্রকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে মাধব সিং এর উপর ক্ষুদ্ধ হন।

মাধব সিং সুদের কারবার এবং অন্যান্য আগ্রাসী কাজ কারবারের জন্য তিনি ছিলেন উপজাতিদের কাছে ঘৃনার পাত্র। বুদ্ধিবৃত্তিতে শ্রেষ্ঠ হলেও সুচতুর মাধবসিং তাঁর এই বুদ্ধিকে কেবলমাত্র নিজের ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত ধনসম্পদ বাড়াবার কাজে ব্যয় করেন। অন্যদিকে গঙ্গানারায়ণ তাঁর অপূর্ব সাংগঠনিক দক্ষতার জোরে সমস্ত উপজাতিদের মন জয় করেন।

এই সমস্ত কারনে মাধব সিং গঙ্গনারায়নের ব্যক্তিগত শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। এই অত্যাচারী এবং সুচতুর মাধব সিং আবার ছিলেন ইংরেজদের মদতপুষ্ঠ। ইংরেজদের প্ররোচনাতেই গঙ্গানারায়ণকে “পঞ্চ সর্দারীর” অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন। এছাড়াও (১) কোম্পানীর উচ্চ হারে রাজস্ব। (২) ইংরেজদের জমি নীলাম প্রথা। (৩) জমি বিক্রয় আইন। (৪) দারোগা প্রথা। (৫) জঙ্গল কানুন। (৬) লবন কর প্রভৃতি কারনেও গঙ্গানারায়ণ ইংরেজদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।

★ বিদ্রোহের সূচনাঃ——–

ইংরেজদের মদতপুষ্ঠ অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর মাধব সিং কে হত্যার মধ্য দিয়েই জ্বলে উঠেছিল বিদ্রোহের আগুন। দিনটি ছিল ১৮৩২ সালের ২৬ শে এপ্রিল। মাধব সিং চাণ্ডিলের কাছাকাছি শিরকা থেকে বামনীর রাস্তা দিয়ে বরাবাজারে গিয়েছিলেন। পথিমধ্যে বনডি এবং পলাশডির মাঝে “নাকটি থান” নামক জায়গায় গঙ্গানারায়ণ মাধব সিং কে হত্যা করেন।

এরপর গঙ্গানারায়ণ তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ১৮৩২ এর ১লা মে বরাবাজারের মুনসিফ কাছারি লুঠ করেন, কোর্ট জ্বালিয়ে দেন। ভয়ে ভীত জমিদার গঙ্গাগোবিন্দ কোন উপায় না পেয়ে গঙ্গানারায়নের সমস্ত দাবী মেনে নিয়ে তাঁকে “পঞ্চ সর্দারীর” মালিকত্ব ফিরিয়ে দেন। এছাড়া গঙ্গানারায়নকে মাসোহারা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পরদিনই গঙ্গানারায়ণ নিজ বীরত্ব প্রদর্শন করে বরাবাজারের পুলিশ থানা ভস্মীভূত করেন।

স্থানীয় ইংরেজ সৈন্যদের পক্ষে এরুপ সশস্ত্র সংঘর্ষের মোকাবিলার মত সামর্থ ছিল না। ইংরেজ সেনাপতি রাসেল বাঁকুড়ায় থাকতেন এবং তাঁর কাছে কোন বড় ধরনের সামরিক বাহিনীও ছিল না। অন্যদিকে বর্ধমানের কমিশনার ব্রাডন অসুস্থ ছিলেন। কাজেই রাসেল সর্বপ্রথম আলোচনার দ্বারা বিদ্রোহীদের সাথে মীমাংসার পক্ষপাতী ছিলেন এবং তদনুসারে ঘটোয়ালদের উদ্দেশ্যে পরোয়ানা জারী করে যুদ্ধ বিরতির আবেদন জানান। এই সময় গঙ্গানারায়ন ও তাঁর সৈন্যরা কোম্পানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পাহাড় জঙ্গলে আত্মগোপন করে প্রস্তুত হন। এবিষয়ে ডেন্ট কোলকাতার ইংরেজ আধিকারিকদের জানান যে, “প্রায় প্রতিটি ভূমিজ, ঘাটোয়াল এবং রায়ত নির্বিশেষে গঙ্গানারায়নের দলে যোগদান করেছে। গঙ্গানারায়ণ ঘোষণা করেছেন যে তিনি দেশের সমস্ত পুলিশ থানাগুলি সূদুর বেনারস রোড পর্যন্ত ধবংস করে ফেলবেন।” ধলভূম, রাইপুর, সুপুর, অম্বিকানগর, কুইলাপাল, ধাদকা, দামপাড়া প্রভৃতি পরগনার জমিদারদের সাথে আত্মীয়তা ছিল তাঁদের সকলের সাহায্য নিয়ে।

★ গঙ্গানারায়নের অভিযানঃ————–

রাসেল পুঞ্চায় কয়েকদিন থাকার পর ৭ ই মে বরাবাজারে পৌছান। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে বিদ্রোহী ভূমিজদের সাথে আলোচনা করতে চাইলেও তারা কেউ তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি। আলোচনার কোন আশা নেই দেখে পুনরায় ১৩ ই মে দূতের দ্বারা গঙ্গানারায়ণকে বার্তা দিয়ে আলোচনায় অগ্রসর হওয়া। ইতিপূর্বে ১২ ও ১৩ ই মে বিদ্রোহীরা যুদ্ধের নাকড়ার প্রতিধবনি ও বন্ধুকের গর্জন রাসেল তাবু থেকে শুনতে পান। ১৪ ই মে গঙ্গানারায়নের বাহিনী রাসেলের তাবু ঘিরে ফেলে। এই যুদ্ধে লেফটনান্ট ম্যাকডোনাল্ড বাহিনী বিদ্রোহী বাহিনীকে তাড়িয়ে দেয়। বহু লোক মারা যায়। ইতিমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টর রাসেল গঙ্গানারায়নকে বিদ্রোহী বলে ঘোষণা করেন এবং তাঁকে জীবিত অথবা মৃত ধরে আনার জন্য প্রথমে ১,০০০/- (এক হাজার) এবং পরে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা পুরস্কার ঘোষনা করেন। আবহাওয়াজনিত কারণ এবং রোগের ভয়ে কিছু ইংরেজ সেনা প্রত্যাহৃত হলেও ২ রা জুন মার্টিনের নেতৃত্বে এক বিশাল বাহিনী বিদ্রোহীদের মূল আস্তানা বাঁধডি অভিমুখে যাত্রা করেন। ৪ঠা জুন মার্টিনের বাহিনীর উপর তীর বর্ষন শুরু হয় এবং ১৯ জন সিপাহী ঘায়েল হন। ইংরেজ বাহিনীর খাদ্য সামগ্রী গঙ্গানারায়নের বাহিনী লুট করে নেয়। প্রচন্ড গরম এবং বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ী এলাকায় ব্রিটিশ বাহিনী ব্যতিব্যস্ত হয়ে যায়। ব্যর্থ হয়ে বরাবাজারে পালিয়ে আসেন মার্টিন ও কমিশনার কে লেখেন “বৃষ্টির কারনে সেনা তুলে নেওয়া হয়েছে।” ক্যাপ্টেন ইম্পে, লেফঃগ্রাহাম এবং লেফঃউইলসন অসুস্থার কারনে কিংবা ভয়ে ছুটি নিয়েছিল।

২৫ শে জুলাই গঙ্গানারায়ন কুইলাপালের জমিদার বাহাদুর সিং এর সাহায্য নিয়ে প্রায় এক হাজার বিদ্রোহী সমেত পুঞ্চাতে ইংরেজদের আক্রমন করেন। ২৬ শে জুলাই একই ভাবে তিন হাজার বিদ্রোহী নিয়ে তিনি সুপুর, রাইপুর পরগনায় ইংরেজদের আক্রমন করেন। অম্বিকানগর থানা পুড়িয়ে দেন। লড়াই এর দিন গুলিতে অম্বিকানগর, আঁকরো, সুপুর, ফুলকুশমা, শ্যামসুন্দরপুর, কুইলাপাল, রাইপুর, ধলভুম প্রভৃতি এলাকার জমিদারও গঙ্গানারায়নের পাশে দাঁড়ান।

পরবর্তীকালে ভূমিজদের এই দুর্ধর্ষ বাহিনী জঙ্গলমহলের বাগদা পরগনা, শিলদা ও কুইলাপালের ভূমিজেরাও যোগদান করেন। বাঁকুড়া থেকেও কোন পুলিশ বাহিনী এই বিদ্রোহী ভূমিজদের দমনের জন্য পাঠান হয়নি। কাজেই এই মুহুর্তে গঙ্গানারায়ণকে বাধা দেওয়ার মত সামর্থ কারও ছিল না।

ইংরেজ বাহিনীর এরুপ দুর্বলতা ও অব্যবস্থার ফলে গঙ্গানারায়নের ক্ষমতা ও ঔদ্ধত্য ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সমগ্র জঙ্গলমহল অতিক্রম করে গঙ্গানারায়ণ মেদিনীপুর জেলার মদগ্যে প্রবেশ করলে শিলদা, বলরামপুর ও প্রতিবেশী পরগনাগুলিতে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মেদিনীপুর থেকে অভিযান প্রতিরোধের চেষ্টা হয়। গঙ্গানারায়নের বাহিনী রঘুনাথ সিং এর নেতৃত্বে বাহিনী বরাবাজারের দিকে যাত্রা করে। ফলে বিদ্রোহী ভূমিজেরা বরাভুমের উত্তরে পঞ্চকোট জমিদারীতে হানা দেয়। গঙ্গানারায়নের আগমনে বিদ্রোহী ভূমিজ বাহিনী বিনা বাধায় গোপালনগর, পুঞ্চা ও বাগদা আক্রমণ করে।

বরাভুম এবং কাশীপুর পরগনাতে, বেড়মার ঘাটোয়াল সর্দারদের সাহায্য নিয়ে বলরামপুর, আদাড্ডিতে, বড়চাতরমায় ইংরেজ বাহিনীর সাথে গঙ্গানারায়নের সংঘর্ষ হয়। অন্যদিকে ইংরেজ বাহিনী বলরামপুর থেকে বরাবাজার, বরাবাজার থেকে বেড়াদা এবং অপরটি ধাদকা থেকে আমচুড়ি পর্যন্ত দুটি অভিযান চালান। দুটি অভিযানই ছিল বরাভুমের গঙ্গানারায়ণ এবং ধলভুমের রঘুনাথ সিং এর বিরুদ্ধে।

১৮৩২ এর সারা ডিসেম্বর মাস ধরে চলতে থাকে ব্রিটিশ তান্ডব। রায়ডি এবং দিগারডি গ্রাম দুটি পুড়িয়ে দেয়। বেঁড্যাডি এবং বেড়াদায় ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। বাঁধডি এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়গুলিকে ইংরেজ ফৌজ ঘিরে রাখলে গঙ্গানারায়ণ গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। ইংরেজ বাহিনী দলমা পাহাড় ঘিরে রাখে। এই সময় গঙ্গানারায়ণ সিংভুমে আশ্রয় নেয়।

এই সময় ইংরেজ বাহিনী বিদ্রোহীদের দমনের প্রস্তুতি নেয়। সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকার বিদ্রোহী নেতাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। ডেন্টের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী গঙ্গানারায়নের প্রধান সমর্থক ও বিদ্রোহীনেতা জিরপা লায়াকে আক্রমণ করে। ইংরেজ বাহিনী বিদ্রোহীদের প্রধান কেন্দ্রস্থল বেড়াদা গ্রামটি ধবংস করেন। পাতকুম নিবাসী ভূমিজ বিদ্রোহী তুলশী দিগার ও বেড়া সিং এর গ্রাম ধবংস করে।

আক্রমণের পরিকল্পনা অনুসারে ইংরেজ বাহিনীকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। ১৮৩৩ সালের ২ রা ফেব্রুয়ারি ভূমিজ বিদ্রোহের বেশ কিছু নেতা নিহত হয়। ইংরেজ বাহিনীর এরুপ সমরসজ্জা ও ক্রমাগত জয়লাভের মাঝে হঠাৎ ৭ ই ফেব্রুয়ারি গঙ্গানারায়নের মৃত্যু সংবাদ আসে। সিংভূমে পালিয়ে যাওয়ার সময় খরসোয়ান এর ঠাকুর চৈতন সিং এর সেনাদের দ্বারা নিহত হন।

গঙ্গানারায়ণ সম্পর্কে ইংরেজরা এতই ভীত ছিল যে তাঁর জামাতা, অনেক আত্মীয় সহ একশত লোক দ্বারা তারা গঙ্গানারায়নের ছিন্ন মস্তকটি সনাক্ত করেছিলেন।

মনে রাখতে হবে এ লড়াই গঙ্গানারায়ণ সিং এর সঙ্গে সুপুর, শ্যামসুন্দরপুর, শিলদা, কুইলাপাল, দামপাড়া, ধলভুম, ধাদকা, রাইপুর এলাকার রাজা, জমিদার এবং জাতি উপজাতি নির্বিশেষে সমস্ত শোষিত মানুষ একযোগে অত্যাচারী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গঙ্গানারায়নের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আজ গঙ্গানারায়ণ নেই, তাঁর নির্মিত গড় রাজাঘুটার ইঁট, পাথরের ঢিপিতে পরিনত, কিন্ত দলমার কোলে কোলে আবাল বৃদ্ধবনিতা সবার মুখে মুখে এখনো ঘোরে তাঁর বীরগাথা। আর তাঁর স্মৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে সেই সাতখাটিয়া, ধান আড়াল, গঙ্গাজুইড়া আর চামু ডুংরী।

যাইহোক এই ভূমিজ বিদ্রোহের ফলে যৌথ কমিশনার ডেন্টের প্রস্তাব অনুসারে জঙ্গলমহল জেলাকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়। ১৮৩৩ সালের ১৩ নং রেগুলেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেনপাহাড়ি, শেরগড় ও বিষ্ণুপুর অঞ্চল কে বর্দ্ধমানের সাথে যুক্ত করা হয় এবং মানবাজারকে সদর-দপ্তর ঘোষণা করে নতুন মানভুম জেলার সৃষ্টি হয়। এই নতুন মানভুম জেলা সুপুর, রাইপুর, অম্বিকানগর, ছাতনা, শিমলাপাল, মহেশ্বরা, ভেলাইডিহা, ফুলকুশমা, শ্যামসুন্দরপুর, ধলভুম, বরাভুম, বেগুনকোদর, বাঘমুন্ডি, হাসলা, ঝালদা, ঝরিয়া, নোয়াগড়, কাশীপুর, কুইলাপাল,পাতকুম, তোড়াং এবং মানভুম (মানবাজার) নিয়ে গঠিত হয়। ১৮৩৩ সালে এই নতুন জেলা গঠনের সময় বাঁকুড়া শহরও মানভুমের অন্তর্গত ছিল, কিন্তু ১৮৩৪ সালে বাঁকুড়া শহরকে বর্দ্ধমানের সাথে যুক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত মানভুম জেলার পূর্ব্বাংশ নিয়ে ১৮৮১ সালে এক নতুন জেলা রুপে বাঁকুড়া আত্মপ্রকাশ করে।

মূল সূত্রঃ ভূমিজ রিভোল্ট – জগদীশ চন্দ্র ঝা।

মানভুমে চুয়াড় বিদ্রোহ -সুভাষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়।

মানভুম কথা ও অন্যান্য গুনিজনের সাহায্য নিয়ে।

🌾জোহার।। জয় ভূমিজ।। জয় আদিবাসী।। জয় ভারত🌾

Address

Purulia
723101

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Unity of The Bhumij Samaj posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share