Siͥleͣnͫt Cyber Raid

Siͥleͣnͫt Cyber Raid WE MOVE SILENTLY, BUT LEAVE NO CLEAR MARK

ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহার, ইরানের বিজ্ঞানীদের অভিনব আবিষ্কার।ইরানের একদল বিজ্ঞানী এমন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন, যা...
02/26/2026

ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহার, ইরানের বিজ্ঞানীদের অভিনব আবিষ্কার।

ইরানের একদল বিজ্ঞানী এমন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন, যা ব্যবহারকারীদের বিদেশি ওয়েবসাইটে না গিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়।

ফার্স নিউজ এজেন্সির বিজ্ঞান ও অগ্রগতি বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে এআই ব্যবহার করা ইরানি ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে সীমিত প্রবেশাধিকার ও বিদেশি সরঞ্জামগুলোর বিচ্ছিন্নতা একটি পূর্ণাঙ্গ দেশীয় প্ল্যাটফর্মের অভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এবার একটি ইরানি তরুণ দল হুশ সোরাহ (Hoosh Soreh) নামে একটি সম্পূর্ণ এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা ব্যবহারকারীদের সব উন্নত এআই মডেল একক স্থানে ব্যবহার করার সুযোগ দেয় এবং ইরানি সমাজকে বিদেশি ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত করে।

প্ল্যাটফর্মের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হুশ সোরাহ-এর অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো GPT-4o mini মডেলের বিনামূল্যে সরবরাহ, যা ব্যবহারকারীরা সাবস্ক্রিপশন না কিনে ব্যবহার করতে পারবেন।

হুশ সোরাহ-এর প্রোডাক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদহোসেন পনাাহী বলেন, আমরা দেখেছি যে ডেভেলপার, গবেষক, ছাত্র এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা উন্নত এআই মডেল যেমন চ্যাটজিপিটি বা ক্লাউড ব্যবহার করতে গিয়ে কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। একাধিক ভিপিএন প্রয়োজন, সার্ভিসের বারবার বিঘ্ন এবং অস্থিতিশীলতা—এগুলো ব্যবহারকারীদের এআই মডেল ব্যবহার প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্ল্যাটফর্মটি একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যাতে ব্যবহারকারীরা বিদেশি প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়াই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন।

প্ল্যাটফর্ম নির্মাতারা জানিয়েছেন, এটি বাজারের জনপ্রিয় ও কার্যকর এআই মডেলের একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ দেয়। ব্যবহারকারীরা একক পরিবেশে লিখিত এবং ভিজ্যুয়াল প্রয়োজনীয়তা উভয়ই পূরণ করতে পারবেন।

লিখিত টুলস: চ্যাটজিপিটি, ক্লাউড, জেমিনি সহ অন্যান্য শক্তিশালী মডেল ব্যবহার করা যাবে
ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট: ছবি তৈরি মডেল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর লিখিত আইডিয়াগুলোকে সৃজনশীল ছবি তে রূপান্তর করা যাবে।

পনাাহী ব্যবহার খরচ সম্পর্কে বলেন, প্রতিটি নতুন ব্যবহারকারী সাইটে নিবন্ধন করলে ৭৫ ক্রেডিট কয়েন পাবে, যা প্রায় ৭৫টি বিনামূল্যে চ্যাটের সমতুল্য। একবার ক্রেডিট শেষ হলে, GPT-4o mini মডেল প্রতিদিন পুনরায় চার্জ হয়। তাই যদি ভারী ব্যবহার না হয়, ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন বিনামূল্যে এআই ব্যবহার করতে পারবেন।

সেবা স্থিতিশীলতা সবসময় তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। হুশ সোরাহ-এর সমস্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বিঘ্নহীন ও স্থিতিশীল পরিষেবা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এই প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন ব্যবহারকারীর জন্য উপযোগী—

• একজন ছাত্র গবেষণা বা নিবন্ধ সংক্ষেপের জন্য,

• একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইডিয়াগুলো ভিজ্যুয়ালাইজ করতে,

• একজন প্রোগ্রামার কোড ডিবাগ করতে,

• সাধারণ ব্যবহারকারী দৈনন্দিন কাজের জন্য।

এই প্ল্যাটফর্মের প্রধান সুবিধা হলো ব্যবহারকারীরা একটি স্থানে সব সরঞ্জাম, ফার্সি UI, ফিল্টারশিপ প্রয়োজন ছাড়া এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তাসহ ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া এটি ফাইল-ভিত্তিক চ্যাটবট এবং এআই অবতার এর মতো বিশেষ ফিচারও প্রদান করে, যা অন্য প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য নয়।

নির্মাতারা ব্যবহারকারীর ডেটা ও ফাইলকে সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড ও নিরাপদ হিসেবে সংরক্ষণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই প্ল্যাটফর্মটি এমন সময় তৈরি হয়েছে যখন ইরানি ব্যবহারকারীরা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা সম্মুখীন হচ্ছেন এবং উন্নত এআই টুল ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র : তেহরান টাইমস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছেএকুশ শতকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা এক অদ্ভুত প্যার...
02/26/2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে

একুশ শতকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা এক অদ্ভুত প্যারাডক্সের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একদিকে আমরা দাবি করছি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের আবেগতাড়িত ভুল ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম; অন্যদিকে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই প্রযুক্তিগুলো অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এই সংকটের নাম অ্যালগরিদমিক বায়াস।

এআই যেহেতু বিশাল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাই সেই উপাত্তে যদি সমাজের বিদ্যমান কুসংস্কার বা বৈষম্য লুকিয়ে থাকে, তবে এআই সেই বৈষম্যকে কেবল গ্রহণই করে না, বরং তাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে পুনরায় উৎপাদন করে। ফলে এআই এখন কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের পথে এক নতুন এবং অদৃশ্য বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কেন ঘটে এই বায়াস
অ্যালগরিদমিক বায়াস কেন ঘটে, তা বুঝতে হলে এআইয়ের শিক্ষা পদ্ধতি বা মেশিন লার্নিং প্রক্রিয়াটি তলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে গারবেজ ইন, গারবেজ আউট। অর্থাৎ, একটি অ্যালগরিদমকে যদি এমন ঐতিহাসিক ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো বর্ণ, লিঙ্গ বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি অবিচার করা হয়েছে, তাহলে সেই অ্যালগরিদমটি অবচেতনভাবেই ওই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করতে শেখে।

অ্যালগরিদমিক বায়াস যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি সমাজিক বৈষম্যের ডিজিটাল প্রতিফলন
অ্যালগরিদমিক বায়াস যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি সমাজিক বৈষম্যের ডিজিটাল প্রতিফলনছবি: আইস্টোক / গেটি ইমেজ
এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের বৈষম্যেরই একটি ডিজিটাল প্রতিফলন। যখন কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের জীবনবৃত্তান্তকে বেশি প্রাধান্য দেয়, কিংবা যখন কোনো অপরাধী শনাক্তকরণ সফটওয়্যার কৃষ্ণাঙ্গ বা সংখ্যালঘু মানুষের চেহারা ভুলভাবে চিহ্নিত করে, তখন বুঝতে হবে অ্যালগরিদমটি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।

আরও পড়ুন
যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে রাষ্ট্র
১৯ অক্টোবর ২০২৫
যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে রাষ্ট্র
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এই সংকটের নাম অ্যালগরিদমিক বায়াস।
বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও উদাহরণ
গ্লোবাল প্রেক্ষাপটে অ্যালগরিদমিক বায়াসের অসংখ্য উদাহরণ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস নামে একটি অ্যালগরিদম জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধীর পুনরায় অপরাধ করার ঝুঁকি মূল্যায়ন করত। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালগরিদমটি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের দ্বিগুণ বেশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছে।

একইভাবে, ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন তাদের কর্মী নিয়োগের জন্য যে এআই টুল তৈরি করেছিল, তা গত দশ বছরের নিয়োগের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে নারীদের আবেদনপত্র বাতিল করে দিতে শুরু করেছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস অ্যালগরিদম কৃষ্ণাঙ্গদের অপরাধের ঝুঁকি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি দেখিয়েছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস অ্যালগরিদম কৃষ্ণাঙ্গদের অপরাধের ঝুঁকি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি দেখিয়েছেছবি: লুইস ডেকোনিঙ্ক
কারণ, গত দশ বছরে প্রযুক্তি খাতে পুরুষদের প্রাধান্য ছিল বেশি। এআই সেটাই সঠিক নিয়ম হিসেবে শিখে নিয়েছিল। এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে, এআই যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, তবে তা লিঙ্গ ও বর্ণবৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস নামে অ্যালগরিদমটি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের দ্বিগুণ বেশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
অর্থনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে অ্যালগরিদমিক বায়াস এক চরম অসমতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লোন বা ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে এআই ব্যবহার করছে। অ্যালগরিদমটি যদি এমন হয় যে এটি নির্দিষ্ট কোনো এলাকার মানুষের আয়ের চেয়ে তাদের সামাজিক পরিচয়কে বড় করে দেখে, তাহলে এক বিশাল গোষ্ঠী আর্থিক অন্তর্ভুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমাদের কোনো ব্যাংক যদি এমন একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে, যা গ্রামীণ মানুষের চেয়ে শহরের মানুষকে বা নির্দিষ্ট পেশার মানুষকে বেশি সুযোগ দেয়, তাহলে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের সুযোগ অ্যালগরিদমের হাতে জিম্মি থাকলে, তা দরিদ্রকে আরও দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলবে।

অ্যালগরিদম যদি ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবে
অ্যালগরিদম যদি ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবেছবি: লিঙ্কডইন
সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবেও এই বৈষম্য খুবই গভীর। অ্যালগরিদমগুলো এখন আমাদের ঠিক করে দিচ্ছে আমরা ইন্টারনেটে কোন খবরটি দেখব কিংবা কোন মতামতটি শুনব। একে বলা হয় ফিল্টার বাবল। এই অ্যালগরিদমগুলো যদি মানুষের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে কেবল একতরফা তথ্য দেখাতে থাকে, তাহলে সমাজে অসহিষ্ণুতা এবং মেরুকরণ বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের কারণে যে গুজব বা উসকানিমূলক কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তার মূলে রয়েছে এই বিশেষ এনগেজমেন্ট ভিত্তিক অ্যালগরিদম। এগুলো সত্য বা মিথ্যার চেয়ে মানুষের আবেগ ও উত্তেজনাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

অ্যালগরিদমগুলো এখন আমাদের ঠিক করে দিচ্ছে আমরা ইন্টারনেটে কোন খবরটি দেখব বা কোন মতামতটি শুনব। একে বলা হয় ফিল্টার বাবল।
বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য চ্যালেঞ্জটি আরও জটিল। আমাদের নিজস্ব ডেটাসেট বা তথ্যের পর্যাপ্ততা কম থাকায় আমরা প্রায়ই বিদেশি প্রি-ট্রেইনড এআই মডেল ব্যবহার করি। এই মডেলগুলো পশ্চিমা সমাজের প্রেক্ষাপটে তৈরি। এগুলো আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে আমাদের অজান্তেই বিদেশি পক্ষপাতিত্ব আমাদের শাসনব্যবস্থা বা সেবা খাতে প্রবেশ করছে।

ডিজিটাল ল্যাঙ্গুয়েজ বায়াসের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ হতে পারে

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো এআই মডেল কেবল প্রমিত বাংলায় প্রশিক্ষিত হয়, তবে বাংলাদেশের অসংখ্য আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষ সেই প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। এটি একধরনের ডিজিটাল ল্যাঙ্গুয়েজ বায়াস, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ করতে পারে।

যদি কোনো এআই মডেল কেবল প্রমিত বাংলায় প্রশিক্ষিত হয়, তবে বাংলাদেশের অসংখ্য আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষ সেই প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।
উত্তরণের উপায়
এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী? একজন গবেষক হিসেবে আমি মনে করি, কেবল প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে অ্যালগরিদমিক বায়াস রোখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ত্রিস্তরীয় পদক্ষেপ।

১. ডেটা স্বচ্ছতা: এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত তথ্যে সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। ডেটা হতে হবে বৈচিত্র্যময়।

২. অ্যালগরিদমিক অডিট: সরকারি পর্যায়ে অ্যালগরিদমের নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যে অ্যালগরিদম ব্যবহার করছে, তা জনস্বার্থবিরোধী কি না, তা পরীক্ষা করার এখতিয়ার রাষ্ট্রের থাকতে হবে।

৩. নৈতিক ব্যবহার: এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যা কেবল দক্ষই নয়, বরং ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক
সবশেষে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো অলৌকিক বা দৈব শক্তি নয়; এটি মানুষের হাতে তৈরি এক অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার। এই হাতিয়ার যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে তা সমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষতগুলোকে আরও গভীর করবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা কেবল দক্ষই নয়, বরং ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক। প্রযুক্তির অন্ধ জয়গান গাওয়ার চেয়ে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য বৈষম্যগুলো চিহ্নিত করে তার প্রতিকার করা আজ সময়ের দাবি। স্বাধীনতা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়, একুশ শতকে স্বাধীনতা মানে অ্যালগরিদমের অদৃশ্য শৃঙ্খল থেকে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বকীয়তা রক্ষা করা।

লেখক: সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তি গবেষক

এআই কি কখনো মানুষের চেয়ে বেশি সৃজনশীল হতে পারবেচ্যাটজিপিটি বা জেমিনাই এখন নিমেষেই কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে, এমনকি জোকসও শো...
02/26/2026

এআই কি কখনো মানুষের চেয়ে বেশি সৃজনশীল হতে পারবে

চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাই এখন নিমেষেই কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে, এমনকি জোকসও শোনাচ্ছে। এসব দেখে মনে হতেই পারে, মানুষের দিন বুঝি শেষ! সৃজনশীলতার কাজটুকু বোধ হয় এবার রোবটদের মাথায় উঠতে চলল। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। এআইয়ের এর নাকি একটা গাণিতিক সীমা আছে, যা পার হওয়া অসম্ভব।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড ক্রপলি সম্প্রতি একটি গবেষণা করেছেন। তাঁর সোজা কথা, এআইয়ের দৌড় ওই অ্যামেচার বা শৌখিন শিল্পীদের পর্যন্তই। সত্যিকারের এক্সপার্ট মানুষের সৃজনশীলতাকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা এআইয়ের নেই।’

চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো এআই মডেলগুলো এখন নিমেষেই কবিতা লিখে ফেলছে
চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো এআই মডেলগুলো এখন নিমেষেই কবিতা লিখে ফেলছেছবি: মিডজার্নির সাহায্যে তৈরি
তিনি আরও বলছেন, ‘চ্যাটজিপিটি গল্প বা কবিতা লিখলেই সেটাকে সৃজনশীলতা বলা যাবে না। কিছু একটা তৈরি করা আর সৃজনশীল হওয়া আলাদা জিনিস।’

সমস্যা হলো, আমাদের সমাজের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের সৃজনশীলতা গড়পড়তা মানের। তাই সাধারণ মানুষ যখন এআইয়ের কাজ দেখে, তারা মুগ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যারা সত্যিকারের সৃজনশীল, তারা ঠিকই এআইয়ের কাজের ফাঁকফোকর ধরে ফেলেন। এআই খুব চমৎকারভাবে মানুষের নকল করতে পারে, কিন্তু সে কখনোই একজন পেশাদার শিল্পীর মানের কাজ দিতে পারে না।

অধ্যাপক ডেভিড ক্রপলি বলছেন, ‘চ্যাটজিপিটি গল্প বা কবিতা লিখলেই সেটাকে সৃজনশীলতা বলা যাবে না। কিছু একটা তৈরি করা আর সৃজনশীল হওয়া আলাদা জিনিস।’
একটা এআই সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবে না, ‘আজ আমি আমার ছোটবেলার কষ্টের স্মৃতি নিয়ে একটা গল্প লিখব, তাতে যদি সমাজ আমাকে একঘরে করে দেয়, তো দিক!’ এআইয়ের কোনো ট্রমা নেই, হারানোর ভয় নেই, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস নেই। মানুষের সৃষ্টির পেছনে একটা কেন থাকে, একটা জেদ থাকে। এআই শুধু হাজার হাজার তথ্য ঘেঁটে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরটা বের করে দেয়। ওটার কোনো উদ্দেশ্য নেই।

সৃজনশীলতা যদি হয় অসংখ্য তথ্য মেলানোর খেলা, তবে এআইয়ের জেতার কথা
তবে সবাই এ কথা মানতে নারাজ। যুক্তরাষ্ট্রের ভোরপাল হেজ নামে একটি এআই কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া রাইবচিন বলছেন, ‘আমরা মানুষের সৃজনশীলতাকে একটু বেশিই রোমান্টিকভাবে দেখি। মানুষও তো শূন্য থেকে কিছু বানায় না। আমরা যা দেখি, পড়ি বা শিখি, সেগুলোই মগজে নতুন করে সাজাই। একে বলে কম্বিনেটরিক্স। এআইও ঠিক তাই করে। বরং এআইয়ের কাছে তথ্য আছে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। সৃজনশীলতা যদি হয় অসংখ্য তথ্য মেলানোর খেলা, তবে তো এআইয়ের জেতার কথা।’

একটি এআই কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া রাইবচিন বলছেন, ‘আমরা মানুষের সৃজনশীলতাকে একটু বেশিই রোমান্টিকভাবে দেখি। মানুষও তো শূন্য থেকে কিছু বানায় না।'
যুক্তরাজ্যের প্যাশনেট এজেন্সির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও গোর গ্যাসপারিয়ান নামে আরেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, তাঁর কাজে এআই এমন সব নতুন আইডিয়া দেয়, যা মানুষের মাথাতেও আসে না। একে সৃজনশীলতা না বলাটা বোকামি। অনেকে বলছেন, এআই বোকা নয়, আসলে আমরাই তাকে ঠিকমতো প্রশ্ন করতে পারি না। আপনি যদি এআইকে দায়সারা নির্দেশ দেন, সে তো দায়সারা কাজই করবে। তাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে, তার সঙ্গে তর্ক করতে হবে, প্রেক্ষাপট দিতে হবে, তবেই বেরিয়ে আসবে আসল কাজ।

এআই মাঝে মাঝে এমন সব নতুন আইডিয়া দেয়, যা মানুষের মাথাতেও আসে না
যুক্তরাষ্ট্রের হিলিয়াম এসইওর চিফ টেকনোলজি অফিসার পল ডিমট অবশ্য এক তিক্ত সত্যের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলছেন, ‘আমরা আসলে গোলপোস্ট সরিয়ে নিচ্ছি। যখনই মেশিন এমন কিছু করে, যা আগে শুধু মানুষ করতে পারত, তখনই আমরা সৃজনশীলতার সংজ্ঞা বদলে ফেলি। আমরা মেনে নিতে পারছি না যে যন্ত্রও আমাদের মতো ভাবতে পারে।’

তর্কটা তাই এখনই থামছে না। এআই হয়তো গণিতের প্যাঁচে আটকে আছে, কিন্তু মানুষের মনের প্যাঁচ খোলা কি এত সহজ?

লেখক: ফ্রন্টেন্ড ডেভলপার, সফটভেঞ্চ
সূত্র: লাইভ সায়েন্স

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কি আসলেই আমাদের  পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখছেন?ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের প্রত্যেকের জীবন এখন অজস্র তালাবদ্ধ...
02/25/2026

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কি আসলেই আমাদের পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখছেন?

ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের প্রত্যেকের জীবন এখন অজস্র তালাবদ্ধ দরজার মতো। ফেসবুক, জিমেইল, অফিস, ব্যাংকসহ প্রায় সবখানেই ঢোকার জন্য চাই চাবি, অর্থাৎ পাসওয়ার্ড। নিরাপত্তার খাতিরে বলা হয়, প্রতিটি পাসওয়ার্ড হতে হবে আলাদা, কঠিন এবং এতই বিদঘুটে যে হ্যাকাররা যেন তা অনুমানও করতে না পারে।

কিন্তু মুশকিল হলো, মানুষের মস্তিষ্ক তো আর সুপার কম্পিউটার নয়! ২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, একজন সাধারণ মানুষের গড়ে প্রায় ১৬০টি অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়। ১৬০টি হিজিবিজি কোড মনে রাখা কি চাট্টিখানি কথা? তাই আমাদের মতো সাধারণ মানুষ শরণাপন্ন হয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের। লাস্টপাস, বিটওয়ার্ডেন, বা ওয়ানপাসওয়ার্ডের মতো এই সেবাগুলো আমাদের হয়ে সব পাসওয়ার্ড মনে রাখে। শুধু একটা মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখলেই কেল্লাফতে। মানে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সুরক্ষিত রেখেছেন, শুধু সেটা মনে রাখলেই হলো।

লাস্টপাস বা বিটওয়ার্ডেনের মতো অ্যাপগুলো আমাদের হয়ে সব পাসওয়ার্ড মনে রাখে
লাস্টপাস বা বিটওয়ার্ডেনের মতো অ্যাপগুলো আমাদের হয়ে সব পাসওয়ার্ড মনে রাখেছবি: সাইবার নিউজ
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সেবা দেওয়া এসব অ্যাপ দাবি করে, আপনার তথ্য তারা এনক্রিপ্ট বা সাংকেতিক ভাষায় রূপান্তর করে তাদের ক্লাউড সার্ভারে জমা রাখে। মানে আপনার পাসওয়ার্ড তারা দেখতে পায় না। কিন্তু সম্প্রতি জার্মানির ইটিএইচ জুরিখ এবং লুগানো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানালেন, এসব কথার পুরোটা সত্যি নয়। তাঁরা জনপ্রিয় চারটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার নিয়ে রীতিমতো কঠিন পরীক্ষা চালিয়েছেন। পরীক্ষায় এমন কিছু দুর্বলতা বা লুপহোল খুঁজে পেয়েছেন, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা চাইলে আপনার সব গোপন তথ্যের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলতে পারে!

চুরি ঠেকাতে পাসওয়ার্ডবিহীন অথেন্টিকেশন
২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, একজন সাধারণ মানুষের গড়ে প্রায় ১৬০টি অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়।
এই কোম্পানিগুলো তাদের মার্কেটিংয়ে একটা গালভরা বুলি আউড়ায়—জিরো নলেজ এনক্রিপশন। সোজা বাংলায় এর মানে হলো, আপনার পাসওয়ার্ডের সিন্দুকটা এমনভাবে তালা দেওয়া যে, খোদ কোম্পানিও যদি চায়, তবুও তারা সেটা খুলতে পারবে না। অর্থাৎ, সার্ভারের কাছে আপনার তথ্যের কোনো নলেজ নেই।

লাস্টপাস বা বিটওয়ার্ডেনের ওয়েবসাইটেও বড় বড় করে লেখা থাকে, ‘আমরা নিজেরাও আপনার ডেটা পড়তে পারি না।’ কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এই দাবিটা পুরোপুরি সত্যি নয়। তাঁরা গবেষণায় লাস্টপাস, বিটওয়ার্ডেন, ড্যাশলেন এবং ওয়ানপাসওয়ার্ড নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষকেরা অবশ্য গুগল বা অ্যাপলকে এই তালিকায় রাখেননি স্বার্থের সংঘাত এড়াতে।

হ্যাকার যদি কোম্পানিগুলোর সার্ভার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তবে সে ব্যবহারকারীর সব তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে
হ্যাকার যদি কোম্পানিগুলোর সার্ভার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তবে সে ব্যবহারকারীর সব তথ্য হাতিয়ে নিতে পারেছবি: অ্যাভাস্ট
গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কোনো হ্যাকার এই কোম্পানিগুলোর মেইন সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, তবে সে ব্যবহারকারীকে বোকা বানিয়ে তার সব তথ্য হাতিয়ে নিতে পারবে। গবেষকেরা মোট ২৭টি ভিন্ন ভিন্ন উপায় খুঁজে পেয়েছেন, যা দিয়ে হ্যাকাররা আপনার সিন্দুক ভেঙে ফেলতে পারে।

সমস্যাটা আসলে কোথায়? গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক কেনেথ প্যাটারসন বলছেন, কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য যেসব বাড়তি ফিচার যোগ করেছে, সেটাই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন ধরুন, পাসওয়ার্ড শেয়ার করার সুবিধা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কোনো হ্যাকার এই কোম্পানিগুলোর মেইন সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, তবে সে ব্যবহারকারীকে বোকা বানিয়ে তার সব তথ্য হাতিয়ে নিতে পারবে।
সাধারণত এসব ক্ষেত্রে পাবলিক কি ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়। ধরুন, আপনি আপনার বন্ধুর সঙ্গে একটা পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন। নিয়ম অনুযায়ী, সার্ভার আপনার বন্ধুর পাবলিক কি আপনাকে দেবে, যা দিয়ে আপনি তথ্যটা এনক্রিপ্ট করে পাঠাবেন। কিন্তু সার্ভার যদি নিজেই দুষ্টু হয়? সে যদি বন্ধুর চাবির বদলে হ্যাকারের চাবি ধরিয়ে দেয়? আপনি সরল মনে সেই চাবি দিয়েই তথ্য লক করে পাঠাবেন, আর হ্যাকার সেটা লুফে নিয়ে নিজের চাবি দিয়ে খুলে ফেলবে! প্যাটারসনের ভাষায়, তখন আর কিছুই করার থাকবে না। গেম ওভার!

প্যাটারসন এই পুরো ব্যাপারটাকে অর্থনীতির ভাষায় মার্কেট ফর লেমনসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এর মানে হলো, ক্রেতা জানে না সে কী কিনছে, কিন্তু বিক্রেতা জানে পণ্যের আসল মান কতটা খারাপ। কোম্পানিগুলো যে মানের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলছে, আসলে দিচ্ছে তারচেয়ে অনেক নিম্নমানের।

স্বাভাবিকভাবেই এই গবেষণার ফলাফল মেনে নিতে নারাজ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কোম্পানিগুলো। তাদের দাবি, গবেষকেরা যে পরিস্থিতির কথা কল্পনা করেছেন, তা বাস্তবে ঘটা খুবই কঠিন। লাস্টপাস ও ওয়ানপাসওয়ার্ডের মতে, হ্যাকারকে যদি সফল হতে হয়, তবে তাকে পুরো সার্ভারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। আর সে জন্য কোম্পানিগুলো কোটি কোটি ডলার খরচ করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রেখেছে।

অর্থনীতির ভাষায় মার্কেট ফর লেমনস বলতে বোঝায়, ক্রেতা জানে না সে কী কিনছে, কিন্তু বিক্রেতা জানে পণ্যের আসল মান কতটা খারাপ।
ড্যাশলেন আগে দাবি করেছিল, সার্ভার হ্যাক হলেও তথ্য চুরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই গবেষণার পর তারা সেই ডকুমেন্ট সরিয়ে ফেলেছে এবং নতুন করে লিখেছে ‘সার্ভার হ্যাক হলে তথ্য চুরির সম্ভাবনা কম’। মানে বুঝতে পারছেন, সুরটা একটু নরম করেছে।

কিন্তু আমাদের উপায় কী? আমরা কি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা ছেড়ে দেব? খাতায় লিখে রাখব সব পাসওয়ার্ড? হয়তো এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গবেষকেরা যে হ্যাকিংয়ের পদ্ধতির কথা বলেছেন, তা বেশ জটিল এবং এর জন্য হ্যাকারদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলোর শতভাগ নিরাপত্তা হয়তো নেই, তবুও এখন এটির চেয়ে সুবিধাজনক ও নিরাপদ বিকল্পও আমাদের হাতে নেই
পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলোর শতভাগ নিরাপত্তা হয়তো নেই, তবুও এখন এটির চেয়ে সুবিধাজনক ও নিরাপদ বিকল্পও আমাদের হাতে নেইছবি: এন্ডসাইট
তা ছাড়া ১৬০টি পাসওয়ার্ড মনে রাখাও তো সম্ভব নয়, যদি না সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাটা এর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। খাতা কলমে লিখে রাখাটাও ভালো সমাধান নয়। ক্লাউড-ভিত্তিক পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলোর শতভাগ নিরাপত্তা হয়তো নেই, কিন্তু বর্তমানে এর চেয়ে সুবিধাজনক এবং নিরাপদ কোনো বিকল্পও আমাদের হাতে নেই।

তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, চোখ বন্ধ করে কোনো প্রযুক্তির ওপরই শতভাগ ভরসা করা বোকামি। কোম্পানিগুলো তাদের বিজ্ঞাপনে যা-ই বলুক না কেন, নিরাপত্তার চাবিটা শেষমেশ নিজের হাতে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

লেখক: ফ্রন্টেন্ড ডেভলপার, সফটভেঞ্চ
সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

স্বাক্ষর হলো আপনার বাইরের রূপের একটি প্রতিচ্ছবি।সিগনেচার বা স্বাক্ষর শুধু আপনার পরিচয় নির্ধারণের মাধ্যম বা কেবল একটি নাম...
02/24/2026

স্বাক্ষর হলো আপনার বাইরের রূপের একটি প্রতিচ্ছবি।

সিগনেচার বা স্বাক্ষর শুধু আপনার পরিচয় নির্ধারণের মাধ্যম বা কেবল একটি নাম লেখার উপায় নয়। গ্রাফোলজিস্ট বা হাতের লেখার বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্বাক্ষর থেকে আপনার পাবলিক ইমেজ বা অন্যদের সামনে আপনি নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে চান, সে সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

স্বাক্ষর থেকে কী বোঝা যায়
১. ব্যক্তিত্বের প্রকাশ: স্বাক্ষর হলো আপনার বাইরের রূপের একটি প্রতিচ্ছবি। এর মাধ্যমে মূলত আপনি বহির্বিশ্বের সামনে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে চান, সেটিই প্রতিফলিত হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর আড়ালে মানুষের সত্যিকারের ব্যক্তিত্বও প্রকাশ পেয়ে যায়।

২. স্বাক্ষরের আকার: বড় আকারের স্বাক্ষর উচ্চ সামাজিক আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ আকর্ষণের প্রবণতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে ছোট স্বাক্ষর সাধারণত অন্তর্মুখী স্বভাব, লাজুকতা বা বিনয়ী মনোভাব প্রকাশ করে।

৩. পাঠযোগ্যতা: অনেকের স্বাক্ষর বেশ স্পষ্ট ও সহজে পড়া যায়। এর মানে হলো, তাঁরা সামাজিকভাবে বেশ খোলামেলা ও সরল প্রকৃতির। অন্যদিকে অস্পষ্ট বা জটিল স্বাক্ষরের অধিকারীরা সাধারণত গোপনীয়তা পছন্দ করেন এবং নিজের সম্পর্কে অন্যদের খুব কম তথ্যই দিতে চান।

অস্পষ্ট বা জটিল স্বাক্ষরের অধিকারী ব্যাক্তিরা সাধারণত গোপনীয়তা পছন্দ করেন
অস্পষ্ট বা জটিল স্বাক্ষরের অধিকারী ব্যাক্তিরা সাধারণত গোপনীয়তা পছন্দ করেনছবি: আর্টলোগো
৪. লেখার ঝোঁক ও আকৃতি: স্বাক্ষর ডান দিকে হেলানো হওয়ার অর্থ হলো, স্বাক্ষরকারী বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন। বাঁ দিকে হেলানো থাকলে ধারণা করা হয় যে তিনি কিছুটা নিজের ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে পছন্দ করেন। আবার গোলাকার অক্ষরের স্বাক্ষর সাধারণত শান্ত ও সহমর্মী ব্যক্তির লক্ষণ।

৫. অলংকরণ বা সাজানো ভাব: অনেকের স্বাক্ষর একদম অন্য রকম এবং বেশ অলংকৃত বা প্যাঁচানো হয়। এর অর্থ হলো, তিনি নিজেকে বিশেষ বা অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে তুলে ধরতে চান। অন্যদিকে বেশি কোঁকড়ানো বা তীক্ষ্ণ কোণযুক্ত স্বাক্ষরের অধিকারীরা অনেক সময় কঠোর স্বভাবের ও সমালোচনামুখর হতে পারেন।

বড় আকারের স্বাক্ষর উচ্চ সামাজিক আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ আকর্ষণের প্রবণতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে ছোট স্বাক্ষর সাধারণত অন্তর্মুখী স্বভাব বা বিনয়ী মনোভাব প্রকাশ করে।
ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ও ফরেনসিক গ্রাফোলজিতে স্বাক্ষর
ফরেনসিক গ্রাফোলজি ব্যবহার করে স্বাক্ষরের ধরন, কলমের চাপ, কোণ এবং রেখার বৈশিষ্ট্যগুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হয়। এটি মূলত স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই বা জালিয়াতি চিহ্নিত করতে কাজে লাগে। কোনো ব্যাংক চেক, চুক্তিপত্র, আইনি নথি বা চিঠি যে আসলেই নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তিরই লেখা, তা নিশ্চিত করতে মূল স্বাক্ষরের সঙ্গে সন্দেহভাজন স্বাক্ষরের তুলনা করা হয়।

ফরেনসিক গ্রাফোলজি মূলত স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই বা জালিয়াতি চিহ্নিত করতে কাজে লাগে
ফরেনসিক গ্রাফোলজি মূলত স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই বা জালিয়াতি চিহ্নিত করতে কাজে লাগেছবি: রুথ মায়ার্স / হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট
কিছু ক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষরকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়। তবে কোনো অপরাধীকে শনাক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করার জন্য কেবল একটি স্বাক্ষরই যথেষ্ট নয়।

সাধারণত, স্বাক্ষর পরীক্ষার ফলাফলকে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর জবানবন্দি, আঙুলের ছাপ, ডিএনএ এবং অ্যালিবাইয়ের মতো অন্যান্য জোরালো প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

বিজ্ঞানের যে ১০টি শব্দ আমরা ভুলভাবে ব্যবহার করি
কোনো ব্যাংক চেক, চুক্তিপত্র, আইনি নথি বা চিঠি যে আসলেই নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তিরই লেখা, তা নিশ্চিত করতে মূল স্বাক্ষরের সঙ্গে সন্দেহভাজন স্বাক্ষরের তুলনা করা হয়।
স্বাক্ষর পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা
১. নকল হওয়ার ঝুঁকি: খুব দক্ষ জালিয়াতেরা প্রায় আসলের মতোই হুবহু স্বাক্ষর নকল করতে পারে। অনেক সময় সাধারণ গ্রাফোলজিস্টদের পক্ষেও এই সূক্ষ্ম জালিয়াতি ধরা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

২. পরিবর্তনশীলতা: মানুষের স্বাক্ষর সারা জীবন এক রকম থাকে না। বয়স, মানসিক অবস্থা, মানসিক চাপ বা স্নায়বিক অসুস্থতার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষরের ধরন বা প্যাটার্ন বদলে যেতে পারে।

৩. শতভাগ নিশ্চয়তার অভাব: গ্রাফোলজি একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা দিতে পারে ঠিকই, তবে এই ধারণা যে সব সময় শতভাগ নির্ভুল বা বিজ্ঞানসম্মত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে ।একুশ শতকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা এক অদ্ভুত প্য...
02/24/2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে ।

একুশ শতকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা এক অদ্ভুত প্যারাডক্সের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একদিকে আমরা দাবি করছি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের আবেগতাড়িত ভুল ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম; অন্যদিকে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই প্রযুক্তিগুলো অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এই সংকটের নাম অ্যালগরিদমিক বায়াস।

এআই যেহেতু বিশাল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাই সেই উপাত্তে যদি সমাজের বিদ্যমান কুসংস্কার বা বৈষম্য লুকিয়ে থাকে, তবে এআই সেই বৈষম্যকে কেবল গ্রহণই করে না, বরং তাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে পুনরায় উৎপাদন করে। ফলে এআই এখন কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের পথে এক নতুন এবং অদৃশ্য বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কেন ঘটে এই বায়াস
অ্যালগরিদমিক বায়াস কেন ঘটে, তা বুঝতে হলে এআইয়ের শিক্ষা পদ্ধতি বা মেশিন লার্নিং প্রক্রিয়াটি তলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে গারবেজ ইন, গারবেজ আউট। অর্থাৎ, একটি অ্যালগরিদমকে যদি এমন ঐতিহাসিক ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো বর্ণ, লিঙ্গ বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি অবিচার করা হয়েছে, তাহলে সেই অ্যালগরিদমটি অবচেতনভাবেই ওই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করতে শেখে।

অ্যালগরিদমিক বায়াস যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি সমাজিক বৈষম্যের ডিজিটাল প্রতিফলন
অ্যালগরিদমিক বায়াস যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি সমাজিক বৈষম্যের ডিজিটাল প্রতিফলনছবি: আইস্টোক / গেটি ইমেজ
এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের বৈষম্যেরই একটি ডিজিটাল প্রতিফলন। যখন কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের জীবনবৃত্তান্তকে বেশি প্রাধান্য দেয়, কিংবা যখন কোনো অপরাধী শনাক্তকরণ সফটওয়্যার কৃষ্ণাঙ্গ বা সংখ্যালঘু মানুষের চেহারা ভুলভাবে চিহ্নিত করে, তখন বুঝতে হবে অ্যালগরিদমটি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।

যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে রাষ্ট্র
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এই সংকটের নাম অ্যালগরিদমিক বায়াস।
বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও উদাহরণ
গ্লোবাল প্রেক্ষাপটে অ্যালগরিদমিক বায়াসের অসংখ্য উদাহরণ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস নামে একটি অ্যালগরিদম জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধীর পুনরায় অপরাধ করার ঝুঁকি মূল্যায়ন করত। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালগরিদমটি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের দ্বিগুণ বেশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছে।

একইভাবে, ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন তাদের কর্মী নিয়োগের জন্য যে এআই টুল তৈরি করেছিল, তা গত দশ বছরের নিয়োগের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে নারীদের আবেদনপত্র বাতিল করে দিতে শুরু করেছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস অ্যালগরিদম কৃষ্ণাঙ্গদের অপরাধের ঝুঁকি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি দেখিয়েছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস অ্যালগরিদম কৃষ্ণাঙ্গদের অপরাধের ঝুঁকি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি দেখিয়েছেছবি: লুইস ডেকোনিঙ্ক
কারণ, গত দশ বছরে প্রযুক্তি খাতে পুরুষদের প্রাধান্য ছিল বেশি। এআই সেটাই সঠিক নিয়ম হিসেবে শিখে নিয়েছিল। এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে, এআই যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, তবে তা লিঙ্গ ও বর্ণবৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বদলে যাচ্ছে প্রতিবন্ধীদের অলিম্পিক
গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কম্পাস নামে অ্যালগরিদমটি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের দ্বিগুণ বেশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
অর্থনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে অ্যালগরিদমিক বায়াস এক চরম অসমতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লোন বা ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে এআই ব্যবহার করছে। অ্যালগরিদমটি যদি এমন হয় যে এটি নির্দিষ্ট কোনো এলাকার মানুষের আয়ের চেয়ে তাদের সামাজিক পরিচয়কে বড় করে দেখে, তাহলে এক বিশাল গোষ্ঠী আর্থিক অন্তর্ভুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমাদের কোনো ব্যাংক যদি এমন একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে, যা গ্রামীণ মানুষের চেয়ে শহরের মানুষকে বা নির্দিষ্ট পেশার মানুষকে বেশি সুযোগ দেয়, তাহলে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের সুযোগ অ্যালগরিদমের হাতে জিম্মি থাকলে, তা দরিদ্রকে আরও দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলবে।

অ্যালগরিদম যদি ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবে
অ্যালগরিদম যদি ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবেছবি: লিঙ্কডইন
সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবেও এই বৈষম্য খুবই গভীর। অ্যালগরিদমগুলো এখন আমাদের ঠিক করে দিচ্ছে আমরা ইন্টারনেটে কোন খবরটি দেখব কিংবা কোন মতামতটি শুনব। একে বলা হয় ফিল্টার বাবল। এই অ্যালগরিদমগুলো যদি মানুষের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে কেবল একতরফা তথ্য দেখাতে থাকে, তাহলে সমাজে অসহিষ্ণুতা এবং মেরুকরণ বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের কারণে যে গুজব বা উসকানিমূলক কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তার মূলে রয়েছে এই বিশেষ এনগেজমেন্ট ভিত্তিক অ্যালগরিদম। এগুলো সত্য বা মিথ্যার চেয়ে মানুষের আবেগ ও উত্তেজনাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

যেভাবে কাজ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
অ্যালগরিদমগুলো এখন আমাদের ঠিক করে দিচ্ছে আমরা ইন্টারনেটে কোন খবরটি দেখব বা কোন মতামতটি শুনব। একে বলা হয় ফিল্টার বাবল।
বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য চ্যালেঞ্জটি আরও জটিল। আমাদের নিজস্ব ডেটাসেট বা তথ্যের পর্যাপ্ততা কম থাকায় আমরা প্রায়ই বিদেশি প্রি-ট্রেইনড এআই মডেল ব্যবহার করি। এই মডেলগুলো পশ্চিমা সমাজের প্রেক্ষাপটে তৈরি। এগুলো আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি, ভাষা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে আমাদের অজান্তেই বিদেশি পক্ষপাতিত্ব আমাদের শাসনব্যবস্থা বা সেবা খাতে প্রবেশ করছে।

ডিজিটাল ল্যাঙ্গুয়েজ বায়াসের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ হতে পারে
ডিজিটাল ল্যাঙ্গুয়েজ বায়াসের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ হতে পারেছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো এআই মডেল কেবল প্রমিত বাংলায় প্রশিক্ষিত হয়, তবে বাংলাদেশের অসংখ্য আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষ সেই প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। এটি একধরনের ডিজিটাল ল্যাঙ্গুয়েজ বায়াস, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ করতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা যেভাবে বদলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
যদি কোনো এআই মডেল কেবল প্রমিত বাংলায় প্রশিক্ষিত হয়, তবে বাংলাদেশের অসংখ্য আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষ সেই প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।
উত্তরণের উপায়
এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী? একজন গবেষক হিসেবে আমি মনে করি, কেবল প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে অ্যালগরিদমিক বায়াস রোখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ত্রিস্তরীয় পদক্ষেপ।

১. ডেটা স্বচ্ছতা: এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত তথ্যে সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। ডেটা হতে হবে বৈচিত্র্যময়।

২. অ্যালগরিদমিক অডিট: সরকারি পর্যায়ে অ্যালগরিদমের নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যে অ্যালগরিদম ব্যবহার করছে, তা জনস্বার্থবিরোধী কি না, তা পরীক্ষা করার এখতিয়ার রাষ্ট্রের থাকতে হবে।

৩. নৈতিক ব্যবহার: এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যা কেবল দক্ষই নয়, বরং ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যা কেবল দক্ষই নয়, বরং ন্যায়পরায়ণ ও মানবিকছবি: সাইটেক ডেইলি ডটকম
সবশেষে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো অলৌকিক বা দৈব শক্তি নয়; এটি মানুষের হাতে তৈরি এক অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার। এই হাতিয়ার যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে তা সমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষতগুলোকে আরও গভীর করবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা কেবল দক্ষই নয়, বরং ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক। প্রযুক্তির অন্ধ জয়গান গাওয়ার চেয়ে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য বৈষম্যগুলো চিহ্নিত করে তার প্রতিকার করা আজ সময়ের দাবি। স্বাধীনতা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়, একুশ শতকে স্বাধীনতা মানে অ্যালগরিদমের অদৃশ্য শৃঙ্খল থেকে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বকীয়তা রক্ষা করা।

লেখক: সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তি গবেষক

Address

152 Traders Alley
Kansas City, MO
64110

Telephone

+18163497149

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Siͥleͣnͫt Cyber Raid posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Siͥleͣnͫt Cyber Raid:

Share

Category