AIDSO, MCK Unit

AIDSO, MCK Unit নিয়মিত কলকাতা মেডিকেল কলেজ সহ অন্যান্য ছাত্র আন্দোলনের খবর পেতে চোখ রাখুন এই পেজে।

এন আর এস মেডিকেল কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে AIDSO-র বক্তব্যএন আর এস মেডিকেল কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ভবনে ...
17/09/2026

এন আর এস মেডিকেল কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে AIDSO-র বক্তব্য

এন আর এস মেডিকেল কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ভবনে ডিএমই-র দপ্তর ঘেরাও করে MEDEVISION-ABVP যেভাবে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্টস কাউন্সিল বাতিল করার দাবি তুলেছে, আমরা ছাত্র সংগঠন AIDSO-র পক্ষ থেকে তার তীব্র নিন্দা জানাই।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই আমরা লক্ষ্য করছি, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ABVP বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাস দখলের রাজনীতি, গুন্ডাগিরি ও তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে অ্যাডমিশনকে কেন্দ্র করে AIDSO-র কর্মী, কলেজের ছাত্র জুনিয়র ডাক্তারদের উপর বিজেপি ও ABVP-র বহিরাগতদের নিয়ে যে আক্রমণ করেছিল, তা রাজ্যের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন। মেডিকেল কলেজগুলিতে MEDEVISION-ABVP এবং NMO -র এই দখলদারির রাজনীতিকে আমরা ধিক্কার জানাই।

এই পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি:

প্রথমত, প্রতিটি কলেজ ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকা জরুরি। বিগত সরকারের আমলেও মেডিকেল কলেজগুলিতে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছিল না। তার পরিবর্তে তৈরি হয়েছিল এমন এক পরিবেশ, যেখানে ভয় দেখানো, হুমকি ও থ্রেট এবং নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ফেস্ট এর নামে হাজার হাজার টাকা তোলা মতো কালচার দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। এই পরিস্থিতির চরম পরিণতি হিসেবে আমরা অভয়ার মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। বর্তমান সরকারের আমলেও শাসকদলের ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠনগুলির বিভিন্ন কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। উপরি যুক্ত হয়েছে মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্রদের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ তৈরি করার প্রচেষ্টা। সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের অর্থ হল-একজন ছাত্র বা ছাত্রী নিজের পছন্দের মতাদর্শে বিশ্বাস করতে পারবে, যেকোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে এবং তার আদর্শকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের মধ্যে প্রচার করতে পারে। আবার কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না হয়েও স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবেন। তাই "No Politics in Campus" এর দাবি আদতে শাসক দলের রাজনীতিকে জায়গা করে দিতে সুবিধা করবে। কারণ এই স্লোগানের মাধ্যমেই শাসক দল বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করে।

তৃতীয়ত, বিগত সরকারের আমলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রেখে কর্তৃপক্ষের দ্বারা মনোনীত (Nominated) স্টুডেন্টস্ কাউন্সিল গঠন করা হয়েছিল। ফলে স্বভাবতই বিভিন্ন কলেজে এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছিল শাসক দলের ছাত্র সংগঠন। তাই অবিলম্বে ছাত্রছাত্রীদের ভোটদানের ভিত্তিতে নির্বাচিত 'ছাত্র সংসদ' ( Elected Students' Union) গঠন করা উচিত। এর জন্য কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে।

এমত পরিস্থিতিতে এনআরএস মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছে AIDSO-র আহ্বান-

1. স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ছাত্র সংসদ (Students' Union) নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন

2. ABVP-NMO- MeDeVision এর ক্যাম্পাস দখলের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন।

3. র‍্যাগিং, হুমকি, ভয় দেখানো এবং সমস্ত ধরনের থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

4. ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের মতামতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন কে শক্তিশালী করুন।

নবাআগত MBBS ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস শুরু হওয়ার সময়সীমা প্রকাশ এবং সঠিক সময়ে হোস্টেল দেওয়াসহ আনুষঙ্গিক কিছু দাবিতে AIDSO...
11/09/2026

নবাআগত MBBS ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস শুরু হওয়ার সময়সীমা প্রকাশ এবং সঠিক সময়ে হোস্টেল দেওয়াসহ আনুষঙ্গিক কিছু দাবিতে AIDSO, মেডিকেল কলেজ কলকাতা ইউনিটের পক্ষ থেকে আজ প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
ডিন স্যার এবং হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট স্যার এর সাথেও কথা হয়।
১৫ই সেপ্টেম্বর তারিখ থেকেই ক্লাস শুরু হবে এবং সেদিনই হোস্টেল পেয়ে যাবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।

আজ AIDSO মেডিকেল ইউনিটের পক্ষ থেকে মেডিকেল ছাত্রছাত্রীদের কয়েকটি গুরুতর সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার কাছে প্রত...
10/09/2026

আজ AIDSO মেডিকেল ইউনিটের পক্ষ থেকে মেডিকেল ছাত্রছাত্রীদের কয়েকটি গুরুতর সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার কাছে প্রতিনিধি ডেপুটেশন দেওয়া হয়। ডেপুটেশন দিয়ে বেরিয়ে এসে AIDSO মেডিকেল ইউনিটের কনভেনার ডাক্তার শামস মুসাফির বলেন,

"সম্প্রতি ক্যালকাটা ন্যাশেনাল মেডিকেল কলেজে পরীক্ষায় দুর্নীতি আটকানোর নাম করে মেয়েদের দেহতল্লাশি করানো, অশালীন ব্যবহার, হিজাব ও অন্তর্বাস খোলানোর মত গুরুতর অভিযোগ আসে। অথচ কদিন আগেই দেখা গেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে কিছু ছাত্রকে পাশ করানোর জন্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে থেকেই যখন চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল তার কোন তদন্ত হল না। এসব বেনিয়মের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানানো হয় এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সব রকমের অবৈধ হস্তক্ষেপ, বেনিয়াম, ফসকা গেরোর বজ্র আঁটুনি বন্ধ করে পরীক্ষা ব্যবস্থা কে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজে ABVP BJP-র বহিরাগত দুষ্কৃতিদের দ্বারা কলেজের এডমিশন হলে, কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রী জুনিয়রদের উপর আক্রমণ, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া, ছাত্রীদের অশালীন হুমকি দেওয়া ইত্যাদি সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনরকম পদক্ষেপ না করা এবং তার মাধ্যমে বাস্তবে দুষ্কৃতিদেরই কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রশ্রয়দান এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আরো মারাত্মক দুর্ঘটনার রাস্তা খুলে দেওয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়। ঘটনার সুদূরপ্রসারী অভিঘাত এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার অভাবের কথা তিনি স্বীকার করেন এবং অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

স্বাস্থ্য বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য, স্বাস্থ্য সচিব সহ রাজ্য মানবাধিকার কমিশন এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছেও ডেপুটেশনের প্রতিলিপি পাঠানো হয়।"

সংবাদদাতা
ডাক্তার অপূর্ব মন্ডল
9641322061

"প্রথম হই আর লাস্ট হই, আমি স্থির বুঝিয়াছি লেখাপড়া ছাত্রের প্রধান উদ্দেশ্য নহে - বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ্রাস পাইলে ছাত্ররা আপ...
08/09/2026

"প্রথম হই আর লাস্ট হই, আমি স্থির বুঝিয়াছি লেখাপড়া ছাত্রের প্রধান উদ্দেশ্য নহে - বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ্রাস পাইলে ছাত্ররা আপনাকে কৃতার্থ মনে করে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ্রাস পাইলেও যদি কেহ জ্ঞান লাভ না করিতে পারে তবে সে শিক্ষাকে আমি ঘৃণা করি। ... চরিত্রগঠনই ছাত্রদের প্রধান কর্তব্য। আর কার কিরূপ উন্নত চরিত্র তাহা কার্যেই বুঝা যায়। .... কার্যই জ্ঞানের পরিচায়ক। বইপড়া বিদ্যাকে আমি সর্বান্তঃকরণে ঘৃণা করি। আমি চাই চরিত্র-জ্ঞান-কার্য।"

- রচনাবলী, ১ম খণ্ড
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

𝐀𝐈𝐃𝐒𝐎 sᴛᴀɴᴅs ᴡɪᴛʜ 𝐒𝐭𝐫𝐮𝐠𝐠𝐥𝐞 𝐨𝐟 𝐈𝐍𝐓𝐄𝐑𝐍 𝐃𝐎𝐂𝐓𝐎𝐑𝐒 𝐚𝐜𝐫𝐨𝐬𝐬 𝐈𝐍𝐃𝐈𝐀
08/09/2026

𝐀𝐈𝐃𝐒𝐎 sᴛᴀɴᴅs ᴡɪᴛʜ 𝐒𝐭𝐫𝐮𝐠𝐠𝐥𝐞 𝐨𝐟 𝐈𝐍𝐓𝐄𝐑𝐍 𝐃𝐎𝐂𝐓𝐎𝐑𝐒 𝐚𝐜𝐫𝐨𝐬𝐬 𝐈𝐍𝐃𝐈𝐀

বিগত সরকারের আমলে রাজ্যজুড়ে মেডিকেল কলেজগুলি সহ সমস্ত শিক্ষাঙ্গনে শাসকদলের ছাত্রসংগঠনের অনৈতিক কাজকর্ম, থ্রেট কালচার, না...
07/09/2026

বিগত সরকারের আমলে রাজ্যজুড়ে মেডিকেল কলেজগুলি সহ সমস্ত শিক্ষাঙ্গনে শাসকদলের ছাত্রসংগঠনের অনৈতিক কাজকর্ম, থ্রেট কালচার, নারী নির্যাতনের যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল তার বিরুদ্ধ-মনন বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে প্রথম দিন থেকেই আদর্শ দিয়ে তারা ছাত্রদের মন জয় করার বদলে গায়ের জোরে শিক্ষাঙ্গন দখল করার হীন প্রচেষ্টা শুরু করেছে। ফলে বারবার ছাত্রদের রক্ত ঝরছে শিক্ষাঙ্গনের পবিত্র মাটিতে; কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, মেখলিগঞ্জ সহ রাজ্যের সর্বত্র। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ছাত্রস্বার্থে আপোষহীন লড়াই এর ধারাবাহিক শক্তি AIDSO-র কর্মী সমর্থকরা।

তবে গত ২-৩ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে যে লাগাতার আক্রমণ চলল তা সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। বহিরাগত ABVP নেতারা একটি মেডিকেল কলেজের এডমিশনের হল, যেখানে কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদেরও প্রবেশের অনুমতি দেয়নি, সেখানে ঢুকে AIDSO কর্মী সমর্থক ছাত্র-ছাত্রী ও জুনিয়র ডাক্তারদের বেধড়ক মারধর করেছে, নেতাজির ছবি কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে, ছাত্রীদের শারীরিক আক্রমণ করেছে, তিনজন ছাত্রের মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে! ক্যাম্পাসের মধ্যে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দুজন প্রাক্তন ছাত্রকে যখন মারধর করছে পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এটা কোন রাজনীতি নাকি রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়াদের ক্ষমতার আস্ফালন; রাজ্যবাসী ভেবে দেখবেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে; কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন বহিরাগত দুষ্কৃতিদের মেডিকেল কলেজের ভেতরে ঢুকে গুন্ডাবাজি করার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না, অভয়া আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা পুঁজি করে যারা ক্ষমতায় বসল তাদের শাসনে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়? ABVP-র তোলা 'দেশবিরোধী' অপপ্রচার ও হুমকি অগ্রাহ্য করে AIDSO-র আদর্শবান ছাত্রছাত্রীরা পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর যখন আবার নেতাজির ছবি নবাগত ছাত্রদের তুলে দিল এবং অভিভাবকরা তাদের স্নেহ দিয়ে অভিনন্দিত করল, দিশাহারা ও ক্ষিপ্ত BJP-ABVP দুষ্কৃতীরা কলেজের সামনে খাবার খাওয়ার সময় আবার নৃশংস আক্রমণ করল আমাদের কর্মীদের। মাথা ফেটে গুরুতর আহত হলেন রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নর্থ বেঙ্গল ডেন্টাল কলেজের প্রাক্তনী ডাঃ অপূর্ব মন্ডল এবং প্রহৃত হলেন নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ডাঃ রামচন্দ্র শর্মা, ডাঃ সুশ্রী সঙ্গীতা জেনা সহ ছাত্র-ছাত্রী-ডাক্তার'রা। ছাত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়া হল পুলিশের সামনে। এ আমরা কোন রাজ্যে বাস করছি? ঘুরেফিরে আসছে অভয়া আন্দোলনে উঠা প্রশ্নটিই; একটা মেডিকেল কলেজে যদি ছাত্র-ছাত্রী ডাক্তাররা নিরাপদ না হন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এর নামই কি তবে 'ভয় আউট ভরসা ইন'?

আসলে বিজেপি-আরএসএস যে বিভেদ-বৈষম্য ও মিথ্যাচারের রাজনীতির আমদানি করছে তাই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের যুক্তিবাদী, মেধাবী ও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের মন যে জয় করা যায় না, সেটা বুঝে গেছে। এই রাজ্য নবজাগরণের মনীষী রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুলদের তৈরি করা জমি, এই রাজ্য ইংরেজ শাসনের উৎপীড়ন থেকে আজাদীর জন্য আপোষহীন লড়াইয়ের জমি; ক্ষুদিরাম, দেশবন্ধু, মাস্টারদা, প্রীতিলতা, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর তৈরি করা জমি। আজাদী আন্দোলনের বিরোধিতা করে ইংরেজদের দালালি করা হিন্দু মহাসভা-জনসংঘের উত্তরসূরি বিজেপি তাকে ভয় পাবে বৈকি! তাই যে নেতাজি ধর্মকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিতে বলেছিলেন, তাঁর ছবি ছাত্রদের হাতে দেখলে ভয় পায়, ছুঁড়ে ফেলে দেয়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী লাগাতার হুমকি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে যুক্তিবাদী মেধাবী কলেজ পড়ুয়াদের 'দেশ বিরোধী' তকমা এঁটে ক্রমাগত 'হেট স্পিচ' দিচ্ছেন। শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্রের চর্চা তো দূর অস্ত, গণতন্ত্রের চিহ্নটুকু পর্যন্ত মুছে ফেলতে প্রশাসন এবং পুলিশকে ন্যাক্কারজনক ভাবে কাজে লাগাতে এরা দ্বিধা করে না।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এতটা নির্বোধ নয়। বহিরাগত গুন্ডাদের নিয়ে এসে গায়ের জোর দিয়ে, বিভেদ বৈষম্যের বিষ ছড়িয়ে কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করে শাসন ক্ষমতা দখল করা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের মন জয় করা যায় না। তার প্রমাণ আজ গোটা ভারতবর্ষে। গোটা দেশের ছাত্র-ছাত্রী যুবসমাজ আজ বিজেপি-আরএসএস এর ভন্ডামি মিথ্যাচার এবং চূড়ান্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। দিল্লিতে জেন-জি আন্দোলন বাধ্য করেছে তাদের উদ্ধত মাথা মাটিতে নামাতে, তারই ধারাবাহিকতায় বিহার ঝাড়খন্ড কলকাতায় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী পথে নেমেছে; তারা বিভেদ বৈষম্য ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের লাঠি জলকামান কোন কিছুর পরোয়া করেনা। গত ১ লা সেপ্টেম্বর সেই ছাত্রদেরই একাংশ কলকাতায় রাজপথ লাল পতাকায় স্লোগানে মুখরিত করে তুলেছে। এসব দেখে শাসক বিজেপি-আরএসএস এবং তাদের শাখা সংগঠনগুলি আজ দিশাহারা। তারা মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে যে কাজ হবে না তার প্রমাণ এত আক্রমণের পরেও, কর্তৃপক্ষ পুলিশের এরকম ন্যাক্কারজনক নিষ্ক্রিয়তা সত্ত্বেও নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী জুনিয়র ডাক্তাররা হার মানেনি। মাথা উঁচু করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে যাদবপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কলেজগুলিতে মুক্তমনা ছাত্রছাত্রীরা। ABVP-BJP র ফ্যাসিস্ট আক্রমণের বিরুদ্ধে সমস্ত ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

আমরা এই রাজ্যের আপোষহীন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন AIDSO, আমরা মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষের শিক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ভারতবর্ষের নবজাগরণ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মনীষীদের জীবন চর্চার করে এসেছি, এটা আপনারা দেখেছেন। তাঁদের অপুরিত স্বপ্ন পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই আপনারা অনেকে এই আক্রান্ত ছাত্রছাত্রীদের দেখেছেন বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই-আন্দোলনে, দেখেছেন বন্যার্ত মানুষের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করতে, দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে মেডিকেল ক্যাম্প করতে, আবার দেখেছেন বিভিন্ন মনীষীদের জীবনচর্চা করতে। আপনারা অনেকেই ভালোবেসে আমাদের এই কাজকর্ম সঙ্গে থেকেছেন। বিগত কয়েক দশক ধরে শুধু এই রাজ্য নয় সারা দেশে ছাত্র-স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি; জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০, স্কুল শিক্ষা ধ্বংস করার প্রচেষ্টা, চার বছরের অবৈজ্ঞানিক ডিগ্রী কোর্স, মেডিকেল শিক্ষার অবনমন, অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই লাগাতার জারি আছে। শিক্ষকের অভাবে ধুঁকতে থাকা স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া রুখতে আমাদের লড়াই চলছে। কলেজগুলিতে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমাদের লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ের পথে প্রতিটি সরকারই তীব্র আক্রমণ নামিয়ে এনেছে, অত্যাচার করেছে। কিন্তু আন্দোলন তারা দমন করতে পারেনি। আমরা প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরেজি পুনঃপ্রবর্তন, মেডিকেল শিক্ষায় ক্যাপিটেশন ফি বাতিল করা, এমবিবিএস ছাত্রদের অবৈজ্ঞানিক NEXT পরীক্ষা বাতিল করা সহ বহু বিজয়ী আন্দোলনের সাক্ষী। বিপরীতে আক্রমণ নামিয়ে আনা শাসকদলগুলি নিজেরাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অতি সম্প্রতিকালে গত ১৪ আগস্ট ২০২৪ আরজিকর মেডিকেল কলেজে বহিরাগত দিয়ে ব্যাপক আক্রমণ-সন্ত্রাস করে যারা আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল, তাদের পরিণতি থেকে যদি কেউ শিক্ষা না নেয়, একই পরিণতির দিকে তাদের দ্রুত অগ্রগতি ঠেকাবে সাধ্য কার?

তাই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত অভিভাবক ও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গন গুলিতে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে, শিক্ষার প্রাণসত্তা রক্ষার স্বার্থে আপনারাও সোচ্চার হোন। বহিরাগত দুষ্কৃতিদের দ্বারা শিক্ষাঙ্গনে যে সন্ত্রাস নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে, যেভাবে আক্রমণকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে তা রুখতে না পারলে রাজ্যের অবশিষ্ট শিক্ষা ব্যবস্থাটুকুরও অন্তর্জলী যাত্রা সম্পূর্ণ হবে। ভবিষ্যৎ আমাদের ক্ষমা করবে না। সর্বোপরী সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আজ আর ভয় পেয়ে চুপ করে থাকার দিন নেই, সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার। আসুন, ক্যাম্পাসের গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে আজ এই বিভেদ সৃষ্টিকারী, মিথ্যাচারী ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যাপক ছাত্র-ঐক্য গড়ে তুলে লড়াইয়ে সামিল হই। সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।

সংগ্রামী অভিনন্দন সহ
মণিশংকর পট্টনায়ক
সভাপতি
বিশ্বজিৎ রায়
সম্পাদক
AIDSO পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি

06/09/2026

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে নবাগতদের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কি ঘটলো জেনে নিন।

গতকাল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ুয়া AIDSO কর্মীদের ওপর বহিরাগত BJP-ABVP-র দুষ্কৃতীদের বর্বরোচিত হামলা, নেতাজীর ...
03/09/2026

গতকাল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ুয়া AIDSO কর্মীদের ওপর বহিরাগত BJP-ABVP-র দুষ্কৃতীদের বর্বরোচিত হামলা, নেতাজীর ছবি কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলা, ছাত্রীদের উপর শারীরিক আক্রমণের প্রতিবাদে AIDSO-র বিক্ষোভ সংগঠিত হয় মেডিকেল কলেজ,কলকাতা'র এমার্জেন্সি গেটের সামনে। প্রত্যেক বক্তা বহিরাগত ABVP নেতাদের আক্রমণকে ধিক্কার জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। নিষ্ক্রিয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে।

সভা চলাকালীন খবর আসে, আজকে নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজে আবার ABVP জমায়েত করে এবং AIDSO কর্মীদের উপর চড়াও হয়। রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডাঃ অপূর্ব মন্ডল মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন।

এই সংবাদে ক্ষিপ্ত সদস্যরা বিক্ষোভ সভা থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। কলেজ স্ট্রীট থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়— অবিলম্বে যদি পুলিশি হস্তক্ষেপ করে এই উপর্যুপরি আক্রমণ বন্ধ করা না হয়, গত পহেলা সেপ্টেম্বরের যে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী কলেজ স্ট্রিট দখল করেছিল, তারা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনে সামিল হবে এবং তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে পুলিশ মন্ত্রী এবং প্রশাসন।

All The Best! Best Wishes to 191st Batch of MCK💕
02/09/2026

All The Best!
Best Wishes to 191st Batch of MCK💕

02/09/2026

Address

88, College Street, Kolkata-
Kolkata
700073

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AIDSO, MCK Unit posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share