27/08/2026
বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত কর্তৃক ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দূতাবাসের হলরুমে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচরীদের অংশগ্রহণে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:)-২০২৬ পালন করা হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া উক্ত অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান যথাক্রমে দূতাবাসের ডিফেন্স এটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জনাব রাকিবুল করিম চৌধুরী ও প্রথম সচিব ( পাসপোর্ট এবং ভিসা) জনাব মোহাম্মদ আতিকুল মামুন। এরপর মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন ওএসপি, এডব্লিউসি, পিএসসি উক্ত দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন । মান্যবর রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বমানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শান্তির অগ্রদূত, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন ইতিহাসের এক মহান মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য আলোর পথপ্রদর্শক এবং সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত আরো উল্লেখ করেন যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সকলের জীবন চলার পথের এক নিখুঁত আদর্শ এবং তাঁর চরিত্র, নম্রতা, ধৈর্য এবং মানুষের প্রতি ভালবাসা সকলের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা। মোহাম্মদ (সা:) এর জীবনের কর্ম উল্লেখ করে বলেন যে, মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন একাধারে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক; একজন সংস্কারক; বদর, উহুদ, খন্দক ও মক্কা বিজয়ে যোদ্ধাদের সেনাপতি এবং একজন কূটনীতিবিদ। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) এর কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো তাঁর নবুয়তের সময়কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, যা ইসলাম ধর্মের বিস্তার, মুসলিম রাষ্ট্রের সুরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো ছিল অত্যন্ত বিচক্ষণ, দূরদর্শী এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী গৃহীত।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে ৬২২ খ্রিস্টাব্দের মদিনা সনদ ৬২৮ খ্রিস্টাব্দের হুদাইবিয়ার সন্ধি এবং ইসলাম প্রচারে হযরত মোহাম্মদ (সা:) কর্তৃক বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার কাছে কূটনৈতিক পত্র প্রেরণের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, নবুয়তের শেষের দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার কাছে পত্র প্রেরণ করেন, যেখানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করার আহ্বান জানান। এদের মধ্যে ছিল বাইজান্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস, পারস্য সম্রাট খসরু, মিশরের রাজা মুকাওকিস, এবং আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজাশি। এই পত্রগুলো কূটনৈতিক ভাষায় রচিত ছিল এবং ছিল শান্তিপূর্ণ।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, মানবজাতির জন্য এক অনন্য আদর্শ। তাঁর শিক্ষা আমাদেরকে দয়া, সততা, ন্যায়বিচার, বিনয়, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং মানবতার সেবার পথ দেখায়। তার বিদায় হজের বাণী পৃথিবীর সকল নারী ও পুরুষের জন্য চিরকালীন এক অনন্য জীবন-নির্দেশিকা। তাঁর প্রদর্শিত আদর্শ আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মক্ষেত্রে সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সবসময় উত্তম চরিত্র, মানুষের প্রতি সদাচরণ এবং দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এপ্রেক্ষিতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত সকলকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)- মহান আদর্শ অনুসরণ করার এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে আরও নিবেদিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।
পরিশেষে, শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও বন্ধুপ্রতিম দেশ কুয়েতে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবং মুহাম্মদ (সা.)- মহান আদর্শ অনুসরণ করে সকলের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আরও উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার নিমিত্ত বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।