11/09/2026
১৯৭৯ সাল হবে ।এক সাথে তিনজন তরুণ শিক্ষক এলেন স্কুলে । একজন শ্রী রবি রঞ্জন ভট্টাচার্য। পায়জামা পাঞ্জাবি পরেন। চোখে একটা কালো ফ্রেমের চশমা। সাধারণ গড়পড়তা বাঙালির চেয়ে লম্বা। স্বাস্থ্যবান।
একদিন স্টপ গ্যাপ ক্লাসে এলেন। কি পড়ানো হচ্ছে বল। টপিক এর নাম শুনে চোখ বুঝলেন। হাত দুটি টেবিলের ওপর রাখা।একটি পায়ের পাতার ওপর আরেকটি সামান্য দল খাচ্ছে। মনে হলো যেন সেই সময় দেখছি স্যারের পড়ানোর জাদুতে।
স্যারের পড়ানোর মোহে আবিষ্ট হলাম।
মাঝে মধ্যে ক্লাসের ফাঁকে গল্প বলতেন। তখনই জানলাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বলে একটা জায়গা আছে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের কাছে। যেখানে তিনটে দ্বীপের পয়েন্ট যোগ করলে একটি কাল্পনিক ত্রিভুজ তৈরি হয়।
এখানেই যত রহস্য। জাহাজ অদৃশ্য, বিমানের অস্তিত্বহীন অবস্থা কত কি।
কিশোর বয়সে আমাদের না ছিল গুগল, না ইন্টারনেট।বই আর স্যার আমাদের জানার মাধ্যম।
খুব দ্রুত স্যার সবার প্রিয় হয়ে গেলেন।
নবম থেকে দ্বাদশ স্যারকে পেয়েছি
শিক্ষক হিসেবে।
এর পর তো প্রায় পারিবারিক সম্পর্ক।
একজন শিক্ষক ইতিহাসে মাস্টার্স হয়ে এ ইংরেজি, বাংলায় প্রবল দখল।
স্যারের টিউশনও ইংরেজি ও বাংলা কেন্দ্রিক।
এর পর উত্তর বঙ্গ সংবাদের একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে লেখা কোলামি।
যখনই কোনো বিপদে পড়েছি জানতাম স্যারের কাছে গেলে মুশকিল আসান।
বড় ভালো ডিবেট করতে পারতেন।
একবার শিলিগুড়ির বইমেলায় ভগৎ সিং কে নিয়ে এক ডিবেট
করতে গিয়ে তৎকালীন একজন রাজনৈতিক নেতাকে ল্যাজে গোবরে করে দিয়েছিলেন।
তাঁর পড়াশোনার ব্যাপ্তি বিশাল।
তাঁকে একসময় এম এ ইংরেজির ছাত্র পড়াতে দেখেছি!
বেশ কয়েকবছর হলো ক্যান্সার স স্যারের জীবনাবসান হয়।
অসম্ভব সিগারেট খেতেন।
সাথে চা।
স্যার আমাদের মননে থাকবেন চিরকাল।