06/07/2026
ছবিতে একটি পরিবারকে দেখা যাচ্ছে। পাশে ফুটপাতে রাখা একটি ৫ লিটারের বোতল। স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল জাগে। বোতলটিতে কী আছে? আর ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে এক করুণ বাস্তবতা।
চাঁদপুর জেলার হাইমচর এলাকার মুন্না ২০০৭ সাল থেকে মতিঝিলের শরীফ ম্যানশনের গলির ফুটপাতে ছোট একটি ভাতের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। স্ত্রী রূপা, ৫ বছরের ছেলে রাহী এবং ২ বছরের ছেলে ইব্রাহীমকে নিয়ে মুগদায় ছিল তার ছোট্ট সংসার। স্ত্রী বাসায় রান্না করতেন, সেই খাবারই এনে ফুটপাতে বিক্রি করতেন মুন্না।
অভিযোগ অনুযায়ী, মতিঝিল এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহিদ ও ছাত্রদল নেতা শুভ মুন্নার কাছে ঈদ উপলক্ষ্যে ৩০,০০০ টাকা এবং প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা চাঁ'দা দাবি করে। সামর্থ্য না থাকায় মুন্না তা দিতে পারেননি। এরপর দোকান ভেঙে দিয়ে অন্য কাউকে জায়গা দিয়ে দেওয়ার হু'মকিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তার ছোট্ট দোকানটিও ভেঙে ফেলা হয়।
জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মুন্না মা'নসিকভাবে ভে'ঙে পড়েন। অ'ভিযোগ অনুযায়ী, ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশায় তিনি পরিবারসহ তারেক রহমানের গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনের দিকে যান। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পথরোধ করে।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে মুন্না আ'ত্মাহু'তির উদ্দেশ্যে গায়ে কে'রোসিন ঢেলে আ'গুন দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা পরে পুলিশ প্রতিহত করে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত জানা যায়, ওই বোতলে ছিল কেরোসিন। আর ঘটনাস্থল ছিল গুলশানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ফুটপাথ।
চাঁ'দাবা'জির অ'ভিযোগে জীবনের সব হা'রিয়ে, শেষ পর্যন্ত পরিবারসহ কেরোসিনের বোতল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ভুক্তভোগী মুন্না।