03/10/2026
আজ জিতাষ্টমী
ব্রতকথা :
লোককথা অনুযায়ী, এক বনে একটি শিয়াল ও একটি শকুনি বাস করত এবং তারা দুজনে খুব ভালো বন্ধু ছিল। একবার তারা নারীদের জিতাষ্টমী বা বড় ষষ্ঠীর ব্রত ও উপবাস পালন করতে দেখে নিজেরাও সেই ব্রত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সারাদিন উপোস করার পর রাতের বেলা শিয়ালটি খিদে সহ্য করতে না পেরে চুপিচুপি শ্মশানে গিয়ে মড়া বা খাবার খেয়ে ফেলে। কিন্তু শকুনিটি শত কষ্ট সত্ত্বেও নিজের ব্রত ও উপবাস ভঙ্গ করেনি। এই ব্রতের পুণ্যফলের কারণে পরবর্তী জন্মে তারা দুই বোন (সতীন) হিসেবে রাজপরিবারে বা ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। যে শকুনি ছিল, সে তার নিষ্ঠার কারণে অনেক সুস্থ ও দীর্ঘজীবী সন্তানের মা হয়; আর নিয়ম ভঙ্গ করার অপরাধে শিয়ালের সন্তানরা বারবার মারা যেত বা নানা কষ্টের সম্মুখীন হতো। পরে সে তার ভুল বুঝতে পেরে আবার নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করে।
লোকসংস্কৃতিতে শেয়াল এবং শকুনিকে মৃতভোজী প্রাণী বা অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও, এই ব্রতে তাদের বিশেষভাবে সন্তুষ্ট করার নিয়ম রয়েছে।
বিশ্বাস করা হয় যে, জীমূতবাহন দেবের পূজার পাশাপাশি এই দুই লৌকিক রূপকে ভক্তি ভরে পূজা করলে সন্তানের ওপর থেকে সমস্ত অশুভ দৃষ্টি ও বালাই দূর হয়ে যায়।
পূজার স্থানে সাধারণত ঘট বা মাটির মূর্তির পাশে ধান, হলুদ গাছ, কালোকচু ও বটের ডাল রাখা হয়।
পূজার পরের দিন সকালে ব্রত উদযাপনের পর মাটির তৈরি শেয়াল ও শকুনির মূর্তিগুলো পুকুরে বা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের সময় শসা কামড়ে ডুব দেওয়া হয়। রাঢ় বাংলায় মায়েরা ও শিশুরা একটি বিখ্যাত ছড়া কাটেন:-
"শিয়াল গেল খালকে, শকুনি গেল ডালকে।
ও শিয়াল কাঁদিস না, লোক হাসিটা করাস না