02/09/2026
জনসংযোগ: শিলচর. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
“প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক পরিষেবাই শিলচরকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও নাগরিককেন্দ্রিক শহরে পরিণত করবে”: মন্ত্রী কৌশিক রায়;
PFC, GPS-ভিত্তিক যানবাহন ট্র্যাকিং এবং QR-ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উদ্বোধন মন্ত্রীর;
মেহেরপুরে চালু হল বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট
শিলচর, ২রা সেপ্টেম্বর: --অসম সরকারের খাদ্য ও গণবণ্টন, আবাসন ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায় বুধবার বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক পরিষেবা, উন্নত নগর পরিকাঠামো এবং নাগরিকদের আরও বেশি অংশগ্রহণ এই তিনের সমন্বয়েই শিলচরকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিককেন্দ্রিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
শিলচর পুর নিগম (SMC)-এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, শিলচর পুর নিগমের পরিধি সম্প্রসারণের ফলে এর আওতাধীন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৯৬ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার হয়েছে। ফলে শহরের ক্রমবর্ধমান নাগরিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিক পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ দিন শিলচর পৌর নিগমের প্রাঙ্গণে পাবলিক ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার (PFC), GPS-ভিত্তিক পুর-যানবাহন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং QR-ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি মেহেরপুর ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট ( ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট FSTP)-এরও উদ্বোধন করেন তিনি।
নতুন ব্যবস্থাগুলির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, QR-ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা পুরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। প্রতিটি বাড়ির জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয়-ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে পুর কর্তৃপক্ষ বাড়িগুলির তথ্য সুনির্দিষ্ট ভাবে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটিও আরও কার্যকর ভাবে নজরদারি করতে পারবে।
তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুর কর্তৃপক্ষ সম্পত্তি কর, ট্রেড লাইসেন্স এবং জল সরবরাহ-সংক্রান্ত পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিষেবা ও বকেয়া যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তাও নজরে রাখতে পারবে। তাঁর বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির ব্যবহার এমন হওয়া উচিত, যাতে পুর প্রশাসন নাগরিকদের কাছে আরও সহজলভ্য এবং তাঁদের প্রয়োজনের প্রতি আরও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম হয়।
মন্ত্রী বলেন, GPS-ভিত্তিক যানবাহন ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরসভার বর্জ্য সংগ্রহকারী গাড়িগুলির গতিবিধি রিয়েল টাইমে নজরে রাখা সম্ভব হবে। এর ফলে নজরদারি আরও জোরদার হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বর্জ্য সংগ্রহের পরিষেবা নিশ্চিত করা যাবে।
পাবলিক ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার প্রসঙ্গে মন্ত্রী রায় বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নাগরিকদের এক বিভাগ থেকে অন্য অন্য বিভাগে ঘুরে বেড়ানোর পরিবর্তে এক জায়গা থেকেই বিভিন্ন পুর পরিষেবা পাওয়ার সুবিধা হবে। তাঁর কথায়, এই ধরনের প্রতিটি উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিককেন্দ্রিক, স্বচ্ছ এবং দক্ষ জনপরিষেবা নিশ্চিত করা।
নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত উদ্যোগগুলিতে Axis Bank-এর সহযোগিতারও প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী দিনে শিলচরের নগর পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জল সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরুত প্রকল্প ১ এবং আমরুত প্রকল্প ২-এর আওতায় প্রায় ২১ হাজার নতুন জল-সংযোগ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য পৃথক জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, শিলচরের নগর পরিকাঠামোগত প্রয়োজন মেটাতে প্রায় ৫০৯ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মাস্টার ড্রেনেজ প্ল্যানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, Oil India Limited বায়োগ্যাস-সংক্রান্ত একটি উদ্যোগের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে। এই প্রকল্পের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমিও বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিলচরের জন্য একটি নতুন অডিটোরিয়াম তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যা টাউন হল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৈদ্যুতিক শ্মশান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
নবীকরণযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিকাঠামোর উপর সরকারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শিলচরের ৪২টি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই ৮০০টি সৌরচালিত পথবাতি বসানো হয়েছে। আরও ১০ হাজার সৌরবাতি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শহরের চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙ্গিরখাড়ি পর্যন্ত রাজ্য লোক নির্মান বিভাগের অধীনে সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। এর জন্য প্রায় ৫.৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শহরের অন্যান্য চলমান সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘোষণায় মন্ত্রী রায় আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের পর শহরের নাগরিক প্রশাসন এবং পরিষেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে শিলচরের জন্য আরও একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাগুলি শহরের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ নতুন নাগরিককেন্দ্রিক উদ্যোগগুলিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, পাবলিক ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারটি নাগরিক ও পুর প্রশাসনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে।
তিনি বলেন, ধীরে ধীরে PFC-কে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নাগরিক পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। যেখানে নাগরিকরা তাঁদের আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারবেন এবং SMS অথবা মোবাইল অ্যালার্টের মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি পেতে পারেন। তাঁর মতে, এর ফলে নাগরিকদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং পরিষেবা প্রদানের প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে।
সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ বলেন, আগামী দিনে PFC-কে একটি Central Citizen Service Management Dashboard-এর সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে কতগুলি আবেদন জমা পড়েছে, কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কতগুলি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে তা পুর কর্তৃপক্ষ নজরে রাখতে পারবে। একই সঙ্গে গড় নিষ্পত্তির সময়, বিভিন্ন দফতরের কর্মদক্ষতা এবং নাগরিকদের মতামত সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
অনলাইন পরিষেবার সঙ্গে যাঁরা খুব বেশি পরিচিত নন, তাঁদের জন্য PFC-তে একটি Digital Assistance Desk চালুর উপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এই সহায়তা কেন্দ্রে অনলাইন আবেদন পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, নবীকরণ, ভবন নির্মাণের অনুমতি এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের সহায়তা করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়াও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে পরিচালিত একটি Special Information Desk চালুর প্রস্তাব দেন সাংসদ। এর মাধ্যমে নাগরিকদের পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবা, সরকারি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, প্রযোজ্য ফি এবং অন্যান্য জরুরি তথ্য জানানো যেতে পারে।
সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ পুর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, সহজলভ্য এবং নাগরিকদের প্রতি আরও দায়বদ্ধ করে তুলবে। প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক প্রশাসনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিলচর পৌর নিগম এবং জেলা প্রশাসনকে অভিনন্দন জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা বলেন, নতুন ব্যবস্থাগুলির সূচনা শিলচর এবং সংলগ্ন শহরাঞ্চলে নাগরিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক পরিষেবায় আধুনিক ব্যবস্থা চালু করার জন্য রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং শিলচর পৌর নিগমের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত একটি শহরের জন্য শুধু পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থাগুলির যথাযথ ব্যবহার করার পাশাপাশি পুরকর্মীদের সহযোগিতা করা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এগিয়ে আসার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানান তিনি।
বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলির ফলে পুর পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে এবং শিলচর একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সুসংগঠিত নগরকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদ সুষ্মিতা দেব নাগরিকমুখী উদ্যোগগুলির সূচনার জন্য রাজ্য সরকার, শিলচর পুর নিগম এবং জেলা প্রশাসনকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নগর প্রশাসনকে আরও বেশি স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং নাগরিকদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে।
তিনি বিশেষ ভাবে পাবলিক ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার এবং পুর পরিষেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থার সূচনাকে স্বাগত জানান। তাঁর মতে, নাগরিকদের যাতে সহজেই সরকারি পরিষেবা পাওয়া যায় এবং সরকারি দফতরে অপ্রয়োজনীয় ভাবে বারবার না গিয়েও নিজেদের আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাংসদ সুষ্মিতা দেব বলেন, সুস্থ নগর পরিবেশ গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। QR-ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ এবং GPS-নির্ভর যানবাহন নজরদারি ব্যবস্থা চালুরও প্রশংসা করেন তিনি।
শিলচরের নগর উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিকাঠামো ও পরিষেবা শক্তিশালী করার উপর ধারাবাহিক গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড° হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। নতুন উদ্যোগগুলি শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন সাংসদ।
কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএস বলেন, চারটি উদ্যোগের সূচনা শিলচরে নগর প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করার চলমান প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থাগুলি কার্যকর ভাবে বাস্তবায়নের জন্য শিলচর পুর নিগমকে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জেলা প্রশাসন। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সুফল যাতে বাস্তবে নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে প্রতিফলিত হয়, তার জন্য বিভিন্ন দফতর এবং পুর প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা আয়ুক্ত বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিকাশি, জল সরবরাহ, সড়ক পরিকাঠামো এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির পাশাপাশি জনসাধারণের অংশগ্রহণও জরুরি। নতুন ব্যবস্থাগুলির সুফল যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিকের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে পুর কর্তৃপক্ষ ও সাফাইকর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানান তিনি।
শিলচর পুর নিগমের আয়ুক্ত অঙ্কুর দাস, আই এস এস বলেন, PFC, GPS-ভিত্তিক যানবাহন ট্র্যাকিং এবং QR-ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু হওয়া পুর নিগমের কাজকর্মকে আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।
তিনি জানান, পাবলিক ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারের মাধ্যমে নাগরিকরা আরও সহজে পুর পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন। অন্য দিকে, GPS-ভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সাহায্যে বর্জ্য সংগ্রহকারী যানবাহনের গতিবিধি ও কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে নজরদারি করতে পারবে পুর নিগম।
তিনি বলেন, QR-ভিত্তিক ব্যবস্থার ফলে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে স্যানিটেশন পরিষেবার পরিকল্পনা ও নজরদারির জন্য পুর নিগম আরও নির্ভুল তথ্য পাবে।
নিগমের আয়ুক্ত অঙ্কুর দাস বলেন, পুর নিগম প্রযুক্তিকে শুধু প্রশাসনিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না। বরং নাগরিক পরিষেবার মান, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে SMC প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিলচর পুর নিগমের কার্যবাহী আধিকারিক, অভিজিৎ বে, এএউএ এস স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
মন্ত্রী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, পদস্থ আধিকারিক, বিশিষ্ট অতিথি, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্বকারী, পুরকর্মী এবং নাগরিকদের স্বাগত জানিয়ে এক্সিকিউটিভ অফিসার অভিজিৎ বে দিনটিকে পুর নিগমের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এ দিন একই সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সূচনা করা হচ্ছে পাবলিক ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার, GPS-ভিত্তিক Garbage Vehicle Tracking System, QR-ভিত্তিক Garbage Collection System এবং Faecal Sludge Treatment Plant। নাগরিকদের আরও উন্নত, পরিচ্ছন্ন এবং দ্রুত পুর পরিষেবা দেওয়াই এই চারটি উদ্যোগের অভিন্ন লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পাবলিক ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারের মাধ্যমে নাগরিকদের পুর পরিষেবা পাওয়া আরও সহজ হবে। জনগণ এবং পুর নিগমের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও ফলাফলমুখী যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে PFC গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
GPS-ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহকারী যানবাহন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সাহায্যে পুর নিগম যানবাহনের গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারবে এবং নিয়মিত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
FSTP-কে বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পরিচ্ছন্নতা শুধু রাস্তা ও জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থান পরিষ্কার রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সুস্থ এবং পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তুলতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য নিষ্পত্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কার্যবাহী আধিকারিক, অভিজিৎ বে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, নতুন উদ্যোগগুলি পুর প্রশাসনকে আরও আধুনিক এবং ক্রমশ আরও বেশি নাগরিককেন্দ্রিক করে তুলবে। প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার এবং সাফাইকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। শিলচরকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের সহযোগিতারও আবেদন জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য মন্ত্রী কৌশিক রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জেলা আয়ুক্ত, পুর নিগমের আয়ুক্ত, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট অতিথি, নাগরিক এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে কাছাড় জেলা পরিষদের সভাপতি কঙ্কন নারায়ণ শিকদার, জেলা বিজেপি সভাপতি রূপম সাহা, জেলা উন্নয়ন আয়ুক্ত রাজীব রায়, এসিএস, পদস্থ আধিকারিক, পুরসভার প্রতিনিধিত্বকারী, কর্মী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এবং নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সঞ্চালক বিপ্লব বিশ্বাসের সাবলীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সরকারি এই অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
পরে উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, আই এ এস এবং শিলচর পৌর নিগমের আয়ুক্ত অঙ্কুর দাস, আই এ এস -সহ অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মন্ত্রী কৌশিক রায় মেহেরপুর ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট ( Faecal Sludge Treatment Plant (FSTP)-এর উদ্বোধন করেন।
পি.ডি./২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
DC Cachar Directorate of Information and Public Relations, Assam CMO Assam