01/09/2026
দুই মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা
ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর দুই নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প—এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)—এর ব্যয় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে সংশোধিত প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। শুরুতে দুই প্রকল্পের মোট অনুমোদিত ব্যয় ছিল প্রায় ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এখন সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।
এমআরটি লাইন-১ (কমলাপুর-বিমানবন্দর ও নাদ্দা-পূর্বাচল) প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে (বাড়তি প্রায় ১৩০ শতাংশ)। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ উত্তর (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, যা এখন প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে (বাড়তি প্রায় ১২৬ শতাংশ)।
ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—ঠিকাদারদের উচ্চ দরপ্রস্তাব, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ, ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং প্রকল্প দীর্ঘায়িত হওয়া। জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দরপ্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় উত্তরা-মতিঝিল লাইনের (১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি—প্রায় ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১-এর ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। লাইন-৫ উত্তরের ভৌত অগ্রগতি ১০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে—লাইন-১-এর ক্ষেত্রে ২০৩৫ সাল এবং লাইন-৫-এর ক্ষেত্রে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সম্প্রতি এই সংশোধিত ব্যয় পর্যালোচনা করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দুই প্রকল্প থেকে মোট প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে আরও পর্যালোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত উচ্চ ব্যয় প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ঋণ পরিশোধে চাপ তৈরি করতে পারে।