23/06/2026
অনেক কঠিন পরিশ্রম করে জাপানিজ ভাষার পড়াশোনা শেষে,বাবা-ভাইয়ের ঋণ করা টাকায় (হয়তোবা) আল্লাহর ইচ্ছায় স্টুডেন্ট ভিসা পেয়ে জাপানে এসেছিলেন মোঃ রাহিম হোসাইন।ল্যাংগুয়েজ স্কুল শেষ করে ভর্তি হয়েছিলেন জাপানিজ সেনমোন গাক্কোতে (কলেজে)।
বাবা-মায়ের হয়তো অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে। একদিন ছেলে বড় হবে,বাবা-মায়ের মুখ আরো উজ্জ্বল করবে। ছেলের ও হয়তো স্বপ্ন ছিল পড়াশুনা শেষ করে ভাল বেতনে চাকুরি করবে,সংসারের হাল ধরবে।
প্রতিদিনের মতই স্কুল,রান্না-বান্না,পার্ট টাইম জব,টিউশন ফি এগুলোর পেরেশানি থেকে একটু মুক্তি পেতেই হয়তো ২ বন্ধু মিলে আড্ডা দেওয়ার জন্য রাস্তায় হাঁটতে বের হয়েছিলেন। কারণ গরম কালে সন্ধ্যার পরের যে বাতাস প্রবাহিত হয় সে বাতাস হৃদয়কে স্পর্শ করে। তাই সবকিছু থেকে একটু প্রশান্তি পেতেই হয়তো হাঁটতে বের হয়েছিলেন।
হয়তো বাসায় ফিরে বাবা-মা কে ফোন দিয়ে কথা বলেই তারপর ঘুমাতে যেতেন। কিন্তু না,সেটা আর হয়নি। হঠাৎ ট্রাকের চাপায় মৃত্যুবরণ করেন মোঃ রাহিম হোসাইন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।একটা পরিবারের একটা স্বপ্নের মূহুর্তেই সমাপ্তি ঘটে গেল। চিরজীবনের জন্য চলে গেলেন দুনিয়া ছেড়ে।
জাপানের মত চাকচিক্যের দেশ তার মৃত্যু ঠেকাতে পারেনি।
এটাই আসলে আমাদের জীবন। আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত যে সময় সেটাই আসলে আমাদের প্রকৃত জীবন। কিন্তু আমরা দুনিয়ার মোহে পড়ে গেছি। অনেকেই আমরা চিরন্তন সত্য আমাদের যে মৃত্যু হবে সেটা ভুলে গেছি। মৃত্যু নিয়ে নুন্যতম আমাদের চিন্তা নেই। নুন্যতম আমাদের কোন প্রস্তুতি নেই। অথচ সে আসবেই। জাপানের মত উন্নত দেশে থাকলেও কেউ মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। সেটা অসম্ভব। সুতরাং যারা মৃত্যু পরবর্তী জীবন কে নিয়ে ভাববে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে তারাই প্রকৃত বুদ্ধিমান।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মোঃ রাহিম হোসাইন এর সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দিন। তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। তার বাবা-মা,বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়স্বজন সবাইকে উত্তম ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।আল্লাহুম্মা আমিন।