12/05/2026
ছাত্র সমাজের কলঙ্ক abvp
৫ মে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ওপর হামলা ও অশান্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবিভিপির দ্বিচারিতা আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১০ মে এবিভিপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ফেসবুক পেজে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের “হেল্প ডেস্ক” নম্বর প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সংগ্রাম খামরাইয়ের নাম ও ফোন নম্বর প্রকাশ্যে দেওয়া হয়। অথচ তার ঠিক একদিন পর, ১১ মে, একই এবিভিপি রাজ্য পেজ একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, ৫ মে উপাচার্যের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনা “অনভিপ্রেত” এবং তারা এই ঘটনার সমর্থন করে না। অথচ সংগ্রাম খামরাই ৫ মে বিশ্ববিদ্যলয়ের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়েছে। তাছাড়াও সৌম্যদীপ বেরা, যাকে হম্বিতম্বি করতে দেখা গেছে সেও দীর্ঘদিনের ABVP কর্মী। এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি এবিভিপি সত্যিই এই ঘটনার বিরোধিতা করে, তাহলে সেই ঘটনায় উপস্থিত ও সক্রিয় মুখগুলিকেই কেন পরে "অফিসিয়াল হেল্প ডেস্ক" হিসেবে সামনে আনা হলো? ৫ মে-র ভিডিও ফুটেজ দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, সেখানে সংগ্রাম খামরাই উপস্থিত ছিল (কমেন্টে লিংক দেওয়া হলো)। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থলে থাকা বহুজনই এবিভিপির পরিচিত নেতা-কর্মী বলে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে পরিচিত। (কমেন্টে কিছু প্রমাণ থাকলো)
তাহলে কি এটা শুধুই "দায় এড়ানোর" রাজনীতি? একদিকে ক্যাম্পাসে শক্তি প্রদর্শন, উপাচার্যের সামনে দাদাগিরি, অশান্তি ও ভয় দেখানোর রাজনীতি; অন্যদিকে জনরোষ বাড়তেই ফেসবুকে বিবৃতি! এই দ্বিচারিতা আজ আর আড়াল করা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে টিএমসিপি যে ক্যাম্পাস সন্ত্রাস, দাদাগিরি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসেছে; এবিভিপি আজ একই পথে হাঁটছে তা দেখা যাচ্ছে। মতাদর্শের মুখোশ আলাদা হতে পারে, কিন্তু ক্ষমতা দেখানোর রাজনীতি যেন একই রয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কি তবে ছাত্ররাজনীতির নামে পেশিশক্তির পরীক্ষাগার হয়ে উঠবে? নাকি এইরকম সন্ত্রাসের জুজু দেখিয়ে প্রতিবাদের রাজনীতি ক্যাম্পাস থেকে বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে!!!
শিক্ষাঙ্গন কখনও ভয়, হুমকি ও গুণ্ডামির জায়গা হতে পারে না। প্রয়োজন সত্য নির্ভর নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর দেখানো পথে ছাত্র ইউনিয়ন।
(বিঃ দ্রঃ: এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সত্যান্বেষী জানাতে চায়, সত্যান্বেষী কোনভাবেই বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পূর্বের কর্মকান্ডকে সমর্থন করে না। আমরা কোনভাবেই ভাইস চ্যান্সেলরের পক্ষের শক্তি নই। কিন্তু আমরা কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় হুমকি প্রথার বিরুদ্ধে। যখন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ থ্রেট কালচার চালিয়েছে তখন যেমন আমরা প্রতিবাদ করেছি; এখনো ওই সংস্কৃতি চললে তারও বিরুদ্ধে কলম ধরবো।)
তথ্যসূত্র :
১. https://www.facebook.com/share/p/18mikUCmFQ/
২. https://www.facebook.com/share/p/1BvJvJ3oso/
৩. https://www.facebook.com/share/14foffZ6j59/
৪. https://www.facebook.com/share/r/19Navfy3hb/