07/07/2026
হাল ছেড়োনা বন্ধু
জুলাই—২০২৪। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় গণঅভ্যুত্থানের মাস। স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের এক অনন্য অধ্যায়।
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই আমি আমার প্রোফাইল ছবি লাল করেছিলাম। সেই ছবির সঙ্গে একটি অঙ্গীকারও ছিল—"হাল ছেড়োনা বন্ধু।" কারণ তখনও আমরা নিশ্চিত ছিলাম না যে স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে পারব। সেই কঠিন সময়ে বিপ্লবী ছাত্র-জনতাকে অনুপ্রাণিত করার জন্যই লাল প্রোফাইল এবং শহীদ আবু সায়েদের প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ ছবির সঙ্গে এই আহ্বান যুক্ত করেছিলাম।
এর মাত্র পাঁচ দিন পর, ৫ আগস্ট, আমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের পতন প্রত্যক্ষ করি। এটি ছিল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়। কিন্তু একটি সরকারের পতনই আমাদের সব আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন নয়। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম।
পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও নানা রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও টানাপোড়েনের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সহজ হয়নি। পরে নির্বাচনের আগে জুলাই ঘোষণাপত্র ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, জনগণও তার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন প্রকাশ করেছিল। এখন সেই জনআকাঙ্ক্ষার যথাযথ বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই গত দুই বছর ধরে আমি আমার প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করিনি। এটি শুধু একটি ছবি নয়; এটি একটি অঙ্গীকার—হাল ছাড়া যাবে না। কারণ একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ একদিনে গড়ে ওঠে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ সংগ্রাম, ধৈর্য, ত্যাগ এবং ঐক্য।
আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জুলাইয়ের সকল শহীদকে। শ্রদ্ধা জানাই সকল আহত যোদ্ধাকে, সাহসী ছাত্র-জনতাকে, সাধারণ মানুষকে এবং দেশের মেহনতি মানুষকে।
সবাইকে একটি কথাই বলতে চাই—
ভাই, কেউ হাল ছাড়বেন না। আমাদের কাঙ্ক্ষিত সুন্দর বাংলাদেশ এখনো নির্মাণাধীন। সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, আরও ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং ন্যায় ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের স্বপ্নের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ব।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।