10/19/2021
ক্ষুদ্র পরিসরে ই-কর্মাস ব্যবসা শুরু করার জন্য যা লাগবে
বাংলাদেশে ইন্টারনেট বিজনেস বলতে ই-কমার্স শব্দটাই বেশি ব্যবহার হয়। অনলাইনে ওয়েবসাইট থেকে কেনা গেলে সেটা ই-কমার্সই বলে। সেই অর্থে বিষয়টা ঠিক আছে । কিন্তু এই ই-কমার্স মানেই পুরো ইন্টারনেট বিজনেসকে বুঝায় না । সেই বিষয় আরেক দিন লিখবো। ধরে নিলাম আপনি অনলাইনে একটা ওয়েব সাইট খুলে তা থেকে কিছু বিক্রয় করতে চাচ্ছেন। এই ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে গেলে আপনার কি লাগবে তাই নিয়ে আজ লিখছি।
এখানকার পত্রিকায় , সোশ্যাল মিডিয়া , এখন পর্যন্ত নেয়া উদ্যোগ গুলোর দিকে তাকালে সহজেই মনে হতে পারে ই-কমার্স মানে অনেক বড় কিছু , অনেক টাকা লাগবে এবং কারিগরি বিষয়ে অনেক দক্ষ হতে হবে। আসলে বিষয়টি মোটেও সেকরম নয়। ইন্টারনেটের এতো জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন ব্যাক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উদ্যোগ । আপনি যদি ওয়েব ব্রাউজ করে থাকেন দেখবেন এমন অনেক সাইট আপনি পেয়ে যাবেন যা থেকে অল্প কিছু প্রোডাক্ট বিক্রি হচ্ছে । সাইটটি ভালোই উপার্জন করছে ।
ক্ষুদ্র পরিসরে ই-কর্মাস সাইট তৈরি করার জন্য যা লাগবেঃ
১) লাভ জনক মৌলিক আইডিয়া বের করাঃ আইডিয়াটা মৌলিক হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ন । অন্যের দেখাদেখি আপনিও একই ব্যবসা শুরু করতে না চাওয়াই ভালো । বাংলাদেশে অনলাইনে কেনা বেচা মাত্র শুরু হলো । চাইলেই অনেক সহজেই ভালো কিছু আইডিয়া খুজে পাবেন। খুব ভালো হয় যদি আপনি যে বিষয়ে ভালো জানেন তা নিয়ে শুরু করা । অথবা আপনার শখ বা যে বিষয়ে আপনার বেশ আগ্রহ আছে সেই বিষয়ও আপনি নির্বাচন করতে পারেন। যদি মাথায় কিছু না আসে তাহলে যখন বিভিন্ন ধরনের সাইট ব্রাউজ করেন তা দেখে আইডিয়া নেয়ার চেস্টা করতে পারেন । এমন অনেক সাইট আছে যার মতো আমাদের এখানেও করা যায়। এমন কিছু পেলে লিখে রাখতে পারেন । অনেক গুলো আইডিয়া জমলে সেগুলো সাম্ভাব্যতা যাচাই করে কোন একটা নির্বাচন করতে পারেন।
২) টার্গেট মার্কেট নির্দিস্ট করা – আপনি সবাইকে টার্গেট করলে ভূল করবেন।সবার জন্য প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করাও ভুল ।যাদের অনেক বাজেট অনলাইন মেগাস্টোর করতে চায় তাদের জন্য বিষয়টা ঠিক আছে।আপনার উচিত হবে নির্দিস্ট একটা নিশ নিয়ে কাজ করা । অনলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে নিশ মার্কেটিং একটা খুব জনপ্রিয় ধারনা। এই ভালো একটা নিশ কে টার্গেট করে এগুলো ভালো করবেন।
৩) ব্যবসার জন্য পরিকল্পনা তৈরিঃ এখানেই আমরা অনেক ভূল করি । আমাদের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসায়ীদের পার্থক্য এখানে । আমরা ব্যবসার জন্য পরিক্লপনা না তৈরি করেই ব্যবসা শুরু করে দেই । এজন্য অধিকাংশ ব্যবসায়ী মাঝখানে এসে হোছট খায় অথবা জানে না গন্তব্য কি । আমার মতে খুব সংক্ষিপ্ত হলেও মানে এক দুই পাতার হলেও একটা পরিকল্পনা আপনার অবশ্যযই করা উচিত ।
৪) সাইট তৈরি /টেকনিক্যাল সলিউশ্যান – বিকাশ , ক্যাশ অন ডেলিভারির কারনে মুটামুটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে অফলাইনে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে । যেকোনো ই-কমার্স প্লাগিন ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট গ্রহন করতে পারে। বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ড গুলো যদি সমস্যা করে তাহলে যারা ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করতে চাইবে তাদের জন্য আলাদা প্লাগিন তৈরির অথবা এড-অন তৈরির প্রয়োজন হতে পারে। এস এস এল কোম্পনী গুলো এই প্লাগিন তৈরি করে দিলে বিষয়টি খুব সহজ হয়ে যাবে। এছাড়া পেপল যদি আসে পুরো বিষয়টা একেবারে সহজ হয়ে যাবে।
৫) সাপ্লাইন চেইন ঠিক করা – ঠিক করতে হবে প্রোডাক্ট কোথা থেকে আসবে অথবা কিনবেন অথবা নিজেই বানাবেন কিনা, স্টক কিভাবে মেইনটেইন করবেন , অর্ডার হওয়ার পর কিভাবে ক্রেতার কাছে পৌছাবেন । এই ক্ষেত্রে শামীম ভাইয়ের পরামর্শটি খুবই গুরত্বপূর্ন।ভালো কোন কুরিয়ারের সাথে চুক্তি করতে পারেন।
৬) টিম তৈরি করা – সাফল্য নির্ভর করবে কেমন টিম আপনি তৈরি করতে পারছেন। কে কি ধরনের ভুমিকা পালন করছে। একটা লিস্ট করে নিতে পারেন কি ধরনের স্কিল এই ধরনের ব্যবসা করতে লাগবে । প্রথমেই সব ধরনের স্কিলের কর্মী স্থায়ীভাবে নিয়োগ না দিয়ে ফ্রিল্যান্সার কিংবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে আউটসৌর্সিং করতে পারেন । ব্যবসা বাড়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রথমে খন্ডকালীন , পরর্বত্তীতে পূর্নকালীন কর্মী নিয়োগ করতে পারেন।
৭) মার্কেটিং – সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন । অনলাইনে কেনাবেচা করা শুরু করার অর্থই হলো আপনি ইন্টারনেট থেকে ক্রেতা সংগ্রহ করবেন । সেই ক্ষেত্রে ইন্টারনেটে একটি সাইটকে প্রচার করার বিষয়টা অনেক বেশি জরুরী । আপনার মার্কেটিং কৌশল অফ লাইন এবং অনলাইনের সংমিশ্রনে হতে হবে।কিন্তু অনলাইন মার্কেটিংয়ে আপনার ব্যর্থতা কিংবা সফলতাই ঠিক করে দেবে আপনার অনলাইন ব্যবসার ভবিষ্যত । এবং আপনি প্রথমেই যে টার্গেট গ্রুপকে নির্দিস্ট করে ছিলেন তাদের কাছে পৌছানো , তাদেরকে ক্রেতা বানানো , তাদের ধরে রাখার জন্য সার্চ, সোশ্যাল , ইমেইল মার্কেটিং সহ অনলাইনের আরো যে যে পদ্দ্বতি গুলো প্রযোজ্য তা সঠিক ভাবে কাজে লাগানো এবং ক্রমাগত কাজে লাগিয়ে যাওয়ার উপর নির্ভর করবে আপনার সাফল্য ।
আসলে অফলাইন বিষয়গুলোর চেয়ে ওয়েব টেকনোলজি ,ইণ্টারনেট মার্কেটিং আপনার সাফল্যের সাথে জড়িত ।
৮) রেজাল্ট পর্যালোচনা করা -প্রতিটি বিষয়ে কেমন করছেন তা পর্যালোচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ন । প্রথম দিকে এই পর্যালোচনার কাজটি বেশি করতে হবে। প্রথম দিকে ধরে নেয়া যায় যে আপনি অভিজ্ঞ নয় । আপনার ভুল হওয়ার সুযোগ অনেক বেশী থাকবে । ভুল গুলো চিন্থিত করে সুধরানোর তড়িত ব্যবস্থা নেয়া অনেক জরুরী হবে।
তাই খুব কম খরচে আপনার পছন্দের ই কমার্স সাইটি তৈরি করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।